হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামী পাগলা সোহেল’কে বাঁচাতে স্ত্রীর তারিনের সংবাদ সম্মেলন
- আপডেট: ০৮:০৬:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৮০০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
গত ২৭ জুলাই রাজধানীর খিলগাঁও নন্দীপাড়ায় সোহেল ওরফে পাগলা সোহেল (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয় জনতা। তাকে জনতার থেকে উদ্ধার করে তার কাছ থেকে একটি পিস্তল, ম্যাগজিনসহ ৩ রাউন্ড গুলি ও সুইচ গিয়ার জব্দ করেছে পুলিশ।
খিলগাঁও থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. ইমরান শেখ জানান, নন্দীপাড়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ পাগলা সোহেল নামে এক ব্যক্তিকে স্থানীয়রা গণপিটুনি দিয়ে আটকে রেখেছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
চাঁদাবাজির অভিযোগে সেদিন ছাত্র-জনতার গণপিটুনির পর পুলিশ হেফাজতে থাকা সোহেল ওরফে পাগলা সোহেলকে ‘ভালো মানুষ’ দাবি করেছেন তাঁর স্ত্রী তারিন আক্তার। একই সঙ্গে সোহেলের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘মব ও সাজানো নাটক’ বলে দাবি করেছেন তিনি।
গত শুক্রবার ( ৭ আগস্ট) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন তারিন।
সংবাদ সম্মেলনে তারিন বলেন, পূর্ববিরোধের জেরে তাঁর স্বামীর ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় সোহেল গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এ ঘটনার জন্য স্থানীয় কয়েকজনকে দায়ী করে খিলগাঁও থানায় মামলা করেছেন তিনি।
তবে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকেরা সোহেলের বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ধর্ষণ ও অস্ত্রসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তারিন এসব অভিযোগ এড়িয়ে ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বীদের তথ্য উপাত্ত ছাড়া দায়ী করার চেষ্টা করেন পাগলা সোহেলের স্ত্রী তারিন ।
এ সময় নিজের স্বামীর অতীত প্রসঙ্গে তারিন বলেন, ‘আমার স্বামী সারাজীবন জেলে ছিল।’
সম্প্রতি খিলগাঁওয়ে পুলিশ চেকপোস্টে সোহেলকে অবৈধ অস্ত্রসহ আটকের বিষয়েও সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন। জবাবে তারিন ওই ঘটনাকেও ‘সাজানো নাটক’ বলে দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা রতনের কাছে ৫০টি পিস্তল রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। এ দাবির ভিত্তি ও প্রমাণ কী—সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে তারিন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বলেন আপনারা অন্য পক্ষ থেকে টাকা খেয়ে এমন প্রশ্ন করতে পারেন না বলে ও বলে উপস্থিত সাংবাদিকেরা জানান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় বিএনপি নেতা রতন সাজ্জাদ দক্ষিনগাও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ,সবুজবাগ থানা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মির্জা আব্বাসে নির্দেশে রামপুরা বনশ্রী খিলগাঁও এলাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাত্রদের পাঁশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করেছেন এই সাজ্জাদ রতন। ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের আমলে শতাধিক মামলা গ্লানি নিয়ে অসংখ্যবার জেল জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জেল থেকে বেরিয়ে আবারও রাজপথে ছিলেন আন্দোলনে সংগ্রামে । অথচ সেই বিএনপি ত্যাগি নেতা সাজ্জাদ রতনের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা মামলা ও অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন খিলগাঁও স্থানীয় জনগন।
এদিকে সোহেলের কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন যাবত ক্ষুব্ধ খিলগাঁওবাসী। তারা সোহেলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ নিয়ে সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচারের দাবী করেছেন।



















