আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)
- আপডেট: ১১:০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৮০০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক,সোনালী খবর
সারা দেশে আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হচ্ছে। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের স্মরণে মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি ছুটি রয়েছে। দেশজুড়ে দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা, ওয়াজ ও মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।
ইসলামের ইতিহাসে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পৃথিবীতে আগমন মানবজাতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। আরব সমাজ যখন ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’ বা অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও নানা অনাচারে নিমজ্জিত ছিল, তখন তিনি সত্য, ন্যায়, শান্তি ও মানবতার বার্তা নিয়ে আবির্ভূত হন। মক্কার কুরাইশ বংশে জন্ম নেওয়া মহানবী (সা.) শৈশব থেকেই সত্যবাদিতা ও আমানতদারির জন্য পরিচিত ছিলেন।
৪০ বছর বয়সে তিনি নবুয়ত লাভ করেন এবং পরবর্তী ২৩ বছর ইসলাম ও মানবতার শান্তির বার্তা প্রচার করেন। তাঁর জীবন, কর্ম ও সুন্নাহ মুসলমানদের জন্য ইসলামী জীবনব্যবস্থার অন্যতম প্রধান দিকনির্দেশনা হয়ে আছে।
‘মিলাদুন্নবী’ শব্দের অর্থ নবীর জন্ম বা জন্মস্মরণ। মহানবী (সা.)-এর জন্মকে স্মরণ করে রবিউল আউয়াল মাসে বিভিন্ন দেশে যে আয়োজন করা হয়, তা সাধারণভাবে ঈদে মিলাদুন্নবী নামে পরিচিত। প্রচলিত ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, মহানবী (সা.) ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব এবং মা আমিনা বিনতে ওয়াহাব। তবে তাঁর জন্মতারিখ নিয়ে ঐতিহাসিক সূত্রে মতভেদ রয়েছে। মুসলিম বিশ্বের একটি বড় অংশ রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখকে তাঁর জন্মদিন হিসেবে স্মরণ করে।
ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের প্রচলন কবে থেকে শুরু হয়েছে, তা নিয়ে ঐতিহাসিক ও ইসলামী গবেষকদের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। অনেক গবেষকের মতে, ইসলামের প্রাথমিক যুগে মহানবী (সা.)-এর জন্মস্মরণে আনুষ্ঠানিক আয়োজন প্রচলিত ছিল না। পরবর্তী সময়ে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের আয়োজন শুরু হয়। ঐতিহাসিক সূত্রে ইরাকের আরবিলের শাসক মুজাফফর উদ্দিন কুকুবরির নাম এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।
দিনটি উপলক্ষে মহানবী (সা.)-এর জীবন, চরিত্র, মানবিকতা ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা করা হয়। তাঁর সত্যবাদিতা, ক্ষমাশীলতা, সহিষ্ণুতা, ন্যায়বিচার, দানশীলতা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার শিক্ষা স্মরণ করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এদিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করে শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দেশবাসী ও বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে জাতীয় কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও সশস্ত্র বাহিনীর স্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইল্যান্ড, লাইটপোস্ট ও বিভিন্ন সড়ক জাতীয় পতাকা, রঙিন পতাকা এবং ‘কালেমা তাইয়্যেবা’ লেখা ব্যানারে সজ্জিত করা হবে।
বাংলাদেশ সচিবালয় মসজিদসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগও নিজ নিজ এলাকায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ওয়াজ মাহফিল, সেমিনার ও টকশো প্রচারের পাশাপাশি কেরাত, হামদ ও নাত, স্বরচিত কবিতা পাঠ এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ প্রান্তে মাসব্যাপী ইসলামিক বইমেলার আয়োজন করেছে।
এদিকে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেশজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে র্যাব। বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত টহল জোরদারের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বুধবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানস্থলে প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হবে। নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যালোচনা করে প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ এলাকায় পৃথক নিরাপত্তা পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শান্তি ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।



















