০৪:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে বিআরটিএর সচেতনতামূলক রোড শো

  • আপডেট: ০৩:০৯:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৮০০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীতে সচেতনতামূলক রোড শো, হ্যান্ডবিল ও লিফলেট বিতরণ এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারাভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর)  বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১, ২, ৩ ও ৪-এর উদ্যোগে রাজধানীর চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাবতলী বাস টার্মিনাল, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, বিমানবন্দর-সংলগ্ন সড়ক এবং কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের নিচে সড়ক নিরাপত্তা ও জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। এ সময় চালক, যাত্রী, পথচারী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে করণীয় বিষয়ে হ্যান্ডবিল ও লিফলেট বিতরণ করা হয়।

পাশাপাশি হ্যান্ডমাইকে সড়ক পরিবহন আইন মেনে চলা, ট্রাফিক নিয়ম অনুসরণ এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

প্রচারাভিযানে মোটরযান চালক, মোটরসাইকেল আরোহী, যাত্রী ও পথচারীদের জন্য পৃথক সচেতনতামূলক নির্দেশনা তুলে ধরা হয়। চালকদের নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা, বেপরোয়া ও অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি না চালানো, সিটবেল্ট ব্যবহার, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন বা ইয়ারফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এবং ট্রাফিক আইন ও পুলিশের নির্দেশনা

অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া যানবাহন না চালানো, ফিটনেসবিহীন যানবাহন সড়কে না নামানো এবং ক্লান্তি বা ঘুমঘুম ভাব থাকলে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট পরিধান, একাধিক আরোহী বহন না করা এবং নিরাপত্তাসামগ্রী ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মোটরযান মালিকদের দক্ষ ও বৈধ লাইসেন্সধারী চালক নিয়োগ, চালকদের অতিরিক্ত সময় গাড়ি চালাতে বাধ্য না করা এবং যানবাহনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার বিষয়ে সচেতন করা হয়।
যাত্রীদের উদ্দেশে চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা না করা, চলন্ত অবস্থায় দরজায় ঝুঁকে না থাকা, প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়। নারী যাত্রীদের সঙ্গে যৌন হয়রানি বা অশালীন আচরণের শিকার হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর বিষয়টিও প্রচার করা হয়।

অন্যদিকে, পথচারীদের জেব্রা ক্রসিং, ফুটওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহার করে রাস্তা পারাপার, রাস্তা পার হওয়ার সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা থেকে বিরত থাকা এবং ফুটপাত ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। যেখানে ফুটপাত নেই, সেখানে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন বিআরটিএ ঢাকা বিভাগের পরিচালক (ইঞ্জি.) জনাব মো. মাসুদ আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ ছাড়া মোটরযান মালিক ও শ্রমিক, রোভার স্কাউট, ড্রাইভারস ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সদস্যরা অংশ নেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, চালক, যাত্রী, পথচারী, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকসহ সবার সম্মিলিত সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। এ ধরনের প্রচারাভিযানের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার বিষয়ে জনসচেতনতা আরও জোরদার হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে বিআরটিএর সচেতনতামূলক রোড শো

আপডেট: ০৩:০৯:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীতে সচেতনতামূলক রোড শো, হ্যান্ডবিল ও লিফলেট বিতরণ এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারাভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর)  বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১, ২, ৩ ও ৪-এর উদ্যোগে রাজধানীর চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাবতলী বাস টার্মিনাল, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, বিমানবন্দর-সংলগ্ন সড়ক এবং কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের নিচে সড়ক নিরাপত্তা ও জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। এ সময় চালক, যাত্রী, পথচারী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে করণীয় বিষয়ে হ্যান্ডবিল ও লিফলেট বিতরণ করা হয়।

পাশাপাশি হ্যান্ডমাইকে সড়ক পরিবহন আইন মেনে চলা, ট্রাফিক নিয়ম অনুসরণ এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

প্রচারাভিযানে মোটরযান চালক, মোটরসাইকেল আরোহী, যাত্রী ও পথচারীদের জন্য পৃথক সচেতনতামূলক নির্দেশনা তুলে ধরা হয়। চালকদের নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা, বেপরোয়া ও অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি না চালানো, সিটবেল্ট ব্যবহার, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন বা ইয়ারফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এবং ট্রাফিক আইন ও পুলিশের নির্দেশনা

অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া যানবাহন না চালানো, ফিটনেসবিহীন যানবাহন সড়কে না নামানো এবং ক্লান্তি বা ঘুমঘুম ভাব থাকলে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট পরিধান, একাধিক আরোহী বহন না করা এবং নিরাপত্তাসামগ্রী ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মোটরযান মালিকদের দক্ষ ও বৈধ লাইসেন্সধারী চালক নিয়োগ, চালকদের অতিরিক্ত সময় গাড়ি চালাতে বাধ্য না করা এবং যানবাহনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার বিষয়ে সচেতন করা হয়।
যাত্রীদের উদ্দেশে চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা না করা, চলন্ত অবস্থায় দরজায় ঝুঁকে না থাকা, প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়। নারী যাত্রীদের সঙ্গে যৌন হয়রানি বা অশালীন আচরণের শিকার হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর বিষয়টিও প্রচার করা হয়।

অন্যদিকে, পথচারীদের জেব্রা ক্রসিং, ফুটওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহার করে রাস্তা পারাপার, রাস্তা পার হওয়ার সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা থেকে বিরত থাকা এবং ফুটপাত ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। যেখানে ফুটপাত নেই, সেখানে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন বিআরটিএ ঢাকা বিভাগের পরিচালক (ইঞ্জি.) জনাব মো. মাসুদ আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ ছাড়া মোটরযান মালিক ও শ্রমিক, রোভার স্কাউট, ড্রাইভারস ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সদস্যরা অংশ নেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, চালক, যাত্রী, পথচারী, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকসহ সবার সম্মিলিত সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। এ ধরনের প্রচারাভিযানের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার বিষয়ে জনসচেতনতা আরও জোরদার হবে।