১২:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ভিডিওতে উপস্থিতি স্পষ্ট, মামলায় নেই নাম কুষ্টিয়ায় পীর হত্যা হামলায় আসামি তালিকা নিয়ে বিতর্ক

  • আপডেট: ১০:২২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৮০০৩

শেখ নাজমুল হোসেন, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কথিত পীর শামীমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি তালিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার ভিডিও ফুটেজে হামলাকারীদের স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা গেলেও মামলার এজাহারে তাদের অনেকের নাম নেই। এতে মামলার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নিহতের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয়েছে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ খাজা আহম্মেদকে। দুই নম্বরে রয়েছেন খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা আমির মাওলানা আসাদুজ্জামান। এছাড়া আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে কেন ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত ব্যক্তিদের নাম এজাহারে নেই—এ প্রশ্নের জবাবে বাদী অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘটনার সময় ধারণ করা ১৮ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজে হামলায় সামনের সারিতে ছাত্রদল ও যুবদলের একাধিক নেতাকর্মীর সক্রিয় উপস্থিতি দেখা যায়। তাদের কেউ কেউ হামলায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলেও ফুটেজে দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, হামলার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে লোকজনকে সংগঠিত করা হয়।
ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছাত্রদল নেতা যুবায়ের আহমেদ ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে কথিত পীরের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। হামলার সময় তাকে হকিস্টিক হাতে ঘটনাস্থলে দেখা যায়। এছাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফকে ছুরি হাতে এবং যুবদল কর্মী সুজনকে লোকজনের হাতে রড তুলে দিতে দেখা গেছে। যুবদল সদস্য রাসেল লাইভে এসে লোকজনকে ডেকে আনেন। ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আব্দুল্লাহও মেসেঞ্জার গ্রুপ খুলে লোকজনকে ঘটনাস্থলে আসার আহ্বান জানান বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে মামলার প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদ দাবি করেছেন, ঘটনার আগে তিনি পুলিশকে সম্ভাব্য উত্তেজনার বিষয়টি অবহিত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের অনুরোধ করেছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শান্ত থাকার আহ্বানও জানান। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেনও তার সঙ্গে ফোনে কথা হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলার আসামি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে এবং অন্য পক্ষকে কোণঠাসা করতেই এ তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, পরিকল্পিতভাবে তাদের নেতাকর্মীদের জড়ানো হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, ঘটনাস্থলে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকলেও মামলায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
ফিলিপনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন বলেন, “এটি কোনো দলের পরিকল্পিত হামলা নয়, বরং বিক্ষুব্ধ জনতার প্রতিক্রিয়া।” একইভাবে স্থানীয় বিএনপি নেতারাও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন বলেন, মামলার আসামি নির্ধারণের বিষয়টি বাদীর ওপর নির্ভর করে। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা না থাকলে তার নাম বাদ দেওয়া হবে, আর নতুন কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এদিকে স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার প্রকৃত চিত্র উদঘাটনে ভিডিও ফুটেজের গুরুত্ব অপরিসীম। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

ভিডিওতে উপস্থিতি স্পষ্ট, মামলায় নেই নাম কুষ্টিয়ায় পীর হত্যা হামলায় আসামি তালিকা নিয়ে বিতর্ক

আপডেট: ১০:২২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

শেখ নাজমুল হোসেন, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কথিত পীর শামীমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি তালিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার ভিডিও ফুটেজে হামলাকারীদের স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা গেলেও মামলার এজাহারে তাদের অনেকের নাম নেই। এতে মামলার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নিহতের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয়েছে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ খাজা আহম্মেদকে। দুই নম্বরে রয়েছেন খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা আমির মাওলানা আসাদুজ্জামান। এছাড়া আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে কেন ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত ব্যক্তিদের নাম এজাহারে নেই—এ প্রশ্নের জবাবে বাদী অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘটনার সময় ধারণ করা ১৮ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজে হামলায় সামনের সারিতে ছাত্রদল ও যুবদলের একাধিক নেতাকর্মীর সক্রিয় উপস্থিতি দেখা যায়। তাদের কেউ কেউ হামলায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলেও ফুটেজে দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, হামলার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে লোকজনকে সংগঠিত করা হয়।
ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছাত্রদল নেতা যুবায়ের আহমেদ ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে কথিত পীরের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। হামলার সময় তাকে হকিস্টিক হাতে ঘটনাস্থলে দেখা যায়। এছাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফকে ছুরি হাতে এবং যুবদল কর্মী সুজনকে লোকজনের হাতে রড তুলে দিতে দেখা গেছে। যুবদল সদস্য রাসেল লাইভে এসে লোকজনকে ডেকে আনেন। ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আব্দুল্লাহও মেসেঞ্জার গ্রুপ খুলে লোকজনকে ঘটনাস্থলে আসার আহ্বান জানান বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে মামলার প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদ দাবি করেছেন, ঘটনার আগে তিনি পুলিশকে সম্ভাব্য উত্তেজনার বিষয়টি অবহিত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের অনুরোধ করেছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শান্ত থাকার আহ্বানও জানান। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেনও তার সঙ্গে ফোনে কথা হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলার আসামি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে এবং অন্য পক্ষকে কোণঠাসা করতেই এ তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, পরিকল্পিতভাবে তাদের নেতাকর্মীদের জড়ানো হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, ঘটনাস্থলে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকলেও মামলায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
ফিলিপনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন বলেন, “এটি কোনো দলের পরিকল্পিত হামলা নয়, বরং বিক্ষুব্ধ জনতার প্রতিক্রিয়া।” একইভাবে স্থানীয় বিএনপি নেতারাও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন বলেন, মামলার আসামি নির্ধারণের বিষয়টি বাদীর ওপর নির্ভর করে। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা না থাকলে তার নাম বাদ দেওয়া হবে, আর নতুন কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এদিকে স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার প্রকৃত চিত্র উদঘাটনে ভিডিও ফুটেজের গুরুত্ব অপরিসীম। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।