১২:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

ইব্রাহিম-রিয়াজ বাহিনীর বিরুদ্ধে ৪০ ভুক্তভোগী পরিবারের মানববন্ধন

  • আপডেট: ১০:১৫:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • / ১৮০০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীর ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক ইব্রাহীম খলিল, বহিষ্কৃত সদস্য সচিব মো. রিয়াজ এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. ফাইয়াজের (মুন্না) বিরুদ্ধে লুটপাট, দখল, চাঁদাবাজি, অগ্নিসংযোগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ৪০টি ভুক্তভোগী পরিবার।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

‎মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তরা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সাধারণ মানুষের বাড়িঘর দখল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, মূল্যবান মালামাল লুটপাট এবং নিরীহ মানুষকে হয়রানি করছে।

‎ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, বিভিন্ন মামলাকে কেন্দ্র করে বহু পরিবারকে টার্গেট করা হয়। এসব পরিবারের বাড়িঘর ভাঙচুর, মালামাল লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্তরা বিএনপির নাম ব্যবহার করে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন।

‎এসময় আরও অভিযোগ করে বলা হয়, অভিযুক্তরা স্থানীয় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান “হযরত শাহ আলী এন্টারপ্রাইজ” থেকে নতুন মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ ও অন্যান্য মালামাল লুট করা হয়েছে। এছাড়া “বেনারশী শাড়ি সিল্ক হাউজ” নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকেও শাড়ি, ওড়না, নগদ অর্থ ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যায়। একই সঙ্গে একটি অটোরিকশা গ্যারেজ থেকে ছয়টি অটোরিকশা নিয়ে যাওয়া এবং একটি রানার মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

‎ভুক্তভোগীরা আরও দাবি করেন, তাদের মালিকানাধীন একটি দোকান থেকে প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা করে ভাড়া আদায় করা হলেও সেই অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত না হয়ে ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া দখলকৃত বাড়িঘরে মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার অভিযোগও তোলা হয়।

‎ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা বলেন, এসব ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি, হুমকি এবং প্রাণনাশের আশঙ্কার মুখে পড়তে হয়। শিশু থেকে শুরু করে নারী ও বৃদ্ধরাও এসব হয়রানি ও নির্যাতন থেকে রেহাই পায়নি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের মামলাও রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

‎এসময় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা। ‎এছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশের সংশ্লিষ্ট ডিসি, পল্লবী থানার ওসি এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন ভুক্তভোগীরা। তারা মনে করেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হলে এলাকাবাসী স্বস্তি ফিরে পাবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

ইব্রাহিম-রিয়াজ বাহিনীর বিরুদ্ধে ৪০ ভুক্তভোগী পরিবারের মানববন্ধন

আপডেট: ১০:১৫:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীর ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক ইব্রাহীম খলিল, বহিষ্কৃত সদস্য সচিব মো. রিয়াজ এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. ফাইয়াজের (মুন্না) বিরুদ্ধে লুটপাট, দখল, চাঁদাবাজি, অগ্নিসংযোগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ৪০টি ভুক্তভোগী পরিবার।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

‎মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তরা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সাধারণ মানুষের বাড়িঘর দখল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, মূল্যবান মালামাল লুটপাট এবং নিরীহ মানুষকে হয়রানি করছে।

‎ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, বিভিন্ন মামলাকে কেন্দ্র করে বহু পরিবারকে টার্গেট করা হয়। এসব পরিবারের বাড়িঘর ভাঙচুর, মালামাল লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্তরা বিএনপির নাম ব্যবহার করে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন।

‎এসময় আরও অভিযোগ করে বলা হয়, অভিযুক্তরা স্থানীয় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান “হযরত শাহ আলী এন্টারপ্রাইজ” থেকে নতুন মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ ও অন্যান্য মালামাল লুট করা হয়েছে। এছাড়া “বেনারশী শাড়ি সিল্ক হাউজ” নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকেও শাড়ি, ওড়না, নগদ অর্থ ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যায়। একই সঙ্গে একটি অটোরিকশা গ্যারেজ থেকে ছয়টি অটোরিকশা নিয়ে যাওয়া এবং একটি রানার মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

‎ভুক্তভোগীরা আরও দাবি করেন, তাদের মালিকানাধীন একটি দোকান থেকে প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা করে ভাড়া আদায় করা হলেও সেই অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত না হয়ে ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া দখলকৃত বাড়িঘরে মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার অভিযোগও তোলা হয়।

‎ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা বলেন, এসব ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি, হুমকি এবং প্রাণনাশের আশঙ্কার মুখে পড়তে হয়। শিশু থেকে শুরু করে নারী ও বৃদ্ধরাও এসব হয়রানি ও নির্যাতন থেকে রেহাই পায়নি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের মামলাও রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

‎এসময় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা। ‎এছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশের সংশ্লিষ্ট ডিসি, পল্লবী থানার ওসি এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন ভুক্তভোগীরা। তারা মনে করেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হলে এলাকাবাসী স্বস্তি ফিরে পাবে।