মিরপুরে মৃত্যুর ৮ দিন পর মিলল মায়ের গলিত মরদেহ, খবর নেই সচিব-শিক্ষক ছেলেদের
- আপডেট: ১২:২২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
- / ১৮০১০
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
রাজধানীর মিরপুরে একটি ফ্ল্যাট থেকে নুরজাহান বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর অন্তত সাত থেকে আট দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে মিরপুর-১১ এলাকার ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে পল্লবী থানা পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজধানীর মর্গে পাঠানো হয়।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির জানান, নুরজাহান বেগম তার মেয়ের বাসায় বসবাস করতেন। তবে তিনি আলাদা একটি কক্ষে থাকতেন। কয়েকদিন ধরে কোনো সাড়া না পেয়ে তার মেয়ে একজন নার্সকে ডাকেন। নার্স কক্ষে প্রবেশ করে বৃদ্ধাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘ সময় মরদেহ পড়ে থাকায় সেটিতে পচন ধরেছিল এবং পুরো কক্ষে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল। যে ঘরে তিনি থাকতেন সেটি ছিল অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন ও অগোছালো। ঘরের বিভিন্ন স্থানে আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি দেখে ধারণা করা হচ্ছে, বৃদ্ধা দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত পরিচর্যা ও তদারকির বাইরে ছিলেন।
ওসি আরও জানান, নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর সময় ও কারণ সম্পর্কে পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ কারণে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পুলিশের অনুসন্ধানে জানা গেছে, নুরজাহান বেগমের তিন ছেলে সমাজে প্রতিষ্ঠিত অবস্থানে রয়েছেন। তাদের একজন সরকারের একজন যুগ্ম সচিব, একজন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং অন্যজন কানাডাপ্রবাসী। এছাড়া তার মেয়ের স্বামীও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।
তবে কী কারণে বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে এবং মৃত্যুর পর এতদিন বিষয়টি নজরে আসেনি—তা নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
















