০১:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাসভাড়া দিতে টাকা বের করতেই নজরে পড়েন ইসমাইল: হত্যার পর লাশ এক্সপ্রেসওয়েতে,গ্রেফতার ৩

  • আপডেট: ০১:৫৫:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৮০০১

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর বনানী এলাকায় ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ইসমাইল হোসেন (৫০) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বাসচালকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, ইসমাইলের লুঙ্গির কোচে থাকা টাকা দেখে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বাসের সুপারভাইজার। পরে চালকের সঙ্গে পরিকল্পনা করে তাকে হত্যা করে টাকা নিয়ে লাশ এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে রাখা হয়।

গ্রেফতার তিনজন হলেন– বাসচালক সোহেল রানা (৪১), সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন (২৬) এবং হেলপার মো. মনির হোসেন (১৯)। তাঁরা ‘রাজ ক্লাসিক’ পরিবহনের কর্মী।

রবিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।

পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে নয়টার দিকে বনানী থানাধীন এয়ারপোর্টগামী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের স্টেডিয়ামসংলগ্ন এলাকায় এক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। তাঁর মুখ ও দুই হাত স্কচটেপ দিয়ে বাঁধা ছিল। গলায় কালো দাগও দেখা যায়।

পরে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির নাম ইসমাইল হোসেন। পরে পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে লাশের ছবি দেখে পরিচয় নিশ্চিত করেন।

এ ঘটনায় ইসমাইলের ছেলে বাদী হয়ে বনানী থানায় হত্যা মামলা করেন।

পুলিশের ভাষ্য, ইসমাইল জামালপুরের নিজ গ্রাম থেকে জমি বিক্রির পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরে যাচ্ছিলেন। তার ছেলে হাসান জীরানী বাসস্ট্যান্ডে বাবার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তবে বাবার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

পুলিশ জানায়, লাশ উদ্ধারের পর ঘটনাটির রহস্য উদ্‌ঘাটনে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। একপর্যায়ে একটি বাসের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয়। পরে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে ‘রাজ ক্লাসিক’ পরিবহনের বাসটি জব্দ করা হয়। সেখান থেকে সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন ও হেলপার মনির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে পৃথক অভিযান চালিয়ে বাসচালক সোহেল রানাকেও গ্রেফতার করা হয়।

টাকা দেখে হত্যার পরিকল্পনা

গ্রেফতার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মো. ফারুক হোসেন বলেন, গত শুক্রবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে জামালপুরের দিকপাই বাসস্ট্যান্ড থেকে ইসমাইলকে যাত্রী হিসেবে বাসে তোলা হয়। একপর্যায়ে সুপারভাইজার সাজু তার কাছে বাসভাড়া চান। তখন ইসমাইল লুঙ্গির কোচ থেকে টাকা বের করে ভাড়া দেন।

এ সময় তার লুঙ্গির কোচে থাকা বেশ কিছু টাকা সুপারভাইজারের নজরে পড়ে। সাজু বিষয়টি বাসচালককে জানান। তার কাছে অনেক টাকা রয়েছে এবং তিনি ব্যবসায়ী হতে পারেন—এমন ধারণা থেকে তাঁকে টার্গেট করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, এরপর ইসমাইলের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা করেন বাসচালক। পরিকল্পনা অনুযায়ী চান্দুরা বাসস্ট্যান্ডে ইসমাইলকে না নামিয়ে অন্য যাত্রীদের গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে ইসমাইলকে নিয়ে বাসটি ঢাকার দিকে আসতে থাকে।

একপর্যায়ে বাসের সুপারভাইজার ও হেলপার মিলে ইসমাইলের মুখ ও হাত স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে ফেলেন। পরে গামছা পেঁচিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মো. ফারুক হোসেন বলেন, ইসমাইলের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর বাসটি এয়ারপোর্ট থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে বনানীর দিকে আসে। পরে ইউটার্ন করে আবার এয়ারপোর্টের দিকে যাওয়ার সময় ইসমাইলের লাশ এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে রেখে চলে যান আসামিরা।

পুলিশ জানায়, ইসমাইলের কাছে জমি বিক্রির পাঁচ লাখ টাকা ছিল। তবে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা পুরো টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেননি। তারা প্রায় আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বলেন, গ্রেফতার তিনজনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশের ভাষ্য, ইসমাইলকে বাসের অন্য যাত্রীদের সঙ্গে নির্ধারিত স্থানে নামিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাকে ঘুমিয়ে যেতে বলা হয় এবং গন্তব্যে পৌঁছালে ডেকে নামিয়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। ইসমাইল ঘুমিয়ে পড়ার পর অন্য যাত্রীদের বিভিন্ন স্থানে নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে তাকে আর নির্ধারিত স্থানে না নামিয়ে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

বাসভাড়া দিতে টাকা বের করতেই নজরে পড়েন ইসমাইল: হত্যার পর লাশ এক্সপ্রেসওয়েতে,গ্রেফতার ৩

আপডেট: ০১:৫৫:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর বনানী এলাকায় ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ইসমাইল হোসেন (৫০) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বাসচালকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, ইসমাইলের লুঙ্গির কোচে থাকা টাকা দেখে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বাসের সুপারভাইজার। পরে চালকের সঙ্গে পরিকল্পনা করে তাকে হত্যা করে টাকা নিয়ে লাশ এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে রাখা হয়।

গ্রেফতার তিনজন হলেন– বাসচালক সোহেল রানা (৪১), সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন (২৬) এবং হেলপার মো. মনির হোসেন (১৯)। তাঁরা ‘রাজ ক্লাসিক’ পরিবহনের কর্মী।

রবিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।

পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে নয়টার দিকে বনানী থানাধীন এয়ারপোর্টগামী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের স্টেডিয়ামসংলগ্ন এলাকায় এক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। তাঁর মুখ ও দুই হাত স্কচটেপ দিয়ে বাঁধা ছিল। গলায় কালো দাগও দেখা যায়।

পরে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির নাম ইসমাইল হোসেন। পরে পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে লাশের ছবি দেখে পরিচয় নিশ্চিত করেন।

এ ঘটনায় ইসমাইলের ছেলে বাদী হয়ে বনানী থানায় হত্যা মামলা করেন।

পুলিশের ভাষ্য, ইসমাইল জামালপুরের নিজ গ্রাম থেকে জমি বিক্রির পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরে যাচ্ছিলেন। তার ছেলে হাসান জীরানী বাসস্ট্যান্ডে বাবার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তবে বাবার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

পুলিশ জানায়, লাশ উদ্ধারের পর ঘটনাটির রহস্য উদ্‌ঘাটনে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। একপর্যায়ে একটি বাসের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয়। পরে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে ‘রাজ ক্লাসিক’ পরিবহনের বাসটি জব্দ করা হয়। সেখান থেকে সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন ও হেলপার মনির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে পৃথক অভিযান চালিয়ে বাসচালক সোহেল রানাকেও গ্রেফতার করা হয়।

টাকা দেখে হত্যার পরিকল্পনা

গ্রেফতার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মো. ফারুক হোসেন বলেন, গত শুক্রবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে জামালপুরের দিকপাই বাসস্ট্যান্ড থেকে ইসমাইলকে যাত্রী হিসেবে বাসে তোলা হয়। একপর্যায়ে সুপারভাইজার সাজু তার কাছে বাসভাড়া চান। তখন ইসমাইল লুঙ্গির কোচ থেকে টাকা বের করে ভাড়া দেন।

এ সময় তার লুঙ্গির কোচে থাকা বেশ কিছু টাকা সুপারভাইজারের নজরে পড়ে। সাজু বিষয়টি বাসচালককে জানান। তার কাছে অনেক টাকা রয়েছে এবং তিনি ব্যবসায়ী হতে পারেন—এমন ধারণা থেকে তাঁকে টার্গেট করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, এরপর ইসমাইলের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা করেন বাসচালক। পরিকল্পনা অনুযায়ী চান্দুরা বাসস্ট্যান্ডে ইসমাইলকে না নামিয়ে অন্য যাত্রীদের গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে ইসমাইলকে নিয়ে বাসটি ঢাকার দিকে আসতে থাকে।

একপর্যায়ে বাসের সুপারভাইজার ও হেলপার মিলে ইসমাইলের মুখ ও হাত স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে ফেলেন। পরে গামছা পেঁচিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মো. ফারুক হোসেন বলেন, ইসমাইলের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর বাসটি এয়ারপোর্ট থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে বনানীর দিকে আসে। পরে ইউটার্ন করে আবার এয়ারপোর্টের দিকে যাওয়ার সময় ইসমাইলের লাশ এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে রেখে চলে যান আসামিরা।

পুলিশ জানায়, ইসমাইলের কাছে জমি বিক্রির পাঁচ লাখ টাকা ছিল। তবে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা পুরো টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেননি। তারা প্রায় আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বলেন, গ্রেফতার তিনজনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশের ভাষ্য, ইসমাইলকে বাসের অন্য যাত্রীদের সঙ্গে নির্ধারিত স্থানে নামিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাকে ঘুমিয়ে যেতে বলা হয় এবং গন্তব্যে পৌঁছালে ডেকে নামিয়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। ইসমাইল ঘুমিয়ে পড়ার পর অন্য যাত্রীদের বিভিন্ন স্থানে নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে তাকে আর নির্ধারিত স্থানে না নামিয়ে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়।