জর্ডানে শ্রমিক পাঠানোর প্রলোভন, ভুয়া কাগজে কোটি টাকার প্রতারণা
- আপডেট: ০৫:১৫:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
- / ১৮০০৯
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
জর্ডানে শ্রমিক পাঠানোর নামে প্রতারণা, জাল নথি ব্যবহার এবং অভিবাসী চোরাচালানের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
অভিযানে ‘সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডার্স’ অফিস থেকে ৫৫টি পাসপোর্ট, বিদেশগমন সংক্রান্ত চুক্তিপত্র এবং ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। জনপ্রতি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মাঞ্জুর প্রধানিয়া (৩৫), মো. ওসমান গনি (২৫) ও কাজী আতা-ই-রাব্বি (২৮)।
সোমবার (১৫ জুন) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, মানব পাচার মনিটরিং সেলের একটি দল রোববার (১৪ জুন) বিকেলে রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় রূপায়ণ মিলেনিয়াম স্কয়ারে অবস্থিত ‘সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডার্স’-এ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের বরাতে তিনি বলেন, জর্ডানের রাজধানী আম্মানে আল-তাজামুয়াত ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটে অবস্থিত জেরাশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ফ্যাশন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেডের নাম, লোগো ও সিলমোহর জাল করে প্রতিষ্ঠানটি জর্ডানে শ্রমিক ভিসায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি দুই লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করছিল।
জর্ডানের ওই প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করলে, সেটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। পরে বিষয়টি তদন্তে নামে সিআইডির মানব পাচার মনিটরিং সেল।
জসীম উদ্দিন বলেন, ‘সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডার্স’ মূলত একটি ট্রাভেল এজেন্সি হলেও তাদের কোনো বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স নেই। তা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি তাদের ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে জর্ডান, সৌদি আরব, সার্বিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমিক পাঠানোর বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসছিল।
অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটির অফিস থেকে ৫৫টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, ১৬টি বিদেশগমন সংক্রান্ত চুক্তিনামা, দুটি সিপিইউ এবং একটি ডিভিআর জব্দ করা হয়। জব্দ করা পাসপোর্টগুলোর মধ্যে ১৮টি জর্ডানে এবং বাকি পাসপোর্টগুলো সৌদি আরবে যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
তিনি বলেন, বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করা হচ্ছিল, যা অভিবাসী চোরাচালানের উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় তিন অভিযুক্তসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর ১৫ ও ২০ ধারায় করা হয়েছে। জড়িত সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।



















