১১:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

বিমানের ব্যবস্থাপক শাহনাজকে ঘিরে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

  • আপডেট: ১২:৩৯:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • / ১৮০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সার্ভিস বিভাগের ব্যবস্থাপক শাহনাজ বেগমকে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়ম, পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ উঠেছে।  বিভাগের একাধিক কর্মচারীর দাবি,ক্রু শিডিউলিং,পদোন্নতি, পদায়ন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না।

অভিযোগকারীদের মতে, ব্যবস্থাপক শাহনাজ বেগমের পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা এবং অন্যান্য যোগ্যতার বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। তাদের দাবি, বিভাগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে অতিক্রম করে তিনি দ্রুত ব্যবস্থাপক পদে আসীন হয়েছেন।

এছাড়া তার চাকরির রেকর্ডে জন্মতারিখ সংশোধনের মাধ্যমে চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের প্রশ্ন, দীর্ঘ কর্মজীবনের পর এ ধরনের সংশোধন কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কিনা।

শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কিছু কর্মচারী। তাদের দাবি, পদোন্নতির নথিতে স্নাতক ডিগ্রির তথ্য উল্লেখ থাকলেও সংশ্লিষ্ট সনদপত্র যাচাইয়ের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ফ্লাইট ক্রুদের শিডিউলিং ও রোস্টার ব্যবস্থাপনা নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে বলে অভিযোগ। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক প্রভাবের কারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ভিভিআইপি ফ্লাইটে ক্রু নির্বাচন নিয়েও বিতর্কের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের দাবি, অতীতে কিছু ভিভিআইপি ফ্লাইটে ক্রু মনোনয়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল এবং পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপে কিছু পরিবর্তন আনা হয়। তবে এ বিষয়ে বিমান কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে আসেনি।

প্রশাসনিক পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, সাবেক এক ব্যবস্থাপকের স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই সংশ্লিষ্ট পদে নতুন পদায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি বিধিমালা অনুযায়ী হয়েছিল কিনা তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

আন্তর্জাতিক রুটে ক্রু নির্বাচন ও ডেস্টিনেশন বণ্টনের ক্ষেত্রেও বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে। কর্মচারীদের একাংশের দাবি, নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি ধারাবাহিকভাবে আকর্ষণীয় রুটে দায়িত্ব পাচ্ছেন, অন্যদিকে অনেক যোগ্য কর্মী সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সাম্প্রতিক একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বিলম্বের ঘটনায় দায় নির্ধারণ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, একই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে সবার জন্য সমান নীতি অনুসরণ করা হয় না। অতীতের কিছু অভিযোগ ও শোকজ নোটিশ সম্পর্কেও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে অভিযোগকারীদের একটি অংশ দাবি করেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত মামলাগুলোর সঙ্গে কিছু কর্মকর্তার নাম জড়িয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালত বা তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে কেন্দ্র করে বিভাগের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা মনে করেন, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হলে প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হবে এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ও কর্মপরিবেশ উন্নত হবে।

এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

অভিযোগকারীরা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদ,বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট নজরদারি সংস্থার কাছে বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

বিমানের ব্যবস্থাপক শাহনাজকে ঘিরে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

আপডেট: ১২:৩৯:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সার্ভিস বিভাগের ব্যবস্থাপক শাহনাজ বেগমকে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়ম, পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ উঠেছে।  বিভাগের একাধিক কর্মচারীর দাবি,ক্রু শিডিউলিং,পদোন্নতি, পদায়ন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না।

অভিযোগকারীদের মতে, ব্যবস্থাপক শাহনাজ বেগমের পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা এবং অন্যান্য যোগ্যতার বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। তাদের দাবি, বিভাগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে অতিক্রম করে তিনি দ্রুত ব্যবস্থাপক পদে আসীন হয়েছেন।

এছাড়া তার চাকরির রেকর্ডে জন্মতারিখ সংশোধনের মাধ্যমে চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের প্রশ্ন, দীর্ঘ কর্মজীবনের পর এ ধরনের সংশোধন কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কিনা।

শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কিছু কর্মচারী। তাদের দাবি, পদোন্নতির নথিতে স্নাতক ডিগ্রির তথ্য উল্লেখ থাকলেও সংশ্লিষ্ট সনদপত্র যাচাইয়ের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ফ্লাইট ক্রুদের শিডিউলিং ও রোস্টার ব্যবস্থাপনা নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে বলে অভিযোগ। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক প্রভাবের কারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ভিভিআইপি ফ্লাইটে ক্রু নির্বাচন নিয়েও বিতর্কের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের দাবি, অতীতে কিছু ভিভিআইপি ফ্লাইটে ক্রু মনোনয়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল এবং পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপে কিছু পরিবর্তন আনা হয়। তবে এ বিষয়ে বিমান কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে আসেনি।

প্রশাসনিক পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, সাবেক এক ব্যবস্থাপকের স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই সংশ্লিষ্ট পদে নতুন পদায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি বিধিমালা অনুযায়ী হয়েছিল কিনা তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

আন্তর্জাতিক রুটে ক্রু নির্বাচন ও ডেস্টিনেশন বণ্টনের ক্ষেত্রেও বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে। কর্মচারীদের একাংশের দাবি, নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি ধারাবাহিকভাবে আকর্ষণীয় রুটে দায়িত্ব পাচ্ছেন, অন্যদিকে অনেক যোগ্য কর্মী সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সাম্প্রতিক একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বিলম্বের ঘটনায় দায় নির্ধারণ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, একই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে সবার জন্য সমান নীতি অনুসরণ করা হয় না। অতীতের কিছু অভিযোগ ও শোকজ নোটিশ সম্পর্কেও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে অভিযোগকারীদের একটি অংশ দাবি করেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত মামলাগুলোর সঙ্গে কিছু কর্মকর্তার নাম জড়িয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালত বা তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে কেন্দ্র করে বিভাগের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা মনে করেন, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হলে প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হবে এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ও কর্মপরিবেশ উন্নত হবে।

এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

অভিযোগকারীরা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদ,বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট নজরদারি সংস্থার কাছে বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।