১০:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

বাজেটে জিবি ও মিনিটের মেয়াদ বাতিল না হওয়ায় লাভবান মোবাইল অপারেটররা- বুলু

  • আপডেট: ১০:৩২:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
  • / ১৮০০১

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে মোবাইল ইন্টারনেট (জিবি) ও মিনিটের মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে কোনো ঘোষণা না থাকায় দেশের কোটি কোটি মোবাইল গ্রাহকের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহক,বাংলাদেশ মোবাইল ফোন রিচার্জ ব্যবসায়ী এসোসিয়েশন ও ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো জিবি ও মিনিটের মেয়াদ বাতিলের দাবি জানিয়ে এলে ও এবারের বাজেটে সেই দাবি উপেক্ষিত হয়েছে।

বাংলাদেশ মোবাইল ফোন রিচার্জ ব্যবসায়ী এসোসিয়েশন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলুর মতে, মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে ইন্টারনেট ডাটা ও মিনিট ক্রয় করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবহার করতে না পারলে অব্যবহৃত জিবি ও মিনিট স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যায়। ফলে গ্রাহক অর্থ পরিশোধ করলেও সম্পূর্ণ সেবা ভোগ করতে পারেন না। এতে একদিকে গ্রাহকদের আর্থিক ক্ষতি হয়, অন্যদিকে মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকে।

বুলু অভিযোগ করে আরো বলেন, বাজার থেকে কোনো পণ্য কিনলে সেটি ক্রেতার সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হয়। একইভাবে মোবাইল ডাটা ও মিনিট ও অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করা একটি সেবা। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার অজুহাতে সেই সেবা বাতিল করে দেওয়া হলে তা গ্রাহকের অধিকার ক্ষুণœ করার শামিল। “জিবি বা মিনিট তো কোনো পচনশীল পণ্য নয়, তাহলে কেন এর মেয়াদ থাকবে?” বর্তমান ব্যবস্থায় একজন গ্রাহক ৩০ দিনের জন্য একটি ডাটা প্যাকেজ কিনলেও নানা কারণে পুরো ডাটা ব্যবহার করতে না পারলে অবশিষ্ট অংশ হারিয়ে ফেলেন। একইভাবে মিনিট ও নির্দিষ্ট সময় পর বাতিল হয়ে যায়। এতে কোটি কোটি গ্রাহকের অব্যবহৃত জিবি ও মিনিট থেকে অপারেটরদের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব অর্জিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রাহকবান্ধব নীতিমালার আওতায় অব্যবহৃত ডাটা ও মিনিট পরবর্তী মেয়াদে বহাল রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশে ও এ ধরনের ব্যবস্থা চালু করা হলে গ্রাহকরা তাদের ক্রয়কৃত সেবার পূর্ণ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। বুলু মনে করেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের বাস্তবতায় গ্রাহকের অর্থের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশ মোবাইল ফোন রিচার্জ ব্যবসায়ী এসোসিয়েশনের সভাপতি দীর্ঘদিন ধরে জিবি ও মিনিটের মেয়াদ বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন। তার বক্তব্য হচ্ছে, সাধারণ গ্রাহক প্রতিনিয়ত মেয়াদজনিত কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই জাতীয় বাজেটে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা প্রত্যাশা করা হয়েছিল।

যেহেতু ডাটা ও মিনিট অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করা হয়, তাই অব্যবহৃত অংশ মেয়াদোত্তীর্ণ না করে গ্রাহকের হিসাবে সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা করা উচিত। একই সঙ্গে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের জন্য তারা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বুলু আরো বলেন, “আমরা টাকা দিয়ে জিবি ও মিনিট কিনি, কিন্তু ব্যবহার করার আগেই তা বাতিল হয়ে যায়। এটি বন্ধ করা হলে কোটি কোটি গ্রাহক উপকৃত হবেন।” বাজেটে এ দাবি বাস্তবায়িত না হওয়ায় মোবাইল ব্যবহারকারীদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বেড়েছে বলে মনে করছি আমরা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

বাজেটে জিবি ও মিনিটের মেয়াদ বাতিল না হওয়ায় লাভবান মোবাইল অপারেটররা- বুলু

আপডেট: ১০:৩২:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে মোবাইল ইন্টারনেট (জিবি) ও মিনিটের মেয়াদ বাতিলের বিষয়ে কোনো ঘোষণা না থাকায় দেশের কোটি কোটি মোবাইল গ্রাহকের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহক,বাংলাদেশ মোবাইল ফোন রিচার্জ ব্যবসায়ী এসোসিয়েশন ও ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো জিবি ও মিনিটের মেয়াদ বাতিলের দাবি জানিয়ে এলে ও এবারের বাজেটে সেই দাবি উপেক্ষিত হয়েছে।

বাংলাদেশ মোবাইল ফোন রিচার্জ ব্যবসায়ী এসোসিয়েশন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলুর মতে, মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে ইন্টারনেট ডাটা ও মিনিট ক্রয় করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবহার করতে না পারলে অব্যবহৃত জিবি ও মিনিট স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যায়। ফলে গ্রাহক অর্থ পরিশোধ করলেও সম্পূর্ণ সেবা ভোগ করতে পারেন না। এতে একদিকে গ্রাহকদের আর্থিক ক্ষতি হয়, অন্যদিকে মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকে।

বুলু অভিযোগ করে আরো বলেন, বাজার থেকে কোনো পণ্য কিনলে সেটি ক্রেতার সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হয়। একইভাবে মোবাইল ডাটা ও মিনিট ও অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করা একটি সেবা। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার অজুহাতে সেই সেবা বাতিল করে দেওয়া হলে তা গ্রাহকের অধিকার ক্ষুণœ করার শামিল। “জিবি বা মিনিট তো কোনো পচনশীল পণ্য নয়, তাহলে কেন এর মেয়াদ থাকবে?” বর্তমান ব্যবস্থায় একজন গ্রাহক ৩০ দিনের জন্য একটি ডাটা প্যাকেজ কিনলেও নানা কারণে পুরো ডাটা ব্যবহার করতে না পারলে অবশিষ্ট অংশ হারিয়ে ফেলেন। একইভাবে মিনিট ও নির্দিষ্ট সময় পর বাতিল হয়ে যায়। এতে কোটি কোটি গ্রাহকের অব্যবহৃত জিবি ও মিনিট থেকে অপারেটরদের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব অর্জিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রাহকবান্ধব নীতিমালার আওতায় অব্যবহৃত ডাটা ও মিনিট পরবর্তী মেয়াদে বহাল রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশে ও এ ধরনের ব্যবস্থা চালু করা হলে গ্রাহকরা তাদের ক্রয়কৃত সেবার পূর্ণ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। বুলু মনে করেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের বাস্তবতায় গ্রাহকের অর্থের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশ মোবাইল ফোন রিচার্জ ব্যবসায়ী এসোসিয়েশনের সভাপতি দীর্ঘদিন ধরে জিবি ও মিনিটের মেয়াদ বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন। তার বক্তব্য হচ্ছে, সাধারণ গ্রাহক প্রতিনিয়ত মেয়াদজনিত কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই জাতীয় বাজেটে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা প্রত্যাশা করা হয়েছিল।

যেহেতু ডাটা ও মিনিট অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করা হয়, তাই অব্যবহৃত অংশ মেয়াদোত্তীর্ণ না করে গ্রাহকের হিসাবে সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা করা উচিত। একই সঙ্গে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের জন্য তারা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বুলু আরো বলেন, “আমরা টাকা দিয়ে জিবি ও মিনিট কিনি, কিন্তু ব্যবহার করার আগেই তা বাতিল হয়ে যায়। এটি বন্ধ করা হলে কোটি কোটি গ্রাহক উপকৃত হবেন।” বাজেটে এ দাবি বাস্তবায়িত না হওয়ায় মোবাইল ব্যবহারকারীদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বেড়েছে বলে মনে করছি আমরা।