সড়ক নিরাপত্তায় পোস্ট-ক্র্যাশ রেসপন্স জোরদারে তরুণদের প্রশিক্ষণ
- আপডেট: ০৫:০২:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৮০০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উদযাপনের অংশ হিসেবে ইয়ুথ রোড সেফটি ভলান্টিয়ারদের প্রাথমিক চিকিৎসা (ফার্স্ট এইড ও সিপিআর) বিষয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দিয়েছে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার, তাৎক্ষণিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং জীবন রক্ষায় তরুণদের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
রবিবার (১ নভেম্বর) আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ১২ জন নেতৃস্থানীয় প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সিআইপিআরবির নির্বাহী পরিচালক ড. আমিনুর রহমান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ড. আমিনুর রহমান বলেন, একটি জনস্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিআইপিআরবি সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করার মাধ্যমে সরকারকে সহযোগিতা করছে। এ ক্ষেত্রে তরুণদের ভূমিকা ও অংশগ্রহণ তাঁদের অনুপ্রেরণা জোগায়। ২০১৮ সালে রমিজ উদ্দিন স্কুলের শিক্ষার্থী আবদুল করিম রাজীব ও দিয়া খানম মীমের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে দেশব্যাপী আন্দোলনে তরুণরা বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমানে সড়ক নিরাপত্তা জোরদারেও তাঁদের এগিয়ে আসা অত্যন্ত আনন্দের।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে সিআইপিআরবি এ বছর আলোচনা সভা, পেশাদার চালকদের স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প, দৈনিক সংবাদপত্রে বিষয়ভিত্তিক নিবন্ধ প্রকাশ এবং প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এরই অংশ হিসেবে আজকের এ প্রশিক্ষণের আয়োজন। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দুর্ঘটনায় আহত মানুষের জীবন রক্ষায় সামান্য অবদান রাখতে পারলেও এ উদ্যোগ সার্থক হবে।
অনুষ্ঠানে সিআইপিআরবির উপনির্বাহী পরিচালক ও আরটিআই প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ ইউনিটের পরিচালক ড. সেলিম মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যানে মতপার্থক্য থাকলেও প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত ও আহত হচ্ছেন, এটি সবারই জানা। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের গোল্ডেন আওয়ারের মধ্যে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা গেলে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষকে পঙ্গুত্বের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব। এ জন্য প্রাথমিক চিকিৎসায় প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করা জরুরি। এ বিষয়ে দক্ষ জনবল তৈরিতে সিআইপিআরবির প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
সিআইপিআরবি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আফসানা করিম বলেন, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা নিত্যদিনের। আহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা গেলে অনেকের জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি পঙ্গুত্ব থেকেও রক্ষা করা সম্ভব। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বেশ কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে সড়ক ব্যবহারকারীদের আচরণগত পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে তরুণদের অংশগ্রহণ এবং প্রাথমিক চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণের আগ্রহ প্রশংসনীয়।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বলেন, সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ‘পোস্ট-ক্র্যাশ রেসপন্স’। এ উপাদানের কার্যকর বাস্তবায়নে প্রাথমিক চিকিৎসায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচের সবগুলো উপাদান নিয়ে কাজ করে বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে তাঁরা অংশীদার হতে চান।
প্রশিক্ষণের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও মূল্যায়নের দায়িত্ব পালন করেন সিআইপিআরবির রোড সেফটি প্রোগ্রামের ম্যানেজার কাজী বোরহান উদ্দিন। প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি ম্যানেজার ও মাস্টার ট্রেইনার মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম।













