দক্ষ জনশক্তি গঠনে আদর্শ প্রশিক্ষকের ওপর গুরুত্ব দিলেন আনসার মহাপরিচালক
- আপডেট: ০৪:১৪:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৮০০১
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
প্রশিক্ষণার্থীদের দক্ষ ও আদর্শবান জনবল হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষকদের নিজেদের যোগ্যতা, নৈতিকতা ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। তিনি বলেছেন, একজন আদর্শ প্রশিক্ষকের সার্থকতা হলো নিজের চেয়েও দক্ষ ও আদর্শবান জনবল তৈরি করা।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে কর্মরত প্রশিক্ষকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মহাপরিচালক বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে প্রশিক্ষকদের নিজেদের সুপ্রশিক্ষিত ও দক্ষ হতে হবে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় পরিহার করে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, ব্যবহারিক দক্ষতা ও আধুনিক প্রশিক্ষণপদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে অভিভাবকসুলভ সম্পর্ক গড়ে তুলে আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আধুনিকায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, পিটি, ড্রিল ও অস্ত্রচালনা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সময়োপযোগী কারিগরি, কর্মমুখী ও পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় একাডেমিতে 6G ওয়েল্ডিং, মেসন, শাটারিং, মোটর ড্রাইভিং, জাপানি ভাষা ও আন্তর্জাতিক মানের হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল রক্ষণাবেক্ষণবিষয়ক প্রশিক্ষণও চালু রয়েছে। এসব উদ্যোগ দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি দেশি-বিদেশি শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মহাপরিচালক বলেন, দেশের বিশাল যুবসমাজকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ও উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তর করা সময়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। জনকেন্দ্রিক বাহিনী হিসেবে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের সামাজিক উন্নয়ন, গ্রামীণ অগ্রগতি ও আর্থসামাজিক সমৃদ্ধিতে অবদান রেখে চলেছে। ১৯৭৬ সালে গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) গঠনের মধ্য দিয়ে বাহিনীর কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত হয়।
বাহিনীর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের সদস্যরা এক হাতে অস্ত্র ধারণ করে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, অন্য হাতে অংশ নেবে উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে।’
তৃণমূল পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও অপরাধ প্রতিরোধে সদস্যদের সতর্ক এবং সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেন মহাপরিচালক। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ আশা প্রকাশ করেন, আধুনিক ও বহুমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে ওঠা দক্ষ জনশক্তি দেশের নিরাপত্তা, উৎপাদনশীলতা ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে সদস্যদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করবে।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ, একাডেমির কমান্ড্যান্ট ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. সাইফুল্লাহ রাসেলসহ বাহিনীর অন্যান্য কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।



















