৬ চিনা নাগরিকসহ গ্রেফতার ৯:বাংলাদেশে চিনা নাগরিকদের অনলাইন জুয়ার ফাঁদ,নগদ-বিকাশে পাচার হচ্ছে টাকা
- আপডেট: ০৩:৪৫:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
- / ১৮০০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
রাজধানীর উত্তরা ও তুরাগ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অনলাইন জুয়া,সাইবার প্রতারণা ও অবৈধ ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন চক্রের ৬ জন চীনা নাগরিকসহ মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)- সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ।
ডিবি বলছে, প্রযুক্তিগত দিক থেকে এগিয়ে থাকা এসব চিনা নাগরিকরা প্রতারণার জন্য বাংলাদেশকে টার্গেট করে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রলুব্ধ করছে। এরপর নগদ – বিকাশের মাদ্যমে প্রতারণার এই অর্থ নগদ বা বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমে টাকাটা ঢুকছে আর তাৎক্ষণিকভাবে এই টাকাটা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
গ্রেফতারকৃতরা চিনা নাগরিকেরা হলো- এম.এ (৩৩), ঝাং জিয়াহাও (২২), লিও জিঞ্জি (৩২), ওয়াং শিবো (২৪), চাং তিয়ানতিয়ান (২৯), জেমস ঝু (৪৩)।
এছাড়াও গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলো, মো. কাউসার হোসেন (২৪), মো. আব্দুল-কারিম (২৮) ও রোকন উদ্দিন (৪০)।
শফিকুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি আমরা (১ মে) থেকে অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছি। অনলাইন জুয়া আসলে একটা মহামারি আকার ধারণ করেছে। এই অনলাইন জোয়ার মনিটরিং করতে গিয়ে আমাদের সাইবারের যে টিম আছে সেই টিম রাজধানী উত্তরা এলাকা অভিযান পরিচালনা করে অনলাইন জুয়া সাইবার প্রতারণা ও অবৈধ ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন চক্রের ছয় চীনা সদস্য সহ নয়জনকে গ্রেফতার করেছে।
তিনি বলেন, গতকাল বুধবার সকালে ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমটি নিয়মিত সাইবার মনিটরিংকালে ফেসবুক, ইউটিউব, টেলিগ্রাম গ্রুপে এবং বিভিন্ন ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন, ডিপোজিট বোনাসের প্রলোভন এবং বিকাশ/নগদ ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেনের তথ্য শনাক্ত হয়। এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে স্বল্প সময়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছিল। এমন তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ১৩ নং সেক্টর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাউসার, করিম ও রোকনকে এবং তুরাগ থানাধীন রুপায়ন হাউজিং এস্টেট এলাকা থেকে চীনা নাগরিকদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের নিকট থেকে এই অনলাইন জুয়া কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনেক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, এসময় তাদের নিকট থেকে ৩টি ৬৪-পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম/জিপিআরএস সিম মডিউল (ভিওআইপি জিএসএম গেটওয়ে) মেশিন, ১টি ৮-পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম/জিপিআরএস সিম মডিউল মেশিন, ১টি ২৫৬-পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম/জিপিআরএস সিম মডিউল মেশিন, বিভিন্ন অপারেটরের প্রায় ২৮০টি সিম কার্ড, একাধিক ল্যাপটপ, ২০টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন, নগদ প্রায় ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা, বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট এবং এনআইডি ও ১টি টয়োটা মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চক্রটি প্রথমে প্রলোভন দেখায়ে কিছু লাভ দেবে। পরবর্তীতে দেখবেন যে নিঃস্ব হয়ে গেছেন।
তিনি বলেন, আমরা অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখছি এই টাকাটা নগদ বা বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমে টাকাটা ঢুকতেছে। আর তাৎক্ষণিকভাবে এই টাকাটা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। যেটা আমাদের জন্য ক্ষতিকর। কাজেই এই নেশা থেকে যেন আমাদের যুব সমাজ বেড়িয়ে আসতে পারে সেই আহ্বান জানাচ্ছি।
অবৈধ সিমের বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা সিম বিক্রি করে তারা বিভিন্ন সময় কম শিক্ষিত মানুষ সিম কিনতে গেলে বার বার ফিঙ্গার প্রিন্ট নেয়। এগুলো ক্রেতা বুঝতেও পারে না। দেখা যায় তাদেরকে বলে ফিঙ্গার হয়নি আবার দেন। এভাবে তারা একাধিক সিম রেজিষ্ট্রেশন করে এসব চক্রের কাছে বিক্রি করে। বিভিন্ন সময় এমন চক্রের জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়েছে। অবৈধ এসব কাজের সঙ্গে যারা জড়িত থাকবে তাকে আমরা আইন আওতায় নিয়ে আসবো।
এর আগেও চিনা নাগরিকদের এমন প্রতারণার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে। আসলে চিনা নাগরিকেরা প্রতারণার জন্য বাংলাদেশকে বেছে নেওয়ার কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রযুক্তির দিক দিয়ে চাইনিজরা অনেক উন্নত। এটা আপনারা জানেন। ওরা বিভিন্ন এডের মাধ্যমে বাংলাদেশীদের প্রলুব্ধ করছে। আর দ্বিতীয় আরেকটা জিনিস হতে পারে যে, আমাদের এখান থেকে প্রতারণার এই টাকাটা বিভিন্ন ওয়েতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ট্রান্সফার হয়তো একটু ইজি হয়ে গেছে। যারা আইন প্রনেতা আছে আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলবো।



















