ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীতে বিদেশি মদের মজুদ, অভিযানে গ্রেফতার ২
- আপডেট: ১২:৪৬:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
- / ১৮০১৫
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীতে অবৈধ বিদেশি মদ মজুদের অভিযোগে দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৬৫ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন বছিলা ওয়েস্ট ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
রবিবার(১৫ মার্চ) ডিএনসিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ডিএনসি জানায়, ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মো. গাউসুল আজম প্রিন্স (৩৪) ও মো. আবদুর রহমান (৩৭) নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।
অভিযানের সময় বাসার ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে একটি কক্ষের কোণে রাখা চারটি ট্রাভেল ব্যাগ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ৬৫ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত মদের মধ্যে রয়্যাল স্ট্যাগ, আইস ভদকা, ব্লেন্ডার্স প্রাইড ও ম্যাকডাওয়েলস ব্র্যান্ডের মদ রয়েছে। প্রতিটি বোতল ৭৫০ মিলিলিটার হিসেবে মোট প্রায় ৪৮ লিটারের বেশি বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া মাদক ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই বাসা ভাড়া নিয়ে গোপনে বিদেশি মদ মজুদ করে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করছিলেন। গাউসুল আজম প্রিন্স মূলত মোহাম্মদপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ বিদেশি মদের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা পরিচালনা করতেন। অপরদিকে আবদুর রহমান দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধভাবে ভারতীয় মদ সংগ্রহ করে ঢাকায় এনে সরবরাহ করতেন।
ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, ঈদকে সামনে রেখে মদের চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিতে তারা বড় চালান মজুদ করে রেখেছিল। অবৈধভাবে আনা এসব বিদেশি মদ অনেক সময় ভেজাল বা রাসায়নিক মিশ্রিত হয়ে থাকে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এসব মদে অতিরিক্ত মিথানলসহ ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকতে পারে, যা দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়া, স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
এ ঘটনায় গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় হাজারীবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামতের নমুনা রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ডিএনসি আরও জানিয়েছে, উৎসবকে কেন্দ্র করে অবৈধ মাদক ও ভেজাল মদের বিস্তার ঠেকাতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।




















