০৭:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

নেশার টাকা জোগাতে আড়াই লাখে দুই সন্তানকে বিক্রি করলেন বাবা

  • আপডেট: ০৬:৫৩:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • / ১৮০০২

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

মাদক ও অনলাইন জুয়ার টাকা জোগাতে নিজের ৫ বছর এবং ২৮ দিন বয়সী দুই শিশু সন্তানকে মানব পাচারকারী চক্রের কাছে মাত্র ২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন এক বাবা। তবে তার শেষ রক্ষা হয়নি।

শিশুদের মায়ের চেষ্টায় অভিনব শিশু চুরি ও পাচারের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। উদ্ধার করা হয়েছে অপহৃত দুই শিশুকে, সেই সাথে গ্রেফতার করা হয়েছে শিশুদের পিতাসহ মানব পাচার চক্রের ৩ সদস্যকে।

বুধবার (২০ মে) বিকেলে পিবিআই সদর দফতরের (মিডিয়া) পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত ২১ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের বুকস গার্ডেন এলাকা থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আরিয়ান ও ২৮ দিন বয়সী শিশু আব্দুর রহমান জুবায়েত অপহরণের শিকার হয়। এ ঘটনায় শিশুদের মা ঝর্না আক্তা বাদী হয়ে তার স্বামী মো: মেজবাহ উদ্দিন ও এমদাদুল হক রব্বানীসহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

পিবিআই গত ১৮ এপ্রিল ঢাকার বনানী কড়াইল বস্তির টিএনটি গেইট এলাকা থেকে মূল আসামী এমদাদুল হক রাব্বানীকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের আড়াপাড়া নিঝুমনিবাস এলাকা থেকে অপহৃত শিশু আরিয়ানকে উদ্ধারসহ মেজবাহ উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। পল্লবী থানার একটি বাসা থেকে নূর-ই-নাসরিনকে গ্রেফতার এবং তার হেফাজত হতে ২৮ দিন বয়সী শিশু আব্দুর রহমান জুবায়েতকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে শিশুদের পিতা মেজবাহ উদ্দিন আদালতে নিজের সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

তদন্তে সংস্থাটি জানতে পারে, রাব্বানী একটি সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য। সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সহযোগীদের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকার দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারকে টার্গেট করে অর্থের প্রলোভন ও কৌশলে শিশু সংগ্রহ করে পাচার করত। পূর্বেও একাধিক শিশু পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে।

এছাড়া শিশুদের পিতা ও মামলার প্রধান আসামি মেজবাহ মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত। এসব কারণে তার আর্থিক সংকট সৃষ্টি হলে অর্থের প্রয়োজন মেটাতে এবং দ্রুত টাকা আয়ের উদ্দেশ্যে সে নিজের দুই শিশুসন্তানকে মানব পাচার চক্রের সদস্যদের কাছে ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

এই ঘটনায় উদ্ধার হওয়া শিশু আরিয়ানের জবানবন্দি রেকর্ড করে আদালত। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

নেশার টাকা জোগাতে আড়াই লাখে দুই সন্তানকে বিক্রি করলেন বাবা

আপডেট: ০৬:৫৩:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

মাদক ও অনলাইন জুয়ার টাকা জোগাতে নিজের ৫ বছর এবং ২৮ দিন বয়সী দুই শিশু সন্তানকে মানব পাচারকারী চক্রের কাছে মাত্র ২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন এক বাবা। তবে তার শেষ রক্ষা হয়নি।

শিশুদের মায়ের চেষ্টায় অভিনব শিশু চুরি ও পাচারের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। উদ্ধার করা হয়েছে অপহৃত দুই শিশুকে, সেই সাথে গ্রেফতার করা হয়েছে শিশুদের পিতাসহ মানব পাচার চক্রের ৩ সদস্যকে।

বুধবার (২০ মে) বিকেলে পিবিআই সদর দফতরের (মিডিয়া) পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত ২১ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের বুকস গার্ডেন এলাকা থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আরিয়ান ও ২৮ দিন বয়সী শিশু আব্দুর রহমান জুবায়েত অপহরণের শিকার হয়। এ ঘটনায় শিশুদের মা ঝর্না আক্তা বাদী হয়ে তার স্বামী মো: মেজবাহ উদ্দিন ও এমদাদুল হক রব্বানীসহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

পিবিআই গত ১৮ এপ্রিল ঢাকার বনানী কড়াইল বস্তির টিএনটি গেইট এলাকা থেকে মূল আসামী এমদাদুল হক রাব্বানীকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের আড়াপাড়া নিঝুমনিবাস এলাকা থেকে অপহৃত শিশু আরিয়ানকে উদ্ধারসহ মেজবাহ উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। পল্লবী থানার একটি বাসা থেকে নূর-ই-নাসরিনকে গ্রেফতার এবং তার হেফাজত হতে ২৮ দিন বয়সী শিশু আব্দুর রহমান জুবায়েতকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে শিশুদের পিতা মেজবাহ উদ্দিন আদালতে নিজের সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

তদন্তে সংস্থাটি জানতে পারে, রাব্বানী একটি সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য। সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সহযোগীদের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকার দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারকে টার্গেট করে অর্থের প্রলোভন ও কৌশলে শিশু সংগ্রহ করে পাচার করত। পূর্বেও একাধিক শিশু পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে।

এছাড়া শিশুদের পিতা ও মামলার প্রধান আসামি মেজবাহ মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত। এসব কারণে তার আর্থিক সংকট সৃষ্টি হলে অর্থের প্রয়োজন মেটাতে এবং দ্রুত টাকা আয়ের উদ্দেশ্যে সে নিজের দুই শিশুসন্তানকে মানব পাচার চক্রের সদস্যদের কাছে ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

এই ঘটনায় উদ্ধার হওয়া শিশু আরিয়ানের জবানবন্দি রেকর্ড করে আদালত। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।