একটি মহল আমাকে তার্গেট করে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে : ব্যবসায়ী আরিয়ান
- আপডেট: ০৮:০২:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
- / ১৮০১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
গত ৫ আগস্টের পর দায়ের করা যেই সকল মামলায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী,সমাজের গণ্যমান্য ও পরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে তাদের হয়রানির করা হয়েছে সেইসকল মামলার ৭০% হয়রানিমূলক ও উদ্দ্যোশ্য প্রণোদিত বলে তদন্তে বের হয়ে আসছে।সেই সকল মামলা পর্যালোচনা করিয়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়াছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সাম্প্রতিক সময়ে মোতালিব প্লাজার এক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আকিবুল ইসলাম আরিয়ান অভিযোগ করে বলেন,আমি দীর্ঘ ১২ বছর মোতালিব প্লাজা শপিং কমপেক্সে সুনামের সহিত মোবাইল সার্ভিসিং ব্যবসার সাথে জড়িত।মোবাইল সার্ভিসিং এর পাশাপাশি আমি দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে যুবকদের বিভিন্ন মেয়াদে মোবাইল সার্ভিসিং এর উপর
ট্রেনিং দিয়ে আসছি। আমার আইফিক্স ফাস্ট এর টেনিং সেন্টার থেকে প্রতি বছর ৫ হাজারের অধিক ছাত্র টেনিং নিয়ে নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন।
আমি ব্যক্তিগত জীবনে ব্যবসার বাহিরে কোনো রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে কখন ও জড়িত ছিলাম না।
সাম্প্রতিক সময়ে লোকমান হোসেন (৫৪) নামে এক ব্যক্তি ২৪৮ জন আসামী করে আমাকে উক্ত মামলার ২৪৬ নাম্বার আসামী করে আমাকে মিথ্যা ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করেন। ব্যক্তিগত ভাবে লোকমান হোসেনের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নাই।তিনি ও আমাতে চিনেন না। বর্তমানে আমি উক্ত মিথ্যা মামলা নিয়ে প্রতিনিয়ত চিন্তায় ও হতাশায় ভুগছি।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের সহিত যুক্ত ৮৩৭টি হত্যা মামলাসহ সমগ্র দেশে ১ হাজার ৭৮৫টি মামলা দায়ের করা হইয়াছে। সংস্থাটি অভ্যুত্থান-পরবর্তী এই ‘পাইকারি হারে মামলা দায়ের’ লইয়া গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করিয়াছে।
তাহাদের হিসাবমতে, সমগ্র দেশে প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষকে আসামি করা হইয়াছে। এই সকল মামলার অধিকাংশই হত্যা মামলা এবং নির্দিষ্ট কয়েক জনের নাম উল্লেখ করিয়া অধিকাংশ আসামির নাম উল্লেখ করা হইয়াছে অজ্ঞাত হিসাবে। এমনকি যিনি বা যাহারা এই সকল মামলা দায়ের করিয়াছেন, তাহারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে আসামিদের চেনেন না। আবার আসামি বা বাদীরা চেনেন না বিবাদীদের।
তাহাদের ঠিকানাও ভিন্ন, এমনকি দূরদূরান্তের। টাকাপয়সা দিলে মামলা হইতে নাম কর্তনের ব্যবস্থা করা হইয়াছে, না দিলে অব্যাহত ছিল হুমকি-ধামকি। ইহা লইয়া রীতিমতো মামলা-বাণিজ্য করা হইয়াছে। অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চাপের মুখে সঠিক তদন্ত ছাড়াই মামলা গ্রহণ করিয়াছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও স্বীকার করিয়াছিল যে, এই সকল অধিকাংশ মামলা টিকিবে না। সরকার ডিসিদের নিকট এই ব্যাপারে আবেদন জানাইবার আহ্বান জানায় এবং সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে তাহাদের নাম প্রত্যাহারের ব্যাপারে আশ্বাস দেওয়া হয়; কিন্তু সেই আশ্বাস অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা লওয়া হয় নাই।
হয়রানি ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক এই সকল মামলা দায়েরের কারণে এই দেশের জনমনে তো বটে, আন্তর্জাতিক মহলেও নানা প্রশ্নের উদ্রেক করিয়াছে। মানবাধিকারের দিক হইতে ইহা খুবই দুঃখজনক। এইরূপ ঢালাও মামলা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিবন্ধক। যাহারা জুলাই গণহত্যা বা খুনখারাবির সহিত জড়িত, তাহাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হউক, ইহাই সকলের কাম্য; কিন্তু যেই সমস্ত নিরপরাধ ব্যক্তি পাইকারিভাবে মামলা দায়েরের কারণে হয়রানির শিকার হইতেছেন, তাহাদের এই সকল অন্যায্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা হইতে অবশ্যই রেহাই দিতে হইবে।যে কোনো মামলা স্পেসেফিক বা সুনির্দিষ্ট হওয়াই বাঞ্ছনীয়।
হত্যাকাণ্ডের মামলা হইলে কে, কোথায়, কীভাবে ও কেন মার্ডার করিয়াছেন, তাহার সকল কিছু সুস্পষ্ট করিয়া নথিতে উল্লেখ করা প্রয়োজন; কিন্তু একটি হত্যাকাণ্ডে ১০০ হইতে ১৫০ জনের নাম উল্লেখ কি হাস্যকর ও অগ্রহণযোগ্য নহে? অনেক সময় রাজনীতিবিদদের হেয় করিবার জন্য তথা তাহাদের মানসম্মান ধুলায় লুটাইয়া চরিত্র হরণের জন্য তৃতীয় বিশ্বের দেশসমূহে এমন মামলা দায়েরের বহু নজির রহিয়াছে। এই অপসংস্কৃতি চলিয়া আসিতেছে প্রাগৈতিহাসিক আমল হইতে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করিতে হইলে এই রূপ জঘন্য মনমানসিকতা হইতে আমাদের বাহির হইয়া আসা প্ৰয়োজন।
অতএব, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের পর দেশে যেই সকল ঢালাও, গায়েবি, মিথ্যা ও সাজানো মামলা দায়ের করা হইয়াছে তাহা পর্যালোচনাপূর্বক অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হউক। একজন নিরীহ মানুষও যেন মিথ্যা মামলার কারণে অবিচারের শিকার না হন, সেই দিকে নূতন সরকারের দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।



















