০২:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কার্গো সেক্টরে চাঁদাবাজি ও রোস্টার বাণিজ্যের অভিযোগ: ‘আতঙ্কের নাম’ মইনউদ্দীন লোটাস?

  • আপডেট: ০১:৫৫:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৮৩২১

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

বিমানবন্দর কার্গো সেক্টরে চাঁদাবাজি, রোস্টার নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব খাটানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মইনউদ্দীন লোটাসের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে কার্গো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, যেখানে সাধারণ শ্রমিক ও হেলপাররা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন কার্গো হেলপার বলেন, “মইনউদ্দীন লোটাস কার্গো সেক্টরে একটি আতঙ্কের নাম। তার বাড়ি বগুড়া। তিনি বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব খাটান। নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা না দিলে ডিউটি, রোস্টার কিংবা কাজের ক্ষেত্রে নানা সমস্যায় পড়তে হয়।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোস্টার তৈরির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নেই। অনুগতদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, আর যারা চাঁদা দিতে অপারগ বা আপত্তি করেন, তাদের কাজ কমিয়ে দেওয়া বা বিভিন্নভাবে চাপে রাখা হয়। এতে করে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

একজন হেলপার বলেন, “আমরা বিমান কার্গো শ্রমিকরা আজ অতিষ্ঠ। বাধ্য হয়েই প্রায় ৪০০ কর্মী এক হয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

আমরা সবাই স্বাক্ষর সংগ্রহ করছি, যাতে সরকার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কার্গো কার্যক্রমের বিভিন্ন ধাপে অনিয়মিত আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সুবিধা আদায়ের একটি অঘোষিত ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে । এতে শুধু শ্রমিকরাই নন, সামগ্রিকভাবে কার্গো ব্যবস্থাপনাও প্রশ্নের মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে অভিযুক্ত মইনউদ্দীন লোটাসের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পাঠানো খুদে বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স–এর মুখপাত্র বোসরা ইসলাম জানান, “বিমানের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. মঈনউদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং বিমান কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কার্গো সেক্টর দেশের আমদানি-রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে অনিয়ম বা প্রভাব বিস্তার চলতে থাকলে তা শুধু শ্রমিকদের মধ্যেই অসন্তোষ তৈরি করবে না, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এখন দেখার বিষয়, চলমান তদন্তে কী উঠে আসে এবং শ্রমিকদের অভিযোগ কতটা সত্য প্রমাণিত হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

কার্গো সেক্টরে চাঁদাবাজি ও রোস্টার বাণিজ্যের অভিযোগ: ‘আতঙ্কের নাম’ মইনউদ্দীন লোটাস?

আপডেট: ০১:৫৫:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

বিমানবন্দর কার্গো সেক্টরে চাঁদাবাজি, রোস্টার নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব খাটানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মইনউদ্দীন লোটাসের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে কার্গো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, যেখানে সাধারণ শ্রমিক ও হেলপাররা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন কার্গো হেলপার বলেন, “মইনউদ্দীন লোটাস কার্গো সেক্টরে একটি আতঙ্কের নাম। তার বাড়ি বগুড়া। তিনি বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব খাটান। নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা না দিলে ডিউটি, রোস্টার কিংবা কাজের ক্ষেত্রে নানা সমস্যায় পড়তে হয়।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোস্টার তৈরির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নেই। অনুগতদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, আর যারা চাঁদা দিতে অপারগ বা আপত্তি করেন, তাদের কাজ কমিয়ে দেওয়া বা বিভিন্নভাবে চাপে রাখা হয়। এতে করে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

একজন হেলপার বলেন, “আমরা বিমান কার্গো শ্রমিকরা আজ অতিষ্ঠ। বাধ্য হয়েই প্রায় ৪০০ কর্মী এক হয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

আমরা সবাই স্বাক্ষর সংগ্রহ করছি, যাতে সরকার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কার্গো কার্যক্রমের বিভিন্ন ধাপে অনিয়মিত আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সুবিধা আদায়ের একটি অঘোষিত ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে । এতে শুধু শ্রমিকরাই নন, সামগ্রিকভাবে কার্গো ব্যবস্থাপনাও প্রশ্নের মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে অভিযুক্ত মইনউদ্দীন লোটাসের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পাঠানো খুদে বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স–এর মুখপাত্র বোসরা ইসলাম জানান, “বিমানের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. মঈনউদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং বিমান কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কার্গো সেক্টর দেশের আমদানি-রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে অনিয়ম বা প্রভাব বিস্তার চলতে থাকলে তা শুধু শ্রমিকদের মধ্যেই অসন্তোষ তৈরি করবে না, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এখন দেখার বিষয়, চলমান তদন্তে কী উঠে আসে এবং শ্রমিকদের অভিযোগ কতটা সত্য প্রমাণিত হয়।