১০:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

অটোরিকশা চালকরাই তাদের টার্গেট, নানা কৌশলে ফেঁলে ছিনতাই

  • আপডেট: ০৯:০৪:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
  • / ১৮০০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছিনতাই ও চুরির সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ধানমন্ডি থানা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. কামাল ওরফে কমল চন্দ্র (৩৫), মো. শাহিন মিয়া (৩০), মো. রুবেল (৩০)।

এ সময় তাদের হেফাজত থেকে চুরি ও ছিনতাই করা ১১টি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে ধানমন্ডি থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রমনা বিভাগের ধানমন্ডি জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জিসানুল হক এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ধানমন্ডি থানায় অটোরিকশা চুরি ও ছিনতাইয়ের বেশ কয়েকটি অভিযোগ এসেছে। এসকল অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নামে ধানমন্ডি থানা পুলিশ। তদন্তে দেখা যায়, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে ধানমন্ডি, তেজগাঁও, বেগুনবাড়ী, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তারা অভিনব কৌশলে অটোরিকশা চালকদের টার্গেট করত।

বিশেষ করে যাত্রী সেজে সখ্যতা গড়ে তুলতো। আবার কখনো প্রলোভন দেখিয়ে, কখনো অজ্ঞান করে চালকদের কাছ থেকে অটোরিকশা হাতিয়ে নিত।

অটোরিকশা যেভাবে হাতিয়ে নেওয়া হতো:

এডিসি জিসান আরও জানান, এই চক্রের সদস্যরা প্রথমে যাত্রীবেশে রিকশায় উঠত। এরপর কখনো টাইলসের দোকান, সিগারেটের দোকান বা অন্য কোনো অজুহাতে চালককে রিকশা থেকে দূরে পাঠাত। চালক দোকানে গেলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা চক্রের অন্য সদস্যরা দ্রুত রিকশা নিয়ে পালিয়ে যেত।

এছাড়া অনেক সময় তারা পান, চকলেট বা খাবারের সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে চালককে অজ্ঞান করে দিত। আবার গভীর রাতে ছুরি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা নাকের কাছে রুমে মাখানো অজ্ঞান করার মতো রাসায়নিক ব্যবহার করেও রিকশা ছিনিয়ে নিতো।

ধানমন্ডি জোনের এ কর্মকর্তা আরও জানান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাম দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি। অনেক চালক ঋণ নিয়ে এসব রিকশা কেনেন। ফলে একটি রিকশা হারানো মানে পুরো পরিবারের জীবিকা হুমকির মুখে পড়া।

গ্রেফতার হওয়া তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের আরও সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। চুরি হওয়া রিকশাগুলো কোথায় বিক্রি করা হতো, এর পেছনে কোনো বড় সিন্ডিকেট বা মদদদাতা আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

একই সঙ্গে রিকশাচালকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, অপরিচিত যাত্রীর কথায় সহজে প্রলুব্ধ না হওয়া, সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকা এবং নির্জন স্থানে যাত্রী নামানোর ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

অটোরিকশা চালকরাই তাদের টার্গেট, নানা কৌশলে ফেঁলে ছিনতাই

আপডেট: ০৯:০৪:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছিনতাই ও চুরির সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ধানমন্ডি থানা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. কামাল ওরফে কমল চন্দ্র (৩৫), মো. শাহিন মিয়া (৩০), মো. রুবেল (৩০)।

এ সময় তাদের হেফাজত থেকে চুরি ও ছিনতাই করা ১১টি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে ধানমন্ডি থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রমনা বিভাগের ধানমন্ডি জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জিসানুল হক এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ধানমন্ডি থানায় অটোরিকশা চুরি ও ছিনতাইয়ের বেশ কয়েকটি অভিযোগ এসেছে। এসকল অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নামে ধানমন্ডি থানা পুলিশ। তদন্তে দেখা যায়, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে ধানমন্ডি, তেজগাঁও, বেগুনবাড়ী, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তারা অভিনব কৌশলে অটোরিকশা চালকদের টার্গেট করত।

বিশেষ করে যাত্রী সেজে সখ্যতা গড়ে তুলতো। আবার কখনো প্রলোভন দেখিয়ে, কখনো অজ্ঞান করে চালকদের কাছ থেকে অটোরিকশা হাতিয়ে নিত।

অটোরিকশা যেভাবে হাতিয়ে নেওয়া হতো:

এডিসি জিসান আরও জানান, এই চক্রের সদস্যরা প্রথমে যাত্রীবেশে রিকশায় উঠত। এরপর কখনো টাইলসের দোকান, সিগারেটের দোকান বা অন্য কোনো অজুহাতে চালককে রিকশা থেকে দূরে পাঠাত। চালক দোকানে গেলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা চক্রের অন্য সদস্যরা দ্রুত রিকশা নিয়ে পালিয়ে যেত।

এছাড়া অনেক সময় তারা পান, চকলেট বা খাবারের সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে চালককে অজ্ঞান করে দিত। আবার গভীর রাতে ছুরি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা নাকের কাছে রুমে মাখানো অজ্ঞান করার মতো রাসায়নিক ব্যবহার করেও রিকশা ছিনিয়ে নিতো।

ধানমন্ডি জোনের এ কর্মকর্তা আরও জানান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাম দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি। অনেক চালক ঋণ নিয়ে এসব রিকশা কেনেন। ফলে একটি রিকশা হারানো মানে পুরো পরিবারের জীবিকা হুমকির মুখে পড়া।

গ্রেফতার হওয়া তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের আরও সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। চুরি হওয়া রিকশাগুলো কোথায় বিক্রি করা হতো, এর পেছনে কোনো বড় সিন্ডিকেট বা মদদদাতা আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

একই সঙ্গে রিকশাচালকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, অপরিচিত যাত্রীর কথায় সহজে প্রলুব্ধ না হওয়া, সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকা এবং নির্জন স্থানে যাত্রী নামানোর ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।