০৯:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

জরিপ করছে পুলিশ, অধিকাংশের রায়ে পোশাক নির্ধারণ

  • আপডেট: ০৮:২৯:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
  • / ১৮০০৮

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

মাত্র তিন মাস আগে পুলিশ বাহিনীর পোশাক পরিবর্তন করে অন্তর্বর্তী সরকার। এখন পুলিশের নতুন পোশাক নির্ধারণে বাহিনীটির অভ্যন্তরে চলছে জরিপ কার্যক্রম। পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন পদমর্যাদার দুই লাখের বেশি সদস্য পোশাকের ব্যাপারে নিজেদের মতামত দিচ্ছেন।

জরিপে তিনটি বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে। আগের পোশাকের পক্ষে কত শতাংশ, বর্তমান পোশাকের পক্ষে কত শতাংশ, কত শতাংশ নতুন পোশাক চায়।

ব্যাপারে রবিবার (১ মার্চ) থেকেই মতামত যাচাই শুরু করেছেন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার ও সব ইউনিট। চিঠিতে আজ সোমবারের (২ মার্চ) মধ্যে জরিপের মতামত পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশের পোশাকে পরিবর্তন আনে। নতুন পোশাক নিয়ে পুলিশ সদস্যদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

চিঠিতে কল্যাণ সভা করে সোমবারের মধ্যে মতামত সংবলিত উত্তর পাঠাতে বলা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, পোশাকের ব্যাপারে সব পর্যায়ের পুলিশ সদস্যের মতামতের ফল বের করতে চান নীতিনির্ধারকরা। অধিকাংশ সদস্য যেটির পক্ষে সায় দেবেন, সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

কয়েকটি জেলার এসপিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠিতে আগের পোশাকের পক্ষে কত শতাংশ, বর্তমান পোশাকের পক্ষে কত শতাংশ এবং কত শতাংশ নতুন পোশাক চায়, এমন তিনটি বিষয়ে মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পর এসপিরা কল্যাণ সভা ডেকে নিজ নিজ ইউনিটের সদস্যদের মতামত জানতে চান।

জরিপের মতামতের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বলেন, এটি গোপনীয় বিষয়। বিভিন্ন জেলা থেকে কনফিডেনশিয়াল শাখায় এসব রিপোর্ট জমা হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পোশাক পরিবর্তনে পুলিশ কর্মকর্তাদের যে মতামত চাওয়া হয়েছিল, তাতে কোনো জেলার পুলিশ সুপার ও ইউনিট প্রধান সায় দেননি। তাদের অভিযোগ, লৌহ (আয়রন) রঙের নতুন ইউনিফর্ম অন্য বাহিনীর পোশাকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। দেশের আবহাওয়ার জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয়। মানুষের শরীরের রঙের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তারা পোশাক পরিবর্তনে তড়িঘড়ি করেন বলে অভিযোগ পুলিশ কর্মকর্তাদের।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ঘিরে দমন-পীড়নের অভিযোগ ওঠার পর পুলিশ ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। ওই প্রেক্ষাপটে বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কার ও পোশাক পরিবর্তনের দাবি জোরালো হয়। জনআস্থা পুনর্গঠন ও ভাবমূর্তি পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে বিষয়টি গুরুত্ব পায় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে।

পরে দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার পোশাক পুনর্নির্ধারণে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। কমিটি পোশাকের রং, নকশা, ব্যবহারিক দিক ও আন্তর্জাতিক মান বিবেচনায় একটি প্রস্তাব চূড়ান্ত করে। সরকারের অনুমোদনের পর নতুন রঙের ইউনিফর্ম চালুর সিদ্ধান্ত হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৪ নভেম্বর থেকে দেশের সব মহানগর পুলিশের সদস্য লৌহ রঙের নতুন পোশাক পরে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে জেলা পুলিশেও তা কার্যকর করার কথা বলা হয়।

তবে নতুন সরকার গঠনের পর এই পোশাক নিয়ে অনীহার কথা প্রকাশ্যে আসে। ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এবং নন-ক্যাডার সদস্যদের সংগঠন বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন আলাদা বিবৃতিতে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানায়।

দুই সংগঠনই আগের খাকি পোশাক বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৩-২০০৪ সালে তৎকালীন সরকার একটি কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে খাকি ইউনিফর্ম নির্ধারণ করেছিল। সেসময় দেশের আবহাওয়া, সদস্যদের গায়ের রং, দিনরাতের ডিউটিতে সহজে শনাক্তকরণ ও অন্য বাহিনীর সঙ্গে সাদৃশ্য এড়ানোর বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।

সংগঠনের নেতাদের দাবি, নতুন ইউনিফর্ম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এসব বাস্তবতা ও সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, যথাযথ জনমত যাচাই ছাড়াই এমন একটি পোশাক নির্বাচন করা হয়েছে, যা অন্য ইউনিফর্মধারী সংস্থার পোশাকের সঙ্গে প্রায় অভিন্ন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

জরিপ করছে পুলিশ, অধিকাংশের রায়ে পোশাক নির্ধারণ

আপডেট: ০৮:২৯:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

মাত্র তিন মাস আগে পুলিশ বাহিনীর পোশাক পরিবর্তন করে অন্তর্বর্তী সরকার। এখন পুলিশের নতুন পোশাক নির্ধারণে বাহিনীটির অভ্যন্তরে চলছে জরিপ কার্যক্রম। পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন পদমর্যাদার দুই লাখের বেশি সদস্য পোশাকের ব্যাপারে নিজেদের মতামত দিচ্ছেন।

জরিপে তিনটি বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে। আগের পোশাকের পক্ষে কত শতাংশ, বর্তমান পোশাকের পক্ষে কত শতাংশ, কত শতাংশ নতুন পোশাক চায়।

ব্যাপারে রবিবার (১ মার্চ) থেকেই মতামত যাচাই শুরু করেছেন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার ও সব ইউনিট। চিঠিতে আজ সোমবারের (২ মার্চ) মধ্যে জরিপের মতামত পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশের পোশাকে পরিবর্তন আনে। নতুন পোশাক নিয়ে পুলিশ সদস্যদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

চিঠিতে কল্যাণ সভা করে সোমবারের মধ্যে মতামত সংবলিত উত্তর পাঠাতে বলা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, পোশাকের ব্যাপারে সব পর্যায়ের পুলিশ সদস্যের মতামতের ফল বের করতে চান নীতিনির্ধারকরা। অধিকাংশ সদস্য যেটির পক্ষে সায় দেবেন, সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।

কয়েকটি জেলার এসপিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠিতে আগের পোশাকের পক্ষে কত শতাংশ, বর্তমান পোশাকের পক্ষে কত শতাংশ এবং কত শতাংশ নতুন পোশাক চায়, এমন তিনটি বিষয়ে মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পর এসপিরা কল্যাণ সভা ডেকে নিজ নিজ ইউনিটের সদস্যদের মতামত জানতে চান।

জরিপের মতামতের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বলেন, এটি গোপনীয় বিষয়। বিভিন্ন জেলা থেকে কনফিডেনশিয়াল শাখায় এসব রিপোর্ট জমা হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পোশাক পরিবর্তনে পুলিশ কর্মকর্তাদের যে মতামত চাওয়া হয়েছিল, তাতে কোনো জেলার পুলিশ সুপার ও ইউনিট প্রধান সায় দেননি। তাদের অভিযোগ, লৌহ (আয়রন) রঙের নতুন ইউনিফর্ম অন্য বাহিনীর পোশাকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। দেশের আবহাওয়ার জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয়। মানুষের শরীরের রঙের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তারা পোশাক পরিবর্তনে তড়িঘড়ি করেন বলে অভিযোগ পুলিশ কর্মকর্তাদের।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ঘিরে দমন-পীড়নের অভিযোগ ওঠার পর পুলিশ ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। ওই প্রেক্ষাপটে বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কার ও পোশাক পরিবর্তনের দাবি জোরালো হয়। জনআস্থা পুনর্গঠন ও ভাবমূর্তি পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে বিষয়টি গুরুত্ব পায় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে।

পরে দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার পোশাক পুনর্নির্ধারণে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। কমিটি পোশাকের রং, নকশা, ব্যবহারিক দিক ও আন্তর্জাতিক মান বিবেচনায় একটি প্রস্তাব চূড়ান্ত করে। সরকারের অনুমোদনের পর নতুন রঙের ইউনিফর্ম চালুর সিদ্ধান্ত হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৪ নভেম্বর থেকে দেশের সব মহানগর পুলিশের সদস্য লৌহ রঙের নতুন পোশাক পরে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে জেলা পুলিশেও তা কার্যকর করার কথা বলা হয়।

তবে নতুন সরকার গঠনের পর এই পোশাক নিয়ে অনীহার কথা প্রকাশ্যে আসে। ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এবং নন-ক্যাডার সদস্যদের সংগঠন বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন আলাদা বিবৃতিতে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানায়।

দুই সংগঠনই আগের খাকি পোশাক বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৩-২০০৪ সালে তৎকালীন সরকার একটি কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে খাকি ইউনিফর্ম নির্ধারণ করেছিল। সেসময় দেশের আবহাওয়া, সদস্যদের গায়ের রং, দিনরাতের ডিউটিতে সহজে শনাক্তকরণ ও অন্য বাহিনীর সঙ্গে সাদৃশ্য এড়ানোর বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।

সংগঠনের নেতাদের দাবি, নতুন ইউনিফর্ম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এসব বাস্তবতা ও সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, যথাযথ জনমত যাচাই ছাড়াই এমন একটি পোশাক নির্বাচন করা হয়েছে, যা অন্য ইউনিফর্মধারী সংস্থার পোশাকের সঙ্গে প্রায় অভিন্ন।