পদত্যাগপত্র জমা দিলেন আইজিপি বাহারুল আলম, গ্রহণে সরকারের অনীহা!
- আপডেট: ০৬:০২:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৮০১২
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
আর মাত্র একদিন বাদেই দেশের দায়িত্ব আসছে নতুন সরকার। এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে অন্তবর্তীকালীর সরকারের দায়িত্ব। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরে আগেই অন্তবর্তীকালীন সরকারের নিয়োগকৃত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকতাদের অনেককে দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের খবর সামনে আসছে।
সবশেষ জানা গেল,বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমের পদত্যাগ চেষ্টার খবর। তিনি মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিলেও সরকারের পক্ষ থেকে সেটি গ্রহণ করা হয়নি।
এর আগে পদত্যাগ করেছেন মন্ত্রীপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়ব পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে শনিবার দেশ ছাড়েন। তবে অন্তবর্তী সরকারের দায়িত্বের শেষ মুহূর্তে পুলিশপ্রধান বাহারুল আলমের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পেছনে কারণ কী এবং কেন তা সরকার গ্রহণ করছে না,তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে,আইজিপি বাহারুল আলম পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করা হচ্ছে না।
সূত্র জানিয়েছে,নতুন সরকার মঙ্গলবার শপথ নেবার পরেই আইজিপিকে পদত্যাগপত্র নতুন সরকারের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,আইজিপি বাহারুল আলমের পদত্যাগের প্রেক্ষাপট নিয়ে রয়েছে কিছু বিতর্ক। বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে তার নাম আসায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তার অপসারণ চেয়ে রিট দায়ের করা হয়েছিল। ন্যাশনাল ল-ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু এই রিট দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে আদালত রিটটি খারিজ করে।
সেই বছরের ৬ ডিসেম্বরও একই ঘটনায় আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি পাঠিয়ে বাহারুল আলমকে বরখাস্তের আবেদন করেছিলেন। এছাড়া বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু হত্যার বিচারের দাবিতে পুলিশ সদর দপ্তর ঘেরাও, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারক লিপি প্রদানসহ একাধিক কর্মসূচি পালন করা হয়।
সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়,বিডিআর হত্যাকাণ্ডে আইজিপির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসার পর সেসময় তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো সরকার। তবে নির্বাচনের আগমুহূর্তে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে যায় সরকার।
বাহারুল আলম ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি বিদায়ী আইজিপি মো.ময়নুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন। সরকারের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আওতায় তিনি পদে নিযুক্ত ছিলেন।
আইজিপি বাহারুল আলম ১৯৮৬ সালের ২১ জানুয়ারি বিসিএস (পুলিশ) ১৯৮৪ ব্যাচে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধানসহ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অতিরিক্ত আইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘ সদর দপ্তরের শান্তিরক্ষা বিভাগে সিনিয়র পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালে আফগানিস্তানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সিনিয়র পুলিশ অ্যাডভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ক্রোয়েশিয়া,সার্বিয়া,কসোভো ও সিয়েরা লিওনে ফিল্ড মিশনেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২০ সালে চাকরি থেকে অবসর নেন।



















