পরিচিত তরুনীর স্বামীর পরিকল্পনা:’সন্দেহ’ থেকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে রাকিব হত্যা: পুলিশ
- আপডেট: ০৫:৩৪:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
- / ১৮০১৬
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় গুলি ও ছুরিকাঘাতে কলেজ ছাত্র (টিকটকার) রাকিব হত্যার ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, টিকটক ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জন্য ভিডিও কন্টেন্ট/ টিকটিক বানাতো রাকিব। তার সঙ্গে জান্নাত মুন নামে এক তরুনীর পরিচয় হয়। পরে সন্দেহ থেকে মুনের স্বামী ‘সাজিদের পরিকল্পনাতেই’ এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। আর এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া সবাই ‘ভাড়াটে খুনি’।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আলম।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- শিহাব, জয়, রাফিন, সাগর এবং সালাউদ্দিন। এদের মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে রাফিনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে শিহাব আর জয়কে খুলনা থেকে, সাগরকে পটুয়াখালী থেকে ও সালাউদ্দিনকে গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মাসুদ আলম বলেন, ‘খুলনা অঞ্চলের মাদক কারবারি সাজিদের’ সঙ্গে রাকিবেও একসময় ‘ভালো সম্পর্ক’ ছিল। টিকটকের কারনে সাজিদের স্ত্রীর সঙ্গে রাকিবের যোগাযোগের ফলে ‘সন্দেহ’ থেকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে তাকে হত্যা করান সাজিদ।
তিনি বলেন, মুনের সাথে যে সম্পর্ক, এটা কোন পর্যায়ে গেছে হয়তো জান্নাতের সাথে আবার কথা বললে বুঝতে পারবো বা রাকিব তো বেঁচে নেই। তো এইটাকে হয়তোবা সাজিদ সন্দেহের চোখে দেখতো। এটা নিয়ে বেশ কিছুদিন যাবত সাজিদ কিন্তু তাকে থ্রেট করে আসছিল। এটারই ফলশ্রুতিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি, সাজিদ হত্যারীদের টাকা দিয়ে ফিট (ভাড়া) করে দেয়।
যে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এর মধ্যে চারজন ছিল মোটামুটি একেবারে সরাসরি কিলিং মিশনের সাথে জানিয়ে তিনি বলেন, যে শুট করেছে তার নাম আলামিন, আলামিনকে আমরা এখনো পর্যন্ত পর্যন্ত ধরতে পারি নাই। শিহাব, জয় এবং রাফিন চাপাতি এবং চাকু দিয়ে কুপায়। আর সাগর কোপায়নি কিন্তু, একসাথেই ছিল। আর অস্ত্র যোগান দেওয়া এবং কে কোথায় থাকবে সালাউদ্দিন সেটির সমন্বয় করেছিল। বলে
তিনি আরো বলেন, এর সাথে যারা যারা জড়িত আছে, আমরা মোটামুটি আইডেন্টিফাই করেছি। আমরা পাঁচজনকে ধরেছি। এর বাইরে আরো সাত-আট জন আছে। সবাইকে আস্তে আস্তে ধরে ফেলবো।
ডিসি মাসুদ আলম বলেন, হত্যাকারীরা খুলনা থেকে এই হত্যার উদ্দেশ্যেই ঢাকাতে আসে। এসে তারা ঢাকার বিভিন্ন হোটেলে বিশেষ করে ফকিরাপুল একটা হোটেলে বেশ কয়েকজন ছিল। সোনারগাঁ হোটেলেও দুইজন ছিল, যাদের আমরা সিসি ক্যামেরা ফুটেজও পেয়েছি।
তারা এর মধ্যে রাকিবকে হত্যার জন্য ‘রেকি করা হয়’। রাকিবের প্রতিদিন রাতে শহীম মিনার এলাকায় যেতো। যেহেতু সে টিকটক করে টিকটক এ কন্টেন্ট ক্রিয়েট করে, তার একটা বড় সার্কেল ছিল। ঘটনার দিন পরিকল্পনা অনুযায়ী চারজন সরাসরি থাকে, আর বাদবাকি যারা থাকে তারা ব্যাকআপে থাকে।
তিনি আরো বলেন, রাকিব দুই-তিনবছর আগে বিয়ে করেছে। তারপরও সাফা নামে একটা মেয়েকে ৪-৫ মাস আগে বিয়ে করেছে অনেকটা বাজি ধরে বা এরকম কিছু একটা শুনেছি তার বন্ধু বান্ধবের কাছ থেকে। আর আরেকটা মেয়ে আছে তার সাথে একত্রে টিকটক করে, এটা হচ্ছে মুন ওরফে জান্নাত। জান্নাতের স্বামী সাজিদ আবার ড্রাগ ডিলার এবং খুলনা অঞ্চলে তার বসবাস। সে তাদেরকে পাঠায় দেয় রাকিবকে কিল করার জন্য, তো এটা মোটামুটি আমরা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছি।
তিনি আরো বলেন, দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে যে এলাকাগুলোতে মাঝেমাঝে বড় ধরনের ঘটনা দেখি, এইটার পিছনে এদের কিন্তু বড় ধরনের হাত রয়েছে। এরা খুবই দুর্ধর্ষ এবং এরা টাকা পাইলে যে কাউকে খুন করতে পারে।



















