অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর নামে ৯৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ, মানবপাচার চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার
- আপডেট: ০১:১৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
- / ১৮০৩৪
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
ভূয়া মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ান ভিসা প্রদানের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৪)।
র্যাব বলছে, মূলত অস্ট্রেলিয়ান ভিসা প্রক্রিয়ায় ভিসা প্রাপ্ত ব্যক্তির ভিসার সকল প্রকার নথি ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়াকে অনুসরণ করে টিআই ট্রেডিং কর্পোরেশন নামক একটি মানবপাচারকারী প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ভূয়া একটি অ্যাপসের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের ভূয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন জানিয়ে ব্যক্তি প্রতি হাতিয়ে নেয় ২১ লাখ টাকা। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নির্ধারিত তারিখে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া অতিক্রমের সময় জানতে পারেন তাদের সকল কাগজপত্র ভূয়া এবং বাংলাদেশে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনে গিয়ে তারা জানতে পারেন প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
মঙ্গলবার (০৩মার্চ) রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বরের পাইকপাড়া র্যাব ৪ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘অস্ট্রেলিয়ায় জাল ভিসা দিয়ে মানব পাচার, সঙ্ঘবদ্ধ চক্রের মূল হোতা সহ ৪ জন গ্রেফতার ও আলামত জব্দ সংক্রান্ত এক সংবাদ সন্মেলনে এসব জানান র্যাব ৪ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো.মাহবুব আলম।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. তারেকুল ইসলাম (৪৫), মো. মাইনুদ্দিন ভূইয়া (৪৮), মো. নেওয়াজ (৪৫) এবং আবু হাসান (৪৮)।
মো.মাহবুব আলম বলেন, র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৪) সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নির্মূলের পাশাপাশি বিভিন্ন সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য কাজ করছে। ইতিপূর্বে চায়না ও রাশিয়াতে চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করে মানব পাচারকারী সংঘবদ্ধ চক্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল (২ মার্চ) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৪ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ঢাকা মহানগরীর উত্তরা কাওলাবাজার ও যাত্রাবাড়ী শনির আখড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মানব পাচার মামলার ৪ জন আসামি’কে গ্রেফতার করে।
তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা টিআই ট্রেডিং কর্পোরেশন নামক ভিসা প্রসেসিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডায় মানব পাচার করে আসছিলো। ভুক্তভোগী মো. শরীফ মোল্লা (২৮) গ্রেফতারকৃত আসামিদের পূর্ব পরিচত এবং তাদের মাধ্যমে এজেন্সির বাকি সদস্যদের সাথে ভুক্তভোগীদের পরিচয় হয়। ভুক্তভোগী মো.শরীফ মোল্লা (২৮), ওনার ভাতিজা ওমর ফারুক, চাচাতো ভাই আবুল কালাম এবং ভাগিনা সাজ্জাদ হোসেনকে বিদেশ পাঠানোর জন্য ২০২৫ সালের ১২ মে এবং পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে আসামি মো. তারেকুল ইসলাম (৪৫) এর পল্লবী থানাধীন বাসা ও অফিসে গিয়ে এশিয়া ব্যাংক টিআর গ্রুপ নামক হিসাব নম্বরে সর্বমোট ৯৪ লাখ টাকা পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা করেন। এরপর আসামিরা ভুক্তভোগীদের জানায় যে, কয়েক দিনের মধ্যে তাদেরকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠাবে। কিন্তু অনেক দিন অতিবাহিত হলেও আসামিরা তাদের বিদেশ পাঠাতে না পারায় ভুক্তভোগীরা আসামিদের অফিসে বারবার তাগাদ দেয়। এক পর্যায়ে টিআই ট্রেডিং কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগীদের ভিসা ও টিকিট ইস্যু করে কিন্তু ভিকটিমরা অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের মাধ্যমে জানতে পারে যে ভিসা ও টিকিট দুইটাই ভুয়া। পরবর্তীতে তারা আরো জানতে পারে আসামিরা প্রতারক চক্রের সদস্য এবং তাদের সাথে অপরাধ মূলক বিশ্বাসভঙ্গ করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়াও টাকা ফেরতের কথা বললে বিভিন্ন ভয় ভীতি ও হুমকি দেখিয়ে তাদেরকে তাড়িয়ে দেয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা পল্লবী থানায় একটি মামলা করে। র্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল জড়িত আসামিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করেন। পরবর্তীতে গতকাল (২ মার্চ) আসামিদের অবস্থান সনাক্ত করে ঢাকা মহানগরীর উত্তরা কাওলাবাজার ও যাত্রাবাড়ী শনির আখড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মূল হোতা মো. তারেকুল ইসলাম (৪৫) সহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি বলেন, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার মাধ্যমে অনেক বাংলাদেশীদের ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডায় পাঠানোর নামে টাকা আত্মসাৎ করে আসছে। আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় এনআই অ্যাক্ট এর গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ান ভিসা প্রক্রিয়ায় কারোর ভিসা হলে তার সকল প্রকার নথি অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতারক এই চক্রটি এই প্রক্রিয়াকে অনুসরণ করে নিজেদের তৈরি ভূয়া একটি অ্যাপসের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের ভূয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন জানিয়ে ব্যক্তি প্রতি নির্ধারিত ২১ লাখ টাকা জমা নেয়। এরপর তারা ভুক্তভোগীদের সকল টাকা জমা নিয়ে অফিস বন্ধ করে হারিয়ে যায় এবং নতুন স্থানে গিয়ে নতুনকরে একই প্রক্রিয়ায় প্রতারণা শুরু করে।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নির্ধারিত তারিখে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া অতিক্রমের সময় তাদেরকে আটকে দেয়া হয় এবং তাদেরকে জানানো হয় তাদের সকল কাগজপত্র ভূয়া। এরপর ভুক্তভোগীরা বাংলাদেশে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনে গিয়ে জানতে পারেন প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।



















