ঢাকায় থাকার দাবি পরিবারের,আত্রাইয়ে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা
- আপডেট: ০৭:৫৫:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৮০০৪
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
ঢাকার সাভারে ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিলেন সাংবাদিক সিফাত মাহমুদ ফাহিম। অথচ তার বিরুদ্ধে নওগাঁর আত্রাইয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনার সময় ফাহিমের অবস্থান ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে দেখানো হলেও এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে মামলাটির নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত দাবি করেছে পরিবার।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ফাহিমের পরিবারের সদস্যরা। এতে উপস্থিত ছিলেন তার বাবা ওসমান আলী প্রামানিক, মা শেফালী বেগম, ভাই ফিরোজ প্রামানিক ও খালাতো ভাই নাজমুল ইসলাম।
দৈনিক ইনকিলাবের নওগাঁর আত্রাই প্রতিনিধি ফাহিমের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন উপজেলার ২ নম্বর ভোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন মণ্ডল। গত ৩ জুন আত্রাইয়ের ৮ নম্বর আমলি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলাটির তদন্ত শেষে ফাহিমের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৮৫ ও ৫০০ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। গত ১৪ অক্টোবর নওগাঁর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন ফাহিম। তবে বিচারক মো. নজরুল ইসলাম তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আত্রাই থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সেলিমুজ্জামান তদন্ত প্রতিবেদনে ফাহিমের অবস্থান ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উল্লেখ করেছেন। অথচ ঘটনার দিন ফাহিম ঢাকার সাভারে নিজের ভাড়া বাসায় ছিলেন বলে দাবি পরিবারের। এ অবস্থায় ঘটনার সময় ও স্থানে তার উপস্থিতি কীভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, তদন্ত প্রতিবেদনে গ্রাম পুলিশ মো. আনোয়ার হোসেনের নাম উল্লেখ থাকলেও এ বিষয়ে তার সঙ্গে কেউ তদন্ত করতে যাননি বলে তিনি দাবি করেছেন। এ বক্তব্যের একটি রেকর্ডিং তাদের কাছে রয়েছে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা। এ ছাড়া মামলার দুই সাক্ষী মো. সবুজ হোসেন ও মো. শহিদুল ইসলাম হলফনামার মাধ্যমে এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি পরিবারের। অন্য সাক্ষী মো. আল আমিন খাঁ দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
পরিবারের বক্তব্য, তদন্ত কর্মকর্তা কী কী প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন, কীভাবে সাক্ষীদের বক্তব্য লিপিবদ্ধ করেছেন, ঘটনার সময় ও স্থান কীভাবে যাচাই করেছেন এবং অভিযুক্তের পক্ষে প্রাসঙ্গিক তথ্য বিবেচনায় নিয়েছেন কিনা- এসব বিষয় মামলার মূল নথি ও কেস ডায়েরি পর্যালোচনা করে যাচাই করা প্রয়োজন।
সংবাদের জেরে মামলা দাবি করে ফাহিমের পরিবার জানায়, ভোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন মণ্ডলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে সাংবাদিকের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ফাহিমকে চাঁদাবাজির মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি মালামাল সরিয়ে চেয়ারম্যানের বাড়িতে নেওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে দৈনিক ইনকিলাবে ‘আত্রাইয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদ সরানোর অভিযোগ, ডিসিকে ইউএনওর চিঠি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর ধর্ষণ মামলায় চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন মণ্ডল গ্রেফতার হওয়ার খবরও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। দৈনিক ইনকিলাবেও এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। এর আগে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে ফাহিমসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা সংবাদ প্রকাশ করেন।
এসব প্রতিবেদনের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে চেয়ারম্যান ফাহিমের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলে অভিযোগ পরিবারের। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মামলার বাদী ও সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে মামলাটির নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে বাদী জেনেশুনে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন- তদন্তে এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিক ফাহিমের ন্যায়বিচার ও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে পরিবার।
পরিবারের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের কারণে একজন সাংবাদিককে হয়রানিমূলক মামলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তাই মামলার অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং ঘটনার সময় ও স্থানের তথ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি। তাদের প্রত্যাশা, যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ হবে এবং প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে।



















