রাজধানীতে কাটা হাত-পা উদ্ধারের রহস্য উদঘাটন,ঘাতক গ্রেফতার,নেপথ্যের কারণ জানালো পুলিশ
- আপডেট: ০২:০৮:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
- / ১৮০১৬
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
রাজধানীর মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের কাটা হাত, পা, মাথাসহ দেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ভুক্তভোগীর রুমমেট শাহীনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, মূলত অনৈতিক প্রস্তাব ও ঝগড়াবিবাদের জেরে নিহত ওবায়দুল্লাহকে হত্যার পর ৭ টুকরো করে তারই রুমমেট শাহীন।
রবিবার (০১মার্চ) মিন্টো রোডে অবস্থিত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘রাজধানীতে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন; ঘাতক গ্রেফতার’ সংক্রান্ত এক সংবাদ সন্মেলনে এসব জানান মতিঝিল বিভাগের ডিসি হারুন-অর-রশীদ।
হারুন-অর-রশীদ বলেন, নিহত ওবায়দুল্লাহর দেহের একটি অংশ এখনো পাওয়া যায়নি। আমিনবাজারের ব্রিজ থেকে সেই অংশটি ফেলে দেওয়া হয়েছিল। সেটি উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। ওবায়দুল্লাহ একটি হোমিওপ্যাথি প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিংয়ে চাকরি করত এবং শাহীন হোটেল হিরাঝিলে চাকরি করত।
তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পারি যে শাহিন ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করে। পরে রাত ৯টার পর বিভিন্ন জায়গায় লাশের খন্ডিত দেহাবশেষ ফেলে দেওয়া হয়। ওবায়দুল্লাহ রাতে তাকে সিগারেট নিয়ে আসার জন্য বলে কিন্তু শাহিন তাকে বলেছে তার কাছে পর্যাপ্ত টাকা নেই, আনতে পারবে না। তারা জসিমুদ্দিন রোডে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকত। শাহীন রাতে বাসায় ফিরলে আবার তাকে সিগারেট আনার জন্য পাঠায়। সিগারেট নিয়ে আসার পরে আবার তাকে নানরুটি এবং কাবাব আনার জন্য পাঠায়। এই যে কাবাব এবং নানরুটি নিয়ে আসলেও কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে ওবায়দুল একাই খায়। রাতে ঘুমানোর সময় ওবায়দুল্লাহ জোরে জোরে কথা বলছিল। যেহেতু শাহীন ক্লান্ত ছিল তাই সে বিরক্ত হচ্ছিল। এক পর্যায়ে শোয়ার চেষ্টা করছিল ঘুমানোর চেষ্টা করছিল তখন ফোন আস্তে কথা বলার জন্য অনুরোধ করলে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ওবায়দুল্লাহ শাহিনকে বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। ওই রাতে একপর্যায়ে ওবায়দুল্লাহ গোসলখানায় কাপড় ধোয়া শুরু করলে শাহীন তার ঘাড়ে এবং গলায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পরবর্তীতে নিজে বাঁচার জন্য এটাকে বিভিন্ন অংশে খন্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে।
হারুন-অর-রশীদ বলেন, নয়াপল্টনে আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীতে দুটি হাত, বায়তুল মোকাররমের একটি গেটের পাশে একটি পা, আর কমলাপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন একটা এলাকাতে মাথাটা ফেলেছিল। মতিঝিলে কমলাপুরের ওখানে ময়লা বোঝাই কনটেইনারে ড্রাম ভর্তি দেহ ফেলা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় যে বাকি অংশগুলো আমিনবাজার সালিপুর ব্রিজ থেকে সে ফেলেছে এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি। একটি অংশ আমরা ইতিমধ্যে পেয়েছি, আরেকটা অংশের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত আছে।
শাহীন হত্যা করেছে সেটি কিভাবে নিশ্চিত হলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শাহীন সাইকেলে করে খন্ডিত অংশ ফেলার সিসি টিভির ফুটেজ পেয়েছি। এছাড়া সে নিজেও এই ঘটনার সম্পৃক্ততা শিকার করেছে। তার কাছ থেকে চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
শুধু ঝগড়া বিবাদের জন্যই হত্যা করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, শাহীন জানিয়েছে মাঝে মাঝে ওবায়দুল্লাহ অনৈতিক প্রস্তাব দিত। আর এই বিষয়টি নিতে পারত না শাহীন। অনেক সময় রাতে শাহিনের রুমে ওবায়দুল্লাহ চলে যেত, তখন তাকে রুম থেকে বের করে দিয়ে দরজা আটকিয়ে দিত।
হত্যাকান্ডের পর শাহিনের আচরনের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিসি বলেন, হত্যার পর শাহীন স্বাভাবিক ভাবেই চাকরি করত। সবার সঙ্গে সাভাবিক আচরণ করত। শাহীনকে হিরাঝিল হোটেল থেকে আমার গ্রেফতার করি। তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
প্রসঙ্গত, এর আগে গতকাল শনিবার (২৮ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষের কাটা হাত-পা ও মাথা উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টার দিকে কাকরাইলের স্কাউট ভবনের সামনে কালো পলিথিনে মানুষের একটি পা পাওয়া যায়। এরপর শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে জাতীয় স্টেডিয়ামের ১ ও ৪ নং গেইটের মাঝামাঝি মার্কেটের সামনের সড়কে কালো পলিথিনে আরো দুইটি হাত পাওয়া যায়। দুপুরে কমলাপুর রেল স্টেশনের আরেকটি পা পাওয়া যায়।
নিহত ওবায়দুল্লাহ নরসিংদীর শিবপুর তাতার গ্রামের আব্দুল হামিদ মিয়ার ছেলে। তার মায়ের নাম রানী বেগম। তিনি মতিঝিলের কবি জসীম উদ্দিন রোডের একটি ফ্ল্যাটে হিরাঝিল হোটেলের কর্মচারী শাহীন আলমের সঙ্গে থাকতেন বলেও জানানো হয়েছিল সে সময়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মতিঝিল জোনের এডিসি রেজওয়ান, সবুজবাগ জোনের এডিসি জাহিদ হোসেন, মতিঝিল জোনের এসি হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী এবং ডিএমপি মিডিয়ার এসি আরিফা আক্তার।













