০৮:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়েও সংবাদ সংগ্রহে সিফাত, খোঁজ নিতে বাসায় ডিএনসিসি প্রশাসক

  • আপডেট: ০৮:১২:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৮০১১

ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টিভির ভিডিও জার্নালিস্ট সিফাতের খোঁজ নিতে তার বাসায় গেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

আহত সাংবাদিকদের পাশে থাকার বার্তা- ফুটপাত দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

মোসলেহ্‌উদ্দিন তুহিন, ঢাকাঃ রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত সময় টিভির ভিডিও জার্নালিস্ট সিফাতের খোঁজ নিতে তার বাসায় যান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। এ সময় তিনি আহত সাংবাদিকের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন। আহত অন্য সাংবাদিকদের অবস্থার বিষয়েও খোঁজ রাখছেন বলে জানান তিনি।

সিফাতের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার পরও তিনি ব্যান্ডেজ করে পুনরায় ঘটনাস্থলে ফিরে সংবাদ সংগ্রহ করেছেন। ঝুঁকি ও প্রতিকূলতার মধ্যেও সংবাদকর্মীরা দায়িত্ব পালন করে জনগণের কাছে তথ্য পৌঁছে দেন উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের এই পেশাগত দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, নগরবাসীর নির্বিঘ্নে চলাচল এবং ফুটপাত ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশনের নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে শপিং কমপ্লেক্স পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এর আগের সপ্তাহেও ওই এলাকায় তিনবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। বুধবারের অভিযানটি ছিল চতুর্থ।

তিনি বলেন, অভিযান চলাকালে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তি, সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার কার্যক্রম বন্ধ হবে না। কাঙ্ক্ষিত ফল না আসা পর্যন্ত ডিএনসিসির পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ফুটপাত দখলের বিষয়টি দীর্ঘদিনের সমস্যা উল্লেখ করে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, এটি পাঁচ-ছয় মাসের সমস্যা নয়। বহু বছর ধরে ফুটপাত দখল হয়ে আসছে এবং ধীরে ধীরে দখলের পরিধি বেড়েছে। এর ফলে একজন সাধারণ নাগরিকের ফুটপাত দিয়ে নির্বিঘ্নে হেঁটে চলার অধিকারও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নগরবাসীর সেই অধিকার নিশ্চিত করতেই ডিএনসিসি অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানান তিনি।

অভিযানের সময় পুলিশি সমন্বয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক বলেন, প্রতিটি উচ্ছেদ অভিযানের আগে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট থানায় চিঠি দিয়ে পুলিশ ফোর্স চাওয়া হয় এবং পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতেই অভিযান পরিচালিত হয়। ওই দিনের অভিযানেও পুলিশ ফোর্স ছিল। তবে আরও বেশি পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকলে হয়তো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে—এটি আগে থেকে তারা বুঝতে পারেননি। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি ও প্রয়োজন বিবেচনায় পর্যাপ্ত প্রশাসনিক সহযোগিতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করা হবে।

উচ্ছেদ অভিযানের আগে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, মিরপুর-১০ এলাকা ঢাকা-১৬ আসনের মধ্যে পড়ে। তবে ডিএনসিসি অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো নির্বাচনী আসন বিবেচনা করবে না। মোহাম্মদপুর, উত্তরা, তেজগাঁও কিংবা মিরপুর যেখানেই ফুটপাত দখলের কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হবে, সেখানেই প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান পরিচালিত হবে।

মিরপুরের ঘটনায় আহত সাংবাদিকদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে যারা আহত হয়েছেন তাদের খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে মাথায় আঘাত পাওয়ার পরও ব্যান্ডেজ নিয়ে সিফাতের আবার ঘটনাস্থলে ফিরে সংবাদ সংগ্রহের বিষয়টি তাকে স্পর্শ করেছে। এ কারণেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে সিফাতের বাসায় গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।

ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মধ্যেও আহত সংবাদকর্মীদের খোঁজ নেওয়া এবং তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ প্রশাসনের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিক সম্পর্কের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়েও সংবাদ সংগ্রহে সিফাত, খোঁজ নিতে বাসায় ডিএনসিসি প্রশাসক

আপডেট: ০৮:১২:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

আহত সাংবাদিকদের পাশে থাকার বার্তা- ফুটপাত দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

মোসলেহ্‌উদ্দিন তুহিন, ঢাকাঃ রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত সময় টিভির ভিডিও জার্নালিস্ট সিফাতের খোঁজ নিতে তার বাসায় যান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। এ সময় তিনি আহত সাংবাদিকের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন। আহত অন্য সাংবাদিকদের অবস্থার বিষয়েও খোঁজ রাখছেন বলে জানান তিনি।

সিফাতের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার পরও তিনি ব্যান্ডেজ করে পুনরায় ঘটনাস্থলে ফিরে সংবাদ সংগ্রহ করেছেন। ঝুঁকি ও প্রতিকূলতার মধ্যেও সংবাদকর্মীরা দায়িত্ব পালন করে জনগণের কাছে তথ্য পৌঁছে দেন উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের এই পেশাগত দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, নগরবাসীর নির্বিঘ্নে চলাচল এবং ফুটপাত ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশনের নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে শপিং কমপ্লেক্স পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এর আগের সপ্তাহেও ওই এলাকায় তিনবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। বুধবারের অভিযানটি ছিল চতুর্থ।

তিনি বলেন, অভিযান চলাকালে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তি, সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার কার্যক্রম বন্ধ হবে না। কাঙ্ক্ষিত ফল না আসা পর্যন্ত ডিএনসিসির পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ফুটপাত দখলের বিষয়টি দীর্ঘদিনের সমস্যা উল্লেখ করে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, এটি পাঁচ-ছয় মাসের সমস্যা নয়। বহু বছর ধরে ফুটপাত দখল হয়ে আসছে এবং ধীরে ধীরে দখলের পরিধি বেড়েছে। এর ফলে একজন সাধারণ নাগরিকের ফুটপাত দিয়ে নির্বিঘ্নে হেঁটে চলার অধিকারও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নগরবাসীর সেই অধিকার নিশ্চিত করতেই ডিএনসিসি অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানান তিনি।

অভিযানের সময় পুলিশি সমন্বয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক বলেন, প্রতিটি উচ্ছেদ অভিযানের আগে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট থানায় চিঠি দিয়ে পুলিশ ফোর্স চাওয়া হয় এবং পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতেই অভিযান পরিচালিত হয়। ওই দিনের অভিযানেও পুলিশ ফোর্স ছিল। তবে আরও বেশি পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকলে হয়তো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে—এটি আগে থেকে তারা বুঝতে পারেননি। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি ও প্রয়োজন বিবেচনায় পর্যাপ্ত প্রশাসনিক সহযোগিতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করা হবে।

উচ্ছেদ অভিযানের আগে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, মিরপুর-১০ এলাকা ঢাকা-১৬ আসনের মধ্যে পড়ে। তবে ডিএনসিসি অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো নির্বাচনী আসন বিবেচনা করবে না। মোহাম্মদপুর, উত্তরা, তেজগাঁও কিংবা মিরপুর যেখানেই ফুটপাত দখলের কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হবে, সেখানেই প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান পরিচালিত হবে।

মিরপুরের ঘটনায় আহত সাংবাদিকদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে যারা আহত হয়েছেন তাদের খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে মাথায় আঘাত পাওয়ার পরও ব্যান্ডেজ নিয়ে সিফাতের আবার ঘটনাস্থলে ফিরে সংবাদ সংগ্রহের বিষয়টি তাকে স্পর্শ করেছে। এ কারণেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে সিফাতের বাসায় গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।

ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মধ্যেও আহত সংবাদকর্মীদের খোঁজ নেওয়া এবং তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ প্রশাসনের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিক সম্পর্কের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।