সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. বি. চৌধুরীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী ৫ অক্টোবর
- আপডেট: ০৯:১৭:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৮০০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি, খ্যাতিমান চিকিৎসক ও রাজনীতিবিদ এবং বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আগামী ৫ অক্টোবর। তিনি দেশের মানুষের কাছে ডা. বি. চৌধুরী নামে পরিচিত ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর রাজধানীর উত্তরা মহিলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক ও চিকিৎসা অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।
ডা. বি. চৌধুরী ১৯৩০ সালের ১১ অক্টোবর কুমিল্লায় নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা কফিলউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন প্রখ্যাত আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। ঢাকার সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল থেকে ১৯৪৭ সালে ম্যাট্রিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৪৯ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন তিনি। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের পর লন্ডন, এডিনবরা ও গ্লাসগো থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন।
প্রখর মেধার অধিকারী ডা. বি. চৌধুরী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সর্বকনিষ্ঠ অধ্যাপক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। চিকিৎসার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তাঁর ব্যাপক পরিচিতি ছিল। ষাটের দশকে বিটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘আপনার ডাক্তার’-এর উপস্থাপক হিসেবে তিনি মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। লেখক, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার ও সুবক্তা হিসেবেও তিনি সুনাম অর্জন করেন।
সমাজসেবায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৩ সালে তিনি ‘স্বাধীনতা পদক’ লাভ করেন।
১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনুরোধে ডা. বি. চৌধুরী রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৭৯ সালে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব নিযুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় উপ-প্রধানমন্ত্রীসহ স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সংসদে সরকারি দলের উপনেতার দায়িত্বও পালন করেন তিনি। মুন্সীগঞ্জ-১ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর বাংলাদেশের ১৫তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন ডা. বি. চৌধুরী। রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতবিরোধ সৃষ্টি হলে তিনি ২০০২ সালের ২১ জুন স্বেচ্ছায় রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। মাত্র সাত মাস রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের পর তাঁর এই পদত্যাগ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
পরবর্তীতে ২০০৪ সালের ৮ মে তিনি ‘বিকল্পধারা বাংলাদেশ’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দলটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ডা. বি. চৌধুরীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিকল্পধারা বাংলাদেশ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কুরআন খতম, তাঁর কবর জিয়ারত এবং কবর সংলগ্ন মসজিদে জোহরের নামাজের পর তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া। এছাড়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্র-শিক্ষক এবং অতিথিদের জন্য দুপুরের খাবারের আয়োজন করা হয়েছে।
দলটির পক্ষ থেকে মরহুম ডা. বি. চৌধুরীর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করা হয়েছে।



















