০২:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

মিন্টু বাহিনীর আস্তানায় কোস্ট গার্ডের অভিযান,বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার

  • আপডেট: ০৬:২৭:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • / ১৮০০৫

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক এলাকায় কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র,গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ সময় কুখ্যাত ‘মিন্টু বাহিনী’র প্রধান ইমাম হোসেন মিন্টু (৩৮)কে আটক করা হয়।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড জানতে পারে, মহেশখালী থানার হোয়ানকের কেরুনতলী সংলগ্ন গহীন পাহাড়ে একটি সশস্ত্র চক্র গোপনে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে চক্রটি অবৈধ অস্ত্র বিক্রি, জলদস্যুতা, পর্যটকদের ওপর হামলা, ডাকাতি এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল।

এ তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন শাহপরী, টেকনাফ, বাহারছড়া, ইনানী, কক্সবাজার ও মহেশখালীর সদস্যদের সমন্বয়ে মিন্টু বাহিনীর আস্তানায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে পাঁচটি দেশীয় একনলা বন্দুক, নয়টি দেশীয় পিস্তল, একটি বিদেশি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড তাজা গুলি, ১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, চার রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, একটি দেশীয় অস্ত্র, তিন লিটার দেশীয় মদ এবং আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে মিন্টু বাহিনীর প্রধান ইমাম হোসেন মিন্টুকে আটক করা হয়।

কোস্ট গার্ড জানায়, আটক মিন্টু মহেশখালীর হোয়ানক এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে ১৫টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ‘মিন্টু বাহিনী’র নেতৃত্ব দিয়ে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, জলদস্যুতা, ডাকাতি ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।

মিন্টুর গ্রেফতারের মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্কে আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে। এতে মহেশখালীসহ পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে ও লবণচাষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে। বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের আটকে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রমও বাড়ানো হয়েছে।

জব্দ করা আলামত ও আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কোস্ট গার্ড আরও জানায়, সুন্দরবনে জলদস্যু ও বনদস্যু দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ধারাবাহিকতায় মহেশখালীসহ দেশের অন্যান্য উপকূলীয় অঞ্চলেও জলদস্যুতা, সন্ত্রাস, ডাকাতি, অবৈধ অস্ত্র তৈরি ও চোরাচালান নির্মূলে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

মিন্টু বাহিনীর আস্তানায় কোস্ট গার্ডের অভিযান,বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার

আপডেট: ০৬:২৭:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক এলাকায় কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র,গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ সময় কুখ্যাত ‘মিন্টু বাহিনী’র প্রধান ইমাম হোসেন মিন্টু (৩৮)কে আটক করা হয়।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড জানতে পারে, মহেশখালী থানার হোয়ানকের কেরুনতলী সংলগ্ন গহীন পাহাড়ে একটি সশস্ত্র চক্র গোপনে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে চক্রটি অবৈধ অস্ত্র বিক্রি, জলদস্যুতা, পর্যটকদের ওপর হামলা, ডাকাতি এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল।

এ তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন শাহপরী, টেকনাফ, বাহারছড়া, ইনানী, কক্সবাজার ও মহেশখালীর সদস্যদের সমন্বয়ে মিন্টু বাহিনীর আস্তানায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে পাঁচটি দেশীয় একনলা বন্দুক, নয়টি দেশীয় পিস্তল, একটি বিদেশি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড তাজা গুলি, ১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, চার রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, একটি দেশীয় অস্ত্র, তিন লিটার দেশীয় মদ এবং আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে মিন্টু বাহিনীর প্রধান ইমাম হোসেন মিন্টুকে আটক করা হয়।

কোস্ট গার্ড জানায়, আটক মিন্টু মহেশখালীর হোয়ানক এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে ১৫টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ‘মিন্টু বাহিনী’র নেতৃত্ব দিয়ে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, জলদস্যুতা, ডাকাতি ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।

মিন্টুর গ্রেফতারের মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্কে আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে। এতে মহেশখালীসহ পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে ও লবণচাষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে। বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের আটকে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রমও বাড়ানো হয়েছে।

জব্দ করা আলামত ও আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কোস্ট গার্ড আরও জানায়, সুন্দরবনে জলদস্যু ও বনদস্যু দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ধারাবাহিকতায় মহেশখালীসহ দেশের অন্যান্য উপকূলীয় অঞ্চলেও জলদস্যুতা, সন্ত্রাস, ডাকাতি, অবৈধ অস্ত্র তৈরি ও চোরাচালান নির্মূলে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।