মুসাব্বির হত্যা মামলায় সন্ত্রাসী জাহিদুলের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছে পুলিশ
- আপডেট: ০৫:৫৮:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
- / ১৮০০৬
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে বিদেশি পিস্তল,গুলি ও বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বির হত্যাকাণ্ডে অস্ত্র সরবরাহে তাঁর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, মুসাব্বির হত্যায় জাহিদুল ইসলামের প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।
ডিএমপির ভাষ্য, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ২০ মিনিটের দিকে বনানী থানার একটি দল ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির পেছনে মহাখালী টিবি গেট এলাকার একটি ভবনে অভিযান চালায়। এ সময় জাহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, তার (জাহিদুল) কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন, একটি পিস্তলসদৃশ বস্তু, ২ হাজার ১৫০ পিস ইয়াবা, মাদক বিক্রির ৭১ হাজার ২০ টাকা এবং তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা গেছে, ৭ মে রাত দশটার দিকে বনানী থানাধীন মহাখালী কাঁচাবাজারের পেছনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে দুইজন আহত হন। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের শনাক্তে মাঠে নামে থানা পুলিশ। এরপরই গ্রেফতার করা হলো সন্ত্রাসী জাহিদুল ইসলামকে।
ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম বলেন, জাহিদুল ইসলাম তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। র্যাব, ডিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট দীর্ঘদিন ধরে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।
একই ব্রিফিংয়ে রাজধানীতে চলমান বিশেষ অভিযানের অগ্রগতির তথ্যও তুলে ধরে ডিএমপি। নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারের ঘোষণার পর ১ মে থেকে ঢাকা মহানগরে চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে।
তিনি জানান, ১ মে থেকে ১৩ মে পর্যন্ত অভিযানে তালিকাভুক্ত ১৭৮ জন চাঁদাবাজ, তাদের ৩৪৫ জন সহযোগী, ৪৭০ জন ছিনতাইকারী ও ডাকাত দলের সদস্য এবং ৪৮৩ জন মাদক কারবারিসহ মোট ১ হাজার ৪৭৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ডিএমপির এই কর্মকর্তা ব্যবসায়ী ও নগরবাসীকে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শুধু গ্রেফতার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) ফারুক হোসেন, ডিসি (মিডিয়া) এন এম নাসিরুদ্দিন, গুলশান বিভাগের উপকমিশনার এম তানভীর আহমেদ, গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান এবং বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম।



















