১০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬

মিরপুরে শিক্ষা অধিদপ্তরের স্টোর রুমে আগুন দেয় কর্মীরাই: পুলিশ

  • আপডেট: ০৯:৩৭:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • / ১৮০০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্টোর রুমে আগুন দেয়ার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা সবাই ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মী বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচ্ছন্নতা কর্মী (মাস্টার রোল) মো. আসমাউল ইসলাম, গবেষণা কর্মকর্তা ও স্টোর ইনচার্জ মো. জিন্নাত আলী বিশ্বাস ও স্টোর কিপার (মাস্টার রোল) মো. হুমায়ুন। এই ঘটনায় হৃদয় নামের আরো একজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ।

শনিবার (২ মে) রাতে মিন্টোরোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মোস্তাক সরকার।

তিনি জানান, গতকাল শুক্রবার (১ মে) রাত ২টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দ্বিতীয় তলার স্টোর রুমে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। ওই স্টোর রুমে ৭৩৫টি ল্যাপটপ ছিল। আগুনের ঘটনায় ৩৩টি ল্যাপটপ আংশিক পুড়ে যায়, ২৯টি অধিক মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্থ এবং ১৪০টি সম্পূর্ণ পোড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। এছাড়া ৪৫০টি ল্যাপটপ ভালো অবস্থায় পাওয়া যায় এবং ৮৩টি ল্যাপটপ পাওয়া যায়নি। ল্যাপটপের পাশাপাশি ব্যাগসহ অন্যান্য কিছু এক্সেসরিজ পুরোপরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ২-৩ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হয়।

এই ঘটনায় অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি মামলা করা হয় জানিয়ে তিনি আরো বলেন, মামলাটি তদন্তকালে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সাথে জড়িত শিক্ষা অধিদপ্তর কর্মরত পরিচ্ছন্নকর্মী (মাস্টা রোল) মো. আসমাউল ইসলামকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আগুন লাগানোর কথা স্বীকার করেন এবং তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মো. জিন্নাত আলী বিশ্বাস ও মো. হুমায়ুন কবির খানকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা সরকারি ভবন এবং ভবনের স্টোর রুমের রক্ষিত সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি সাধন করার উদ্দেশ্যে এই আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটায় জানিয়ে ডিসি মোস্তাক সরকার বলেন, আগুন লাগানোর মূল কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মূলত ওই প্রতিষ্ঠানের চার-পাঁচ জন আগুন লাগানোর পরিকল্পনা করে এবং আগুন দেয় আসমাউল ইসলাম। তাকে আর্থিক প্রলোভন দেখানো হয়। আগুন লাগানোর জন্য ৫ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলা হয় এবং নগদ ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। সেই টাকায় সে বিভিন্ন জিনিস কিনে আনে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

মিরপুরে শিক্ষা অধিদপ্তরের স্টোর রুমে আগুন দেয় কর্মীরাই: পুলিশ

আপডেট: ০৯:৩৭:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্টোর রুমে আগুন দেয়ার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা সবাই ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মী বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচ্ছন্নতা কর্মী (মাস্টার রোল) মো. আসমাউল ইসলাম, গবেষণা কর্মকর্তা ও স্টোর ইনচার্জ মো. জিন্নাত আলী বিশ্বাস ও স্টোর কিপার (মাস্টার রোল) মো. হুমায়ুন। এই ঘটনায় হৃদয় নামের আরো একজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ।

শনিবার (২ মে) রাতে মিন্টোরোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মোস্তাক সরকার।

তিনি জানান, গতকাল শুক্রবার (১ মে) রাত ২টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দ্বিতীয় তলার স্টোর রুমে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। ওই স্টোর রুমে ৭৩৫টি ল্যাপটপ ছিল। আগুনের ঘটনায় ৩৩টি ল্যাপটপ আংশিক পুড়ে যায়, ২৯টি অধিক মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্থ এবং ১৪০টি সম্পূর্ণ পোড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। এছাড়া ৪৫০টি ল্যাপটপ ভালো অবস্থায় পাওয়া যায় এবং ৮৩টি ল্যাপটপ পাওয়া যায়নি। ল্যাপটপের পাশাপাশি ব্যাগসহ অন্যান্য কিছু এক্সেসরিজ পুরোপরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ২-৩ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হয়।

এই ঘটনায় অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি মামলা করা হয় জানিয়ে তিনি আরো বলেন, মামলাটি তদন্তকালে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সাথে জড়িত শিক্ষা অধিদপ্তর কর্মরত পরিচ্ছন্নকর্মী (মাস্টা রোল) মো. আসমাউল ইসলামকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আগুন লাগানোর কথা স্বীকার করেন এবং তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মো. জিন্নাত আলী বিশ্বাস ও মো. হুমায়ুন কবির খানকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা সরকারি ভবন এবং ভবনের স্টোর রুমের রক্ষিত সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি সাধন করার উদ্দেশ্যে এই আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটায় জানিয়ে ডিসি মোস্তাক সরকার বলেন, আগুন লাগানোর মূল কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মূলত ওই প্রতিষ্ঠানের চার-পাঁচ জন আগুন লাগানোর পরিকল্পনা করে এবং আগুন দেয় আসমাউল ইসলাম। তাকে আর্থিক প্রলোভন দেখানো হয়। আগুন লাগানোর জন্য ৫ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলা হয় এবং নগদ ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। সেই টাকায় সে বিভিন্ন জিনিস কিনে আনে।