গ্রেফতার অন্যজন আলমগীর হোসন হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ফয়সাল ভারতে গ্রেফতার
- আপডেট: ০৮:২৭:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
- / ১৮০১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে খুনের ঘটনায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশ। তারা হলো- রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসন।
রবিবার (০৮ মার্চ) ভারতীয় গণমাধ্যমে এই সময় অনলাইনের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। তবে কবে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তা খবরে উল্লেখ করা হয়নি।
খবরে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে ওসমান হাদিকে খুনের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেফতার দুই অভিযুক্ত। ধৃতদের নাম রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন। গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হন হাদি। এর পরেই বাংলাদেশ জুড়ে নতুন অশান্তি শুরু হয়। হাদির স্মৃতির উদ্দেশে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছিল ঢাকা। এমনকী, তাঁকে সরকারি উদ্যোগে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সিঙ্গাপুরেও। এই গ্রেফতারি বড় সাফল্য বলে মনে করছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স।’
ওসমান হাদি গতবছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় রিকশায় যাচ্ছিলেন, তখন বাইকে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলেও ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
পুলিশ তদন্তে ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন সহ অনেকের নাম সামনে আসে।
হাদির মৃত্যুর পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ও অরাজকতা দেখা দেয়। তাঁর মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক ঘোষণা করা হয়।
হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। ২৩ ডিসেম্বর আদালত ব্যাংক ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেন। সেদিনই ফয়সালের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।
প্রাথমিকভাবে পাওয়া এ তথ্যের ভিত্তিতে ফয়সাল করিমের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার–সংক্রান্ত পৃথক অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে সিআইডি।
হাদি হত্যার মিশন যেভাবে পরিচালিত হয়
গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে জানা গেছে, ৪ ডিসেম্বর রাত ৮টা ১৮ মিনিটে বাংলামোটরের ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে আসে ফয়সাল ও তার সহযোগী কবির। প্রায় ছয় মিনিটের সেই বৈঠকটি ছিল মূলত হাদির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরির প্রথম ধাপ। বৈঠকে ফয়সাল হাদির সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দেয়।
এরপর ৯ ডিসেম্বর রাতে আবারও কালচারাল সেন্টারে আসে ফয়সাল। এবার তার সঙ্গে ছিল না কবির, নতুন সঙ্গী ছিল আলমগীর। ওই বৈঠকে আলোচনার বিষয় ছিল নির্বাচনী প্রচারণার পরিকল্পনা। সেখান থেকেই হাদির টিমে ঢুকে পড়ে ফয়সাল। পরদিন ১২ ডিসেম্বর সেগুনবাগিচায় হাদির প্রচারণায় সরাসরি অংশ নেয়।
প্রচারণায় অংশ নেয়ার পরই হাদিকে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে ফয়সাল। মিশন বাস্তবায়নের জন্য নরসিংদী, সাভার, মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় রেকি করে সে। ১১ ডিসেম্বর মিশন বাস্তবায়নের প্রস্তুতিতে ওঠে পশ্চিম আগারগাঁওয়ে বোনের বাসায়। হামলার দিন ভোরে উবারে করে যায় হেমায়েতপুরের একটি রিসোর্টে।
রিসোর্টের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার দিন শুক্রবার ভোর ৫টা ২২ মিনিটে ফয়সাল ও আলমগীরের গাড়ি গ্রিন জোন রিসোর্টে প্রবেশ করে। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল ফয়সালের বান্ধবী মারিয়া ও তার বোন। সেখানে হাদির একটি ভিডিও বান্ধবীকে দেখিয়ে ফয়সাল জানায়, সে হাদির মাথায় গুলি করার পরিকল্পনা করেছে এবং এতে দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হবে। এ কারণে ঘটনার পর তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় ফয়সাল।
পরে উবারের গাড়িতে করে বান্ধবীকে বাড্ডায় নামিয়ে দেয় ফয়সাল। বেলা ১১টা ৫ মিনিটে আগারগাঁওয়ের বাসা থেকে মোটরসাইকেলে বের হয় ফয়সাল ও আলমগীর। তারা সরাসরি যায় হাদির সেগুনবাগিচার প্রচারণায়। সকাল পৌনে ১২টার দিকে সেখানে পৌঁছায় তারা। প্রচারণা শেষে দুপুর ১২টা ২২ মিনিটে হাদি মতিঝিলের উদ্দেশ্যে রওনা হলে ফয়সালরা পেছন থেকে তার অটোরিকশা অনুসরণ করতে থাকে।
দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে হাদিকে বহন করা অটোরিকশা মতিঝিলের জামিয়া দারুল উলুম মসজিদের সামনে পৌঁছায়। আলমগীর মোটরসাইকেল পার্ক করলে দুজন নেমে আবারও প্রচারণায় যুক্ত হয়। মতিঝিলের দারুল উলুম মসজিদে জুমার নামাজ পড়েন হাদি। নামাজ শেষে সেখানে প্রচারণা করার কথা ছিল। আর সেই প্রচারণায় যুক্ত হয়েছিল অভিযুক্তরা।
নামাজ শেষে দুপুর ২টা ১৬ মিনিটে হাদি সেখান থেকে রওনা হলে ফয়সালরাও পিছু নেয়। উল্টো পথে মতিঝিল শাপলা চত্বর হয়ে দৈনিক বাংলা মোড়ে ডান দিকে ঘুরে পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে ঢুকে পড়ে তারা। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ফাঁকা জায়গা খুঁজে বেড়ানোর পর দুপুর ২টা ২৪ মিনিটে খুব কাছ থেকে হাদিকে লক্ষ্য করে দুটি গুলি ছোড়ে ফয়সাল।




















