কলাবাগান,হাতিরপুল এলাকায় ‘মামলা বাণিজ্য নিয়ে নতুন অভিযোগ
- আপডেট: ০৬:৫৬:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
- / ১৮০৩২
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
ঢাকার কলাবাগান এলাকায় একটি কথিত চাঁদাবাজ চক্র আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে। অভিযোগ অনুযায়ী,গত জুলাই–আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে মামলা দায়েরের মাধ্যমে কিছু ব্যক্তি এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও হয়রানির চেষ্টা করছে।
সম্প্রতি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৪৮ জনকে আসামি করে একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগটি অন্য থানা এলাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলাবাগান থানায় করা হয়েছে বলে জানা যায়। বিষয়টি আমলে নিয়ে আদালত কলাবাগান থানার কাছে জানতে চান, এ ঘটনার বিষয়ে আগে কোনো মামলা হয়েছে কি না। পরে কলাবাগান থানা থেকে আদালতে পাঠানো প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, এ বিষয়ে থানায় পূর্বে কোনো মামলা হয়নি।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নিহত নয়নকে ঘিরে এর আগে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বাংলা মটর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন নয়ন। পরে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং ২০ সেপ্টেম্বর সেখানে মারা যান।
এই ঘটনায় নিহত নয়নের শ্বশুর এরশাদুল হক ১৬৭ জনকে আসামি করে আদালতে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। আদালতের নির্দেশে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা রুজু হয়। মামলাটি ছিল—মোহাম্মদপুর থানা মামলা নং ২৮, তারিখ ৫ জুন ২০২৫। পরে ওই মামলায় তদন্ত শেষে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দাখিল করে।
এরপর একই ঘটনার প্রেক্ষাপটে নিহত নয়নের পিতা লোকমান হোসেন ২৪৮ জনকে আসামি করে আবার একটি নতুন অভিযোগ দাখিল করেন। নতুন অভিযোগটি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে CR মামলা নং ৫২/২৬ (কলাবাগান), তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। আসামিদের মধ্যে অনেক মহিলা রয়েছেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নেতা -কর্মী রয়েছেন।
এ নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, একই হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুনরায় অভিযোগ দায়েরের পেছনে ‘মামলা বাণিজ্যের’ উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
তারা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জুলাই–আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে মামলা না করার একটি নির্দেশনা ছিল বলেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কলাবাগান এলাকায় প্রায় ১০ থেকে ১২ জনের একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় সচ্ছল ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও চলমান রয়েছে বলে এলাকাবাসী দাবি করেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে রাজনৈতিক দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।
তবে নতুন সরকার গঠনের পর তারা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ী কয়েকজন আসামি গতকাল বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য, সড়ক পরিবহন, নৌ ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে জানিয়েছেন।
তিনি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী মন্ত্রীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তারা চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরে আসে।



















