১১:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬

ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত আলফাডাঙ্গার প্রতারক ‘নিদেন’ গ্রেফতার , কারাগারে প্রেরণ

  • আপডেট: ০৯:৫১:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৮০০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক,ফরিদপুর:

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ধর্ষণ মামলার আসামি ও কথিত প্রতারক শরিফুল ইসলাম ওরফে ‘নিদেন’কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘ধর্ষণের অভিযোগে শরিফুল ইসলাম নিদেনকে গ্রেফতারের পর আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালতে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে।’ আমরা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পাচ্ছি; সেগুলো যাচাই-বাছাই চলছে।

ভুক্তভোগী (২৬) আলফাডাঙ্গা থানায় দায়ের করা অভিযোগে বলেন, অভিযুক্ত নিদেন দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল নিদেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৩ এপ্রিল দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভুক্তভোগী নিজের বাড়ির টয়লেটে গেলে নিদেন তার কয়েকজন অজ্ঞাতনামা সহযোগীকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে ভুক্তভোগীর মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে টয়লেটের পাশে নিয়ে যান। পরে নিদেন তাকে ধর্ষণ করেন। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় ৬ এপ্রিল আলফাডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় নিদেনসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে নিদেনকে গ্রেফতার করা হয় এবং আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরিফুল ইসলাম নিদেন এলাকায় একজন ধুরন্ধর প্রতারক হিসেবেও পরিচিত। চাকরি দেওয়ার নাম করে এবং বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অনেকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সে গ্রেফতারের পর স্থানীয়রা তার বিষয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় নিজেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন। কখনো একটি দলের ফরিদপুর জেলা শাখার সম্পাদক, আবার কখনো অন্য দলের পরিচয় ব্যবহার করতেন। সম্প্রতি নিদেন নিজেকে এনডিএমের ফরিদপুর জেলার নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিল।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অক্ষরজ্ঞানহীন এই প্রতারকের অন্যতম পেশা বড় নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে তা প্রদর্শন করে চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া। ভয়ঙ্কর প্রতারক নিদেন নিজেকে শাহাদত হোসেন সেলিমের নেতৃত্বাধীন বিএলডিপির ফরিদপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি পরিচয় দিয়ে আসছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলে ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করত। সর্বশেষ, নিদেন নিজেকে এনডিএমের ফরিদপুর জেলার সেক্রেটারি হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকে বিদেশে যাওয়ার আশায় নিদেনের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দিলেও প্রতিশ্রুত সুযোগ পাননি।

অভিযোগ রয়েছে, বিদেশে পাঠানোর নামে টাকা নেওয়ার পর নিদেন সময়ক্ষেপণ করত এবং একপর্যায়ে যোগাযোগ এড়িয়ে যেত। এতে অনেক ভুক্তভোগী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত আলফাডাঙ্গার প্রতারক ‘নিদেন’ গ্রেফতার , কারাগারে প্রেরণ

আপডেট: ০৯:৫১:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ফরিদপুর:

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ধর্ষণ মামলার আসামি ও কথিত প্রতারক শরিফুল ইসলাম ওরফে ‘নিদেন’কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘ধর্ষণের অভিযোগে শরিফুল ইসলাম নিদেনকে গ্রেফতারের পর আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালতে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে।’ আমরা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পাচ্ছি; সেগুলো যাচাই-বাছাই চলছে।

ভুক্তভোগী (২৬) আলফাডাঙ্গা থানায় দায়ের করা অভিযোগে বলেন, অভিযুক্ত নিদেন দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল নিদেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৩ এপ্রিল দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভুক্তভোগী নিজের বাড়ির টয়লেটে গেলে নিদেন তার কয়েকজন অজ্ঞাতনামা সহযোগীকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে ভুক্তভোগীর মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে টয়লেটের পাশে নিয়ে যান। পরে নিদেন তাকে ধর্ষণ করেন। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় ৬ এপ্রিল আলফাডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় নিদেনসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে নিদেনকে গ্রেফতার করা হয় এবং আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরিফুল ইসলাম নিদেন এলাকায় একজন ধুরন্ধর প্রতারক হিসেবেও পরিচিত। চাকরি দেওয়ার নাম করে এবং বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অনেকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সে গ্রেফতারের পর স্থানীয়রা তার বিষয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় নিজেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন। কখনো একটি দলের ফরিদপুর জেলা শাখার সম্পাদক, আবার কখনো অন্য দলের পরিচয় ব্যবহার করতেন। সম্প্রতি নিদেন নিজেকে এনডিএমের ফরিদপুর জেলার নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিল।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অক্ষরজ্ঞানহীন এই প্রতারকের অন্যতম পেশা বড় নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে তা প্রদর্শন করে চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া। ভয়ঙ্কর প্রতারক নিদেন নিজেকে শাহাদত হোসেন সেলিমের নেতৃত্বাধীন বিএলডিপির ফরিদপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি পরিচয় দিয়ে আসছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলে ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করত। সর্বশেষ, নিদেন নিজেকে এনডিএমের ফরিদপুর জেলার সেক্রেটারি হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকে বিদেশে যাওয়ার আশায় নিদেনের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দিলেও প্রতিশ্রুত সুযোগ পাননি।

অভিযোগ রয়েছে, বিদেশে পাঠানোর নামে টাকা নেওয়ার পর নিদেন সময়ক্ষেপণ করত এবং একপর্যায়ে যোগাযোগ এড়িয়ে যেত। এতে অনেক ভুক্তভোগী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।