০৩:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ভুয়া বিলের মাধ্যমে ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ, পঞ্চগড় কারাগারের সাবেক জেলার বরখাস্ত

  • আপডেট: ০২:০২:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৮০০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

ভুয়া বিলের মাধ্যমে সরকারি ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পঞ্চগড় জেলা কারাগারের সাবেক জেলার মো. আব্দুল ফাত্তাহকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।

রবিবার (১১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আব্দুল ফাত্তাহ পঞ্চগড় জেলা কারাগারে কর্মরত থাকাকালে খোরাকি রেশন খাতে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিভাগীয় নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কারা অধিদপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্তে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ‘বাবা মায়ের দোয়া’, ‘নূর স্টোর’ ও ‘শুভ স-মিল’ নামে তিনটি ভুয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৫৭টি ভুয়া বিল অনুমোদন করিয়ে মোট ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এ ঘটনায় কারাগারের জেল সুপার, জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কারারক্ষী মো. জাফর মাহমুদ শাকিলের যোগসাজশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, আত্মসাৎ করা অর্থের মধ্যে ৯টি চালানের মাধ্যমে ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা সোনালী ব্যাংকের পঞ্চগড় শাখায় জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে আব্দুল ফাত্তাহ ৪০ লাখ টাকা জমা দেন।

অভিযোগে বলা হয়, কারাগারে বন্দির সংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চারটি পৃথক চাহিদাপত্রের মাধ্যমে খোরাকি রেশন খাতে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ ছাড়া জেল সুপারকে পাশ কাটিয়ে কারারক্ষী জাফর মাহমুদ শাকিলকে দিয়ে বিল প্রস্তুত, রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ এবং জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

এসব অভিযোগে কারা অধিদপ্তরের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর আব্দুল ফাত্তাহর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলে তিনি লিখিত জবাব দেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন। ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি তার ব্যক্তিগত শুনানি নেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে নিয়োগ করা তদন্তকারী কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন। এরপর চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। আব্দুল ফাত্তাহ গত ৫ জুলাই ওই নোটিশের জবাব দেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনও তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার বিষয়ে সম্মতি দেয়। সব তথ্য-প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

ভুয়া বিলের মাধ্যমে ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ, পঞ্চগড় কারাগারের সাবেক জেলার বরখাস্ত

আপডেট: ০২:০২:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

ভুয়া বিলের মাধ্যমে সরকারি ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পঞ্চগড় জেলা কারাগারের সাবেক জেলার মো. আব্দুল ফাত্তাহকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।

রবিবার (১১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আব্দুল ফাত্তাহ পঞ্চগড় জেলা কারাগারে কর্মরত থাকাকালে খোরাকি রেশন খাতে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিভাগীয় নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কারা অধিদপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্তে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ‘বাবা মায়ের দোয়া’, ‘নূর স্টোর’ ও ‘শুভ স-মিল’ নামে তিনটি ভুয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৫৭টি ভুয়া বিল অনুমোদন করিয়ে মোট ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এ ঘটনায় কারাগারের জেল সুপার, জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কারারক্ষী মো. জাফর মাহমুদ শাকিলের যোগসাজশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, আত্মসাৎ করা অর্থের মধ্যে ৯টি চালানের মাধ্যমে ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা সোনালী ব্যাংকের পঞ্চগড় শাখায় জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে আব্দুল ফাত্তাহ ৪০ লাখ টাকা জমা দেন।

অভিযোগে বলা হয়, কারাগারে বন্দির সংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চারটি পৃথক চাহিদাপত্রের মাধ্যমে খোরাকি রেশন খাতে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ ছাড়া জেল সুপারকে পাশ কাটিয়ে কারারক্ষী জাফর মাহমুদ শাকিলকে দিয়ে বিল প্রস্তুত, রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ এবং জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

এসব অভিযোগে কারা অধিদপ্তরের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর আব্দুল ফাত্তাহর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলে তিনি লিখিত জবাব দেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন। ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি তার ব্যক্তিগত শুনানি নেওয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে নিয়োগ করা তদন্তকারী কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন। এরপর চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। আব্দুল ফাত্তাহ গত ৫ জুলাই ওই নোটিশের জবাব দেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনও তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার বিষয়ে সম্মতি দেয়। সব তথ্য-প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।