নেতারা দিনে বক্তব্য দেন, রাতে আসামি ছাড়ার তদবির: চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি
- আপডেট: ০৯:০৯:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১৮০৩৪
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা নিয়ে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ বলেন, ‘গণমাধ্যমে যা দেখছি তাতে মনে হয় সিরিয়া-লিবিয়ায় বসবাস করছি। সাংবাদিকরা দেশের মানুষের কথা ভেবে প্রতিবেদন করলে ভালো হয়। আমরা বর্তমানে কারও কাছ থেকে সাহায্য-সহযোগিতা পাচ্ছি না। যাদের গ্রেফতার করি তাদের ছাড়াতে দিনে বক্তব্য দেওয়া রাজনৈতিক নেতারা রাতে তদবির করেন।’
সভায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রেঞ্জ ডিআইজি, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, তারা নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর করতে বদ্ধপরিকর। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। চিহ্নিত অপরাধীদের জামিন রোধ এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ওপরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি বলেন, ‘প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের বাসনা এই ২০২৬ সালের নির্বাচনকে যেন ২০৩১ এবং ২০৩৬ সালেও মানুষ মনে রাখে।’
ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি উল্লেখ করেন, তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) নির্দেশে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং দলমত নির্বিশেষে কাউকে অন্যায় করতে দেওয়া হবে না।
সভায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘আমাদের কাজ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও বৈধ অস্ত্র জমা করা। নির্বাচনের বাজেট যেন সময়মতো পাওয়া যায়। নির্বাচনকালীন সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানো বন্ধ করতে হবে।’
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জানান, তারা সব অংশগ্রহণকারীর সঙ্গে সমন্বয় করছেন। এআই তৈরি ছবি বা ভিডিও বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-কে জানানো হচ্ছে। নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সঠিক বিচার দিলে অন্য কেউ তা করার সাহস পাবেন না।
খুলনা বিভাগীয় কমিশনার বলেন, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কালু এবং কাঁকন গ্রুপের সঙ্গে কেউ পারছে না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কিছু ক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহারও হতে পারে। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে যৌথ মহড়া দিলে অন্যায় কার্যক্রম রোধ করা সম্ভব।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সব কাজ তাৎক্ষণিকভাবে করা হবে। অপরাধীদের ঢালাও জামিন বন্ধের বিষয়ে বিচার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় জরুরি।’
সিলেট বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘বিজিবি মোতায়েন অত্যন্ত প্রয়োজন। সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র প্রবেশ করছে, অপরাধীরা অবৈধভাবে চলাচল করছে। চিহ্নিত অপরাধীরা কোনোভাবেই জামিন পাবেন না। ষড়যন্ত্রকারীরা অস্থিরতা সৃষ্টি করতে সবসময় চেষ্টা করবে।’
সভা থেকে প্রশাসনের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, ২০২৬ সালের নির্বাচন ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে।


















