০১:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ডে ৩৭,৫৬৭ নারী প্রধান পরিবারকে ভাতা

  • আপডেট: ০৭:৫৪:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
  • / ১৮০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

যাচাই-বাছাই শেষে দেশের দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত পরিবারের মধ্যে থেকে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ভাতা প্রদানের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

সোমবার(০৯ মার্চ) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে (মাল্টিপারপাস হল) ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন, পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করেছে। পাইলট পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারি কোষাগার থেকে এই অর্থ জিটুপি (G2P) পদ্ধতিতে সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।

তিনি জানান, সুবিধাভোগী নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হিসেবে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ (PMT) স্কোরিং ব্যবহার করা হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় বসতভিটাসহ আবাদি জমি ০.৫০ একর বা তার কম এবং পরিবারের আয়-সম্পদের ভিত্তিতে দরিদ্র পরিবারগুলোকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে দেশে ৯৫টির বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি রয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও একই ব্যক্তির একাধিক সুবিধা গ্রহণের প্রবণতা দূর করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দীর্ঘমেয়াদে ২০৩০ সালের মধ্যে এই ফ্যামিলি কার্ডকে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ‘সার্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’ হিসেবে রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পাইলট কর্মসূচিতে প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি কর্পোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহের পর যাচাই-বাছাই শেষে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আগামী ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করবেন এবং উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই সুবিধাভোগীদের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে প্রথম মাসের নগদ সহায়তা পৌঁছে যাবে। মার্চ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত চার মাসের জন্য এই পাইলট কর্মসূচিতে ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৬৬ শতাংশ অর্থ সরাসরি দরিদ্র পরিবারগুলোর হাতে পৌঁছাবে।

তিনি জানান, ভবিষ্যতে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সাশ্রয়ী খাদ্য সহায়তা, শিক্ষা উপবৃত্তি, কৃষি ভর্তুকিসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে। তবে প্রতিবন্ধী ভাতা ও বয়স্ক ভাতা পূর্বের মতোই চালু থাকবে।

ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ জানাতে আপাতত সমাজসেবা অধিদপ্তরের ১০৯৮ চাইল্ড হেল্পলাইন, ৩৩৩ নম্বর, অথবা স্থানীয় সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অর্থ মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মামুন তিতুমীর, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

ফ্যামিলি কার্ডে ৩৭,৫৬৭ নারী প্রধান পরিবারকে ভাতা

আপডেট: ০৭:৫৪:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

যাচাই-বাছাই শেষে দেশের দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত পরিবারের মধ্যে থেকে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ভাতা প্রদানের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

সোমবার(০৯ মার্চ) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে (মাল্টিপারপাস হল) ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন, পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করেছে। পাইলট পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারি কোষাগার থেকে এই অর্থ জিটুপি (G2P) পদ্ধতিতে সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।

তিনি জানান, সুবিধাভোগী নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হিসেবে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ (PMT) স্কোরিং ব্যবহার করা হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় বসতভিটাসহ আবাদি জমি ০.৫০ একর বা তার কম এবং পরিবারের আয়-সম্পদের ভিত্তিতে দরিদ্র পরিবারগুলোকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে দেশে ৯৫টির বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি রয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও একই ব্যক্তির একাধিক সুবিধা গ্রহণের প্রবণতা দূর করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দীর্ঘমেয়াদে ২০৩০ সালের মধ্যে এই ফ্যামিলি কার্ডকে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ‘সার্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’ হিসেবে রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পাইলট কর্মসূচিতে প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি কর্পোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহের পর যাচাই-বাছাই শেষে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, আগামী ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করবেন এবং উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই সুবিধাভোগীদের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে প্রথম মাসের নগদ সহায়তা পৌঁছে যাবে। মার্চ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত চার মাসের জন্য এই পাইলট কর্মসূচিতে ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৬৬ শতাংশ অর্থ সরাসরি দরিদ্র পরিবারগুলোর হাতে পৌঁছাবে।

তিনি জানান, ভবিষ্যতে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সাশ্রয়ী খাদ্য সহায়তা, শিক্ষা উপবৃত্তি, কৃষি ভর্তুকিসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে। তবে প্রতিবন্ধী ভাতা ও বয়স্ক ভাতা পূর্বের মতোই চালু থাকবে।

ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ জানাতে আপাতত সমাজসেবা অধিদপ্তরের ১০৯৮ চাইল্ড হেল্পলাইন, ৩৩৩ নম্বর, অথবা স্থানীয় সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অর্থ মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মামুন তিতুমীর, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।