মামলার পাহাড়, তবুও ধরাছোঁয়ার বাইরে ভূমিদস্যু জুনায়েদ
- আপডেট: ০৯:৩৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৮০২৭
মোঃ মনিরুজ্জামান মনির:
রাজধানীর ডেমরা রাজস্ব সার্কেলজুড়ে আলোচিত ও আতঙ্কের নাম হয়ে ওঠা ভূমিদস্যু জুনায়েদকে ঘিরে নতুন নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে যা তার অপরাধ জগতের বিস্তৃতি এবং প্রভাবশালী নেটওয়ার্কের গভীরতা নিয়ে জনমনে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। ইতোমধ্যে প্রকাশিত ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তৃতীয় পর্বে উঠে এসেছে তার বিরুদ্ধে থাকা একাধিক ফৌজদারী মামলা, গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং সেই পরোয়ানা উপেক্ষা করেও তার প্রকাশ্য দাপটের চিত্র, যা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে জুনায়েদ দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে জমি দখল, জাল দলিল তৈরি, প্রভাব খাটিয়ে মালিকানা পরিবর্তন এবং নিরীহ মানুষের সম্পত্তি আত্মসাৎ করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে যার মাধ্যমে সে শুধু অর্থনৈতিকভাবে লাভবানই হয়নি বরং এলাকায় এক ধরনের অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। অনুসন্ধানে জানা যায় তার বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারী মামলা থাকলেও সর্বশেষ ২০২৩ সালে ছাগীর আহমেদ রাফিন নামের এক ব্যক্তির দায়ের করা একটি সিআর মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন, যেখানে তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে যেগুলো প্রতারণা, জালিয়াতি, বিশ্বাসভঙ্গ এবং অপরাধে প্ররোচনার মতো গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু বিস্ময়করভাবে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর না হওয়ায় জুনায়েদ প্রকাশ্যেই তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক দুটোই বাড়িয়ে তুলেছে। এলাকাবাসীর দাবি জুনায়েদের রয়েছে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ, যার ফলে আইনের হাত থেকে সে বারবার রেহাই পাচ্ছে এবং প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যের সহায়তায় তার অপরাধ সাম্রাজ্য আরও বিস্তৃত হচ্ছে। অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন তারা আইনি সহায়তা নিতে গেলেও নানা ধরনের চাপ, ভয়ভীতি এবং হয়রানির মুখে পড়েন। ফলে অধিকাংশই নীরবে ক্ষতি মেনে নিতে বাধ্য হন। এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে জুনায়েদ তার অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য একটি সুসংগঠিত চক্র ব্যবহার করে, যেখানে জাল দলিল প্রস্তুতকারী, দালাল এবং কিছু অসাধু ভূমি কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে, যা পুরো ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এ ধরনের অপরাধীরা দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং আইনের প্রয়োগের ঘাটতিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে, ফলে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হলে সমন্বিত উদ্যোগ ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। সর্বশেষ পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি প্রকাশ্যে দাপটের সঙ্গে চলাফেরা করতে পারে, তাহলে তা শুধু একটি ব্যক্তির অপরাধের বিষয় নয়, বরং এটি পুরো আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। তাই সচেতন মহল মনে করছে দ্রুত সময়ের মধ্যে জুনায়েদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, তার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে, যা ভবিষ্যতে বৃহত্তর সামাজিক অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।




















