০২:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

অভিযানে ঘুষের অভিযোগ, ১০ হাজারের পর আরও ৪০ হাজার দাবি

  • আপডেট: ০১:২৭:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৮০০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর

মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে এক নারীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া এবং পরে আরও ৪০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে নওগাঁর বদলগাছীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধে। শুধু অর্থ দাবি নয়, ওই নারীর প্রতিবন্ধী ছেলের মাথায় হাত দিয়ে আরও টাকা দেওয়ার শপথ করানোর অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী শ্রীমতি স্মৃতি।

অভিযোগের পাশাপাশি এ ঘটনায় ৪৩ সেকেন্ডের একটি ফোনালাপও এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। তবে ওই কথোপকথনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি অভিযুক্ত এএসআই মো. আব্দুল মোমিন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযুক্ত কর্মকর্তা অবশ্য অর্থ লেনদেনের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।

সোমবার দুপুরে বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়নের জগপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শ্রীমতি স্মৃতি ওই গ্রামের মৃত বিমল মণ্ডলের ছেলে সঞ্জয় কুমার মণ্ডলের স্ত্রী।

স্মৃতির অভিযোগ, ঘটনার দিন দুপুর দেড়টার দিকে নওগাঁ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চার থেকে পাঁচ সদস্যের একটি দল তাদের বাড়িতে যায়। তার স্বামী সঞ্জয় কুমার মণ্ডল মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত এমন সন্দেহে বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তবে তার স্বামী মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন বলে জানালেও একপর্যায়ে এএসআই মো. আব্দুল মোমিন তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন স্মৃতি।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য, তার স্বামী হৃদরোগসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। প্রতিবন্ধী ছোট ছেলের সামনেই তাকে দুটি চড় মারা হয়। বাবাকে মারধরের দৃশ্য দেখে তার বড় মেয়েও অজ্ঞান হয়ে যান বলে দাবি করেন তিনি।

স্মৃতি বলেন,মাদক ব্যবসার সঙ্গে তার স্বামীর নাম না জড়ানোর জন্য তিনি কর্মকর্তাদের কাছে বারবার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। বাড়িতে এত টাকা নেই জানালে স্বামীকে আরও মারধর এবং তাকেও মামলা দিয়ে গ্রেফতারের ভয় দেখানো হয়।

এরপর ভয়ে প্রতিবন্ধী ছেলের চিকিৎসার জন্য রাখা ১০ হাজার টাকা দেন বলে দাবি করেন স্মৃতি। তার অভিযোগ, ওই টাকা নেওয়ার পরও বিষয়টি শেষ হয়নি। আরও ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এমনকি তার প্রতিবন্ধী ছেলের মাথায় হাত রেখে ওই টাকা দেওয়ার শপথও করানো হয়।

স্মৃতির দাবি, শপথ করানোর পর তাকে একটি ভিজিটিং কার্ড দিয়ে নওগাঁয় টাকা নিয়ে যেতে বলা হয়। এএসআই মোমিনের সঙ্গে এ বিষয়ে একাধিকবার ফোনে কথাও হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।

বুধবারের ওই ঘটনার সময়কার ৪৩ সেকেন্ডের একটি ফোনালাপ পাওয়া গেছে। সেখানে এক নারীকে বলতে শোনা যায়, ‘কালকে জোগাড় করতে পারিনি।’ এর জবাবে অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘আপনি কোথায় আছেন, অফিসে আসবেন আজকে।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

অভিযানে ঘুষের অভিযোগ, ১০ হাজারের পর আরও ৪০ হাজার দাবি

আপডেট: ০১:২৭:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর

মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে এক নারীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া এবং পরে আরও ৪০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে নওগাঁর বদলগাছীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধে। শুধু অর্থ দাবি নয়, ওই নারীর প্রতিবন্ধী ছেলের মাথায় হাত দিয়ে আরও টাকা দেওয়ার শপথ করানোর অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী শ্রীমতি স্মৃতি।

অভিযোগের পাশাপাশি এ ঘটনায় ৪৩ সেকেন্ডের একটি ফোনালাপও এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। তবে ওই কথোপকথনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি অভিযুক্ত এএসআই মো. আব্দুল মোমিন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযুক্ত কর্মকর্তা অবশ্য অর্থ লেনদেনের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।

সোমবার দুপুরে বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়নের জগপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শ্রীমতি স্মৃতি ওই গ্রামের মৃত বিমল মণ্ডলের ছেলে সঞ্জয় কুমার মণ্ডলের স্ত্রী।

স্মৃতির অভিযোগ, ঘটনার দিন দুপুর দেড়টার দিকে নওগাঁ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চার থেকে পাঁচ সদস্যের একটি দল তাদের বাড়িতে যায়। তার স্বামী সঞ্জয় কুমার মণ্ডল মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত এমন সন্দেহে বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তবে তার স্বামী মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন বলে জানালেও একপর্যায়ে এএসআই মো. আব্দুল মোমিন তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন স্মৃতি।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য, তার স্বামী হৃদরোগসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। প্রতিবন্ধী ছোট ছেলের সামনেই তাকে দুটি চড় মারা হয়। বাবাকে মারধরের দৃশ্য দেখে তার বড় মেয়েও অজ্ঞান হয়ে যান বলে দাবি করেন তিনি।

স্মৃতি বলেন,মাদক ব্যবসার সঙ্গে তার স্বামীর নাম না জড়ানোর জন্য তিনি কর্মকর্তাদের কাছে বারবার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। বাড়িতে এত টাকা নেই জানালে স্বামীকে আরও মারধর এবং তাকেও মামলা দিয়ে গ্রেফতারের ভয় দেখানো হয়।

এরপর ভয়ে প্রতিবন্ধী ছেলের চিকিৎসার জন্য রাখা ১০ হাজার টাকা দেন বলে দাবি করেন স্মৃতি। তার অভিযোগ, ওই টাকা নেওয়ার পরও বিষয়টি শেষ হয়নি। আরও ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এমনকি তার প্রতিবন্ধী ছেলের মাথায় হাত রেখে ওই টাকা দেওয়ার শপথও করানো হয়।

স্মৃতির দাবি, শপথ করানোর পর তাকে একটি ভিজিটিং কার্ড দিয়ে নওগাঁয় টাকা নিয়ে যেতে বলা হয়। এএসআই মোমিনের সঙ্গে এ বিষয়ে একাধিকবার ফোনে কথাও হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।

বুধবারের ওই ঘটনার সময়কার ৪৩ সেকেন্ডের একটি ফোনালাপ পাওয়া গেছে। সেখানে এক নারীকে বলতে শোনা যায়, ‘কালকে জোগাড় করতে পারিনি।’ এর জবাবে অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘আপনি কোথায় আছেন, অফিসে আসবেন আজকে।’