০২:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

বিপিজিএমইএ-তে ২০ বছর ধরে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ: প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে সুষ্ঠ  নির্বাচন দাবি

  • আপডেট: ১২:৫৬:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • / ১৮০০৫

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক এসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ)-এর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বাতিল এবং নিরপেক্ষ প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ সদস্যরা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর দাখিলকৃত এক আবেদনে সদস্যরা সংগঠনের দীর্ঘ ২০ বছর ধরে নির্বাচন না হওয়া এবং ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৪ সালের পর থেকে সংগঠনটিতে কোনো গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

অভিযোগ উঠেছে, বিগত সরকারের শাসনামলের প্রভাব খাটিয়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী গত দুই দশক ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সংগঠনটি দখল করে রেখেছে এবং বর্তমানেও অনির্বাচিত সদস্যদের দ্বারাই এটি পরিচালিত হচ্ছে।

বর্তমানে ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য তড়িঘড়ি করে একটি নামমাত্র নির্বাচনের পাঁয়তারা চলছে । সাধারণ সদস্যদের মতে, বর্তমান সভাপতি শামীম আহমেদ দায়িত্বে থেকেই নিজের অনুসারীদের নিয়ে পুনরায় ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করছেন।

কে. এম জহির ফারুক এবং কে. এম আলমগীর ইকবালসহ সংগঠনের বেশ কয়েকজন সিনিয়র সদস্য এই আবেদনটি করেন । তারা অভিযোগ করেন যে, সাবেক বাণিজ্য ও শিল্প উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের আশীর্বাদপুষ্ট মো. জসীম উদ্দিন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কোনো এজিএম (AGM) বা বোর্ড মিটিং ছাড়াই একতরফাভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন । এর মধ্যে কোনো ক্রয় কমিটি বা যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে জমি ক্রয় এবং বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অন্যতম।

আর্থিক অনিয়মের বিস্তারিত উল্লেখ করে আবেদনে জানানো হয়, প্রায় ১৫ বছর আগে ৫ কোটি এবং ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই একটি দুর্বল ও দেউলিয়া প্রায় লিজিং কোম্পানিতে ব্যক্তিগত স্বার্থে এফডিআর (FDR) করা হয়েছিল, যার কোনো হদিস বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া ৫ থেকে ১০ বছর ধরে চাঁদা প্রদান করেন না এমন সদস্যদের বকেয়া অবৈধভাবে মওকুফ বা রেয়াত দিয়ে সদস্যপদ নবায়ন করার মাধ্যমে ভোটার তালিকায় জালিয়াতির অভিযোগও তোলা হয়েছে।

এমতাবস্থায়, প্লাস্টিক শিল্পের উন্নয়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বর্তমান পর্ষদ ভেঙে দিয়ে একজন দক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রশাসক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন সদস্যরা । একই সাথে আগামী ১৭ মে, ২০২৬ তারিখে ঘোষিত “একতরফা” নির্বাচনী তফসিল বাতিল করে পুনঃতফসিলের মাধ্যমে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য তারা সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সদস্যপদে জালিয়াতি: বিধি বহির্ভূতভাবে অযোগ্য ব্যক্তিদের সদস্য বানানো এবং দীর্ঘদিনের অনাদায়ী চাঁদা মওকুফ করে অবৈধভাবে সদস্যপদ নবায়নের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

নির্বাচন স্থগিতের দাবি: আগামী ১৭ মে, ২০২৬ তারিখে ঘোষিত নির্বাচনী তফসিলকে “একতরফা” আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন সদস্যরা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

বিপিজিএমইএ-তে ২০ বছর ধরে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ: প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে সুষ্ঠ  নির্বাচন দাবি

আপডেট: ১২:৫৬:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক এসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ)-এর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বাতিল এবং নিরপেক্ষ প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ সদস্যরা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর দাখিলকৃত এক আবেদনে সদস্যরা সংগঠনের দীর্ঘ ২০ বছর ধরে নির্বাচন না হওয়া এবং ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৪ সালের পর থেকে সংগঠনটিতে কোনো গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

অভিযোগ উঠেছে, বিগত সরকারের শাসনামলের প্রভাব খাটিয়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী গত দুই দশক ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সংগঠনটি দখল করে রেখেছে এবং বর্তমানেও অনির্বাচিত সদস্যদের দ্বারাই এটি পরিচালিত হচ্ছে।

বর্তমানে ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য তড়িঘড়ি করে একটি নামমাত্র নির্বাচনের পাঁয়তারা চলছে । সাধারণ সদস্যদের মতে, বর্তমান সভাপতি শামীম আহমেদ দায়িত্বে থেকেই নিজের অনুসারীদের নিয়ে পুনরায় ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করছেন।

কে. এম জহির ফারুক এবং কে. এম আলমগীর ইকবালসহ সংগঠনের বেশ কয়েকজন সিনিয়র সদস্য এই আবেদনটি করেন । তারা অভিযোগ করেন যে, সাবেক বাণিজ্য ও শিল্প উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের আশীর্বাদপুষ্ট মো. জসীম উদ্দিন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কোনো এজিএম (AGM) বা বোর্ড মিটিং ছাড়াই একতরফাভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন । এর মধ্যে কোনো ক্রয় কমিটি বা যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে জমি ক্রয় এবং বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অন্যতম।

আর্থিক অনিয়মের বিস্তারিত উল্লেখ করে আবেদনে জানানো হয়, প্রায় ১৫ বছর আগে ৫ কোটি এবং ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই একটি দুর্বল ও দেউলিয়া প্রায় লিজিং কোম্পানিতে ব্যক্তিগত স্বার্থে এফডিআর (FDR) করা হয়েছিল, যার কোনো হদিস বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া ৫ থেকে ১০ বছর ধরে চাঁদা প্রদান করেন না এমন সদস্যদের বকেয়া অবৈধভাবে মওকুফ বা রেয়াত দিয়ে সদস্যপদ নবায়ন করার মাধ্যমে ভোটার তালিকায় জালিয়াতির অভিযোগও তোলা হয়েছে।

এমতাবস্থায়, প্লাস্টিক শিল্পের উন্নয়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বর্তমান পর্ষদ ভেঙে দিয়ে একজন দক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রশাসক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন সদস্যরা । একই সাথে আগামী ১৭ মে, ২০২৬ তারিখে ঘোষিত “একতরফা” নির্বাচনী তফসিল বাতিল করে পুনঃতফসিলের মাধ্যমে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য তারা সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সদস্যপদে জালিয়াতি: বিধি বহির্ভূতভাবে অযোগ্য ব্যক্তিদের সদস্য বানানো এবং দীর্ঘদিনের অনাদায়ী চাঁদা মওকুফ করে অবৈধভাবে সদস্যপদ নবায়নের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

নির্বাচন স্থগিতের দাবি: আগামী ১৭ মে, ২০২৬ তারিখে ঘোষিত নির্বাচনী তফসিলকে “একতরফা” আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন সদস্যরা।