১১:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

দ্রুততম সময়ে রহস্য উদঘাটন: মিরপুরে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর মাথা কেটে হত্যা,গ্রেফতার ২

  • আপডেট: ১১:৫১:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • / ১৮০০১

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর মিরপুরের ১১ নম্বর এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে (৭) হত্যার ঘটনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন–সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার। তারা দুজন স্বামী-স্ত্রী এবং ভুক্তভোগী শিশুর পাশের ফ্লাটেই থাকতেন।

পুলিশের ধারণা, শিশুটিকে ধর্ষণের করে ছুরি দিয়ে নৃশংসভাবে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যাকান্ড সংগঠিত করা হয়।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত সোয়া ১০টার দিকে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম এ তথ্য জানান। এসময় মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) আশরাফুল ইসলাম ও সহকারী পুলিশ কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুরের সেকশন-১১ এলাকার মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন একটি বাসা থেকে রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় শিশুটির মা মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে পাশের ফ্লাটে অভিযুক্তদের কক্ষের দরজা খুলতে বলেন। কিন্তু তারা দরজা না খুলে জানালার গ্রিল কেটে পালানোর চেষ্টা করে। পরে দরজা খুললে রামিসার বিচ্ছিন্ন মাথাসহ মরদেহ দেখতে পান তার মা।

এ ঘটনায় সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহত শিশুর সুরতহাল প্রস্তুত, প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় ঘটনাস্থল ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়।

পরবর্তীতে পল্লবী থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে এই হত্যাকান্ডের প্রধান আসামী সোহেল রানাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য ও আলামত সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ গুরুত্ব সহকারে কাজ করছে।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভিকটিম শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষন করিয়া ধারালো ছুরি দ্বারা মর্মান্তিক, হৃদয় বিদারক ও নৃশংস ভাবে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যাকান্ড সংগঠিত করা হয়।

তিনি আরও বলেন, শিশু রামিসা আক্তারের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

দ্রুততম সময়ে রহস্য উদঘাটন: মিরপুরে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর মাথা কেটে হত্যা,গ্রেফতার ২

আপডেট: ১১:৫১:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর মিরপুরের ১১ নম্বর এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে (৭) হত্যার ঘটনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন–সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার। তারা দুজন স্বামী-স্ত্রী এবং ভুক্তভোগী শিশুর পাশের ফ্লাটেই থাকতেন।

পুলিশের ধারণা, শিশুটিকে ধর্ষণের করে ছুরি দিয়ে নৃশংসভাবে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যাকান্ড সংগঠিত করা হয়।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত সোয়া ১০টার দিকে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম এ তথ্য জানান। এসময় মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) আশরাফুল ইসলাম ও সহকারী পুলিশ কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুরের সেকশন-১১ এলাকার মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন একটি বাসা থেকে রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় শিশুটির মা মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে পাশের ফ্লাটে অভিযুক্তদের কক্ষের দরজা খুলতে বলেন। কিন্তু তারা দরজা না খুলে জানালার গ্রিল কেটে পালানোর চেষ্টা করে। পরে দরজা খুললে রামিসার বিচ্ছিন্ন মাথাসহ মরদেহ দেখতে পান তার মা।

এ ঘটনায় সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহত শিশুর সুরতহাল প্রস্তুত, প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় ঘটনাস্থল ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়।

পরবর্তীতে পল্লবী থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে এই হত্যাকান্ডের প্রধান আসামী সোহেল রানাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য ও আলামত সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ গুরুত্ব সহকারে কাজ করছে।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভিকটিম শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষন করিয়া ধারালো ছুরি দ্বারা মর্মান্তিক, হৃদয় বিদারক ও নৃশংস ভাবে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যাকান্ড সংগঠিত করা হয়।

তিনি আরও বলেন, শিশু রামিসা আক্তারের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।