প্রাইভেটকার ছিনতাই করতে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে রাইড শেয়ার চালককে হত্যা
- আপডেট: ০৪:৫৮:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
- / ১৮০১০
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
রাজধানীর দক্ষিণখানের তুরাগ নদীতে মো.লোকমান সরদার (৩৮) নামের এক উবার চালকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভিস্টেগেশন (পিবিআই)।
সংস্থাটি বলছে, প্রাইভেট কার ছিনতাই করতে হানিট্র্যাফে ফেলে ওই উবার চালককে ডেকে আনে একটি চক্র। যার নেতৃত্বে রয়েছে চাকরিচ্যুত এক সেনা সদস্য।
শনিবার (৬ জুন) আগারগাঁওয়ের ৬০ ফিট এলাকায় পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সন্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক মো. এনায়েত হোসেন মান্নান।
এ ঘটনায় এরই মধ্যে মূল আসামিসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই’য়ের ঢাকা মেট্রো উত্তর। তারা হলেন- চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য মো. এস এম সালমান (২৯), মো. আদিব ইসলাম (১৯), জান্নাতুল ফেরদৌস মীম ওরফে আর্নবা মীম (২১) ও মো. সবুজ মিয়া (৩৫)।
এর মধ্যে সালমান ও আদিবকে কক্সবাজার সদর থেকে, মীমকে খিলক্ষেত থানাধীন পূর্ব নামাপাড়া এলাকা থেকে এবং মো. সবুজ মিয়াকে গাজীপুরের টংগী পশ্চিম থানাধীন পাখির বাজার মাজার বস্তি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় ছিনতাই হওয়া প্রাইভেট কারটি গাজীপুরের গাছা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সালমান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
মো. এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, গত ১ জুন উত্তরার দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ রাজাবাড়ী ঘাট এলাকার তুরাগ নদী থেকে এক অজ্ঞাত এক যুবকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে জানা যায় তার নাম লোকমান সরদার। তিনি পেশায় উবার চালক। তাকে টঙ্গীর পাখির বাজার এলাকায় হত্যা করে লাশ তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত একটি হানিট্র্যাফ চক্র।
ঘটনার সূত্রপাত চারদিন আগে জানিয়ে পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, গত ২৬ মে রাতে এই চক্রটি পাখির বাজার বস্তি এলাকায় রাতভর মাদক সেবন করে। ভোরে তারা একটি উবার ডাকে এবং সালমান ও মীমসহ তিন জন লেকসিটির কনকর্ড টাওয়ার এলাকায় যান। সেখানে দুইজন নেমে যান এবং মীম গাড়িটি নিয়ে সাভার যায়। মূলত গাড়িটা ২ হাজার ৫০০ টাকায় তারা ভাড়া নেয় সাভারে গিয়ে কাস্টমারকে নিয়ে আবার ফিরে আসবে এমন চুক্তিতে। ফিরে আসার পরে তারা পরিকল্পনা করে, এই গাড়িটি ছিনতাই করবে। লোকমান গাড়িটি উবারে ভাড়া চালাতো।
তিনি আরো জানান, চক্রটি ঈদের আগের দিন গাড়িটি ছিনতাই করার জন্য লোকমানকে ডেকে আনতে চেয়েছিল। কিন্তু লোকমান সেদিন ব্যস্ত থাকায় গাড়ি নিয়ে আসতে পারেনি। পরে ৩০ মে মধ্যরাতে মীম লোকমানকে ফোন দেয় এবং হানিট্র্যাফে ফেলে টঙ্গীর পাখির বাজার এলাকায় ডেকে আনে। লোকমান সেখানে আসা মাত্রই চক্রের অন্যন্য সদস্যরা তাকে ধরে মারধর শুরু করে। অভিযোগ তোলে, মীম সাভার যাওয়ার দিন তার কাছ থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং দুই ভরি স্বর্ণ ছিনিয়ে নেয়ার। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে লোকমান বিভিন্ন জায়গায় ফোন দিয়ে ১০ হাজার টাকা জোগার করে। তার সঙ্গে থাকা টাকাও নিয়ে যায় চক্রটি। এরপর আরো মারধর করে। একপর্যায়ে মারা গেলে মরদেহ বস্তাবন্দি করে নদীতে ফেলে দেয়।
তিনি আরো বলেন, গ্রেফতারকৃত এস এম সালমান একসময় সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন অপকর্মের কারণে তাকে চাকরিচ্যুত ছোট করা হয়। চাকরিচ্যুত হয়ে সে অপরাধ জগতে মিশে যায়। আসামি জান্নাতুল ফেরদৌস মিম এবং আসামি এসএম সালমান নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গা বাসা ভাড়া করে থাকে। কিন্তু তারা স্বামী-স্ত্রী নয়।
এক প্রশ্নের জবাবে পিবিআই এর এই কর্মকর্তা বলেন, এসএম সালমানের নেতৃত্বে এই চক্রটি হানি ট্রাম্পের মাধ্যমে প্রতারণা মূলক কর্মকাণ্ড করতো। তাদের নামে আগেও হানিট্র্যাফসহ একাধিক মামলা আছে।



















