১১:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

জাল দলিল সৃজনের মাষ্টার মাইন্ড ভুমিদস্যু জুনায়েদ

  • আপডেট: ০৯:০৬:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৮০০৪

মোঃ মনিরুজ্জামান মনির :
রাজধানীর ডেমরা রাজস্ব সার্কেলকে কেন্দ্র করে আলোচিত একাধিক জমি সংক্রান্ত অভিযোগে আবারও সামনে উঠে এসেছে ভয়ংকর ভুমিদস্যু জুনায়েদ এর নাম, যাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে জমি দখল, জাল দলিল তৈরি এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নতুন মাত্রা পাচ্ছে বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে তিনি বিতর্কিত জমি লেনদেন ও দলিল জালিয়াতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য অনুযায়ী একাধিক মামলার নথিতেই জুনায়েদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠে এসেছে। বিশেষ করে রাজধানী মহানগরীর ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের বিবিধ মোকদ্দমা নং-১০৯/২০২৪, ১১০/২০২৪, ২২৬/২০২৪, ৩১৪/২০২৫, ৩১৫/২০২৫ এবং ৩৪৯/২০২৫ এই মিসকেস মামলাগুলোতে বিবাদীদের বিরুদ্ধে জাল দলিল সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে যেখানে জুনায়েদের নাম বারবার উচ্চারিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি এসব মামলার ঘটনায় জুনায়েদ জাল কাগজপত্র তৈরি করে দিয়ে জমির মালিকানা পরিবর্তনের চেষ্টা করেছে এবং এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য জুনায়েদ একটি সুপরিকল্পিত কৌশলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় জড়িয়ে ফেলতেন। অনেক ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বা বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ আছে বলে দাবি করে ভুক্তভোগীদের আস্থা অর্জন করতেন। এরপর জাল কাগজপত্র প্রস্তুত করে জমির মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। একাধিক ভুক্তভোগী জানান তারা জমি ক্রয় বা বিক্রয় সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান পেতে জুনায়েদের কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তারা বুঝতে পারেন যে দলিল তাদের হাতে দেওয়া হয়েছে তা প্রশ্নবিদ্ধ এবং আইনগতভাবে দুর্বল। এতে করে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ আইনি জটিলতায় পড়ে যান। তাদের দাবি একটি সংঘবদ্ধ চক্র ছাড়া এ ধরনের জালিয়াতি সম্ভব নয়। অনুসন্ধানে জানা যায় ভুমিদস্যু জুনায়েদের বেপরোয়া হয়ে ওঠার নেপথ্যের কারিগর হলেন ভুমি অফিসের কিছু প্রভাবশালী অসাধু কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, ভুমিদস্যু জুনায়েদ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে একই কৌশল অনুসরণ করে আসছে প্রথমে জমির প্রকৃত মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি, এরপর ভুয়া দলিল তৈরি করে একাধিক ব্যক্তির কাছে একই জমি বিক্রির চেষ্টা এবং শেষপর্যন্ত অর্থ আত্মসাৎ। ফলে একই জমি নিয়ে একাধিক পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এতগুলো মামলায় একই ধরনের অভিযোগ উঠে আসা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা মনে করছেন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত না করা হলে ভবিষ্যতে আরও মানুষ প্রতারণার শিকার হতে পারেন। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কীভাবে বারবার জাল দলিল তৈরি হচ্ছে এবং তা যাচাই ছাড়াই ব্যবহৃত হচ্ছে তা নিয়েও জবাবদিহি প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও জালিয়াতির মামলাগুলো দ্রুত তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করা জরুরি। কারণ এ ধরনের অপরাধ শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, সামগ্রিকভাবে ভূমি ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তারা মনে করছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা কমে আসে। তবে অভিযুক্ত জুনায়েদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার অবস্থান জানা গেলে তা যুক্ত করে বিষয়টি আরও পরিষ্কার করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের একটাই দাবি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। একই সঙ্গে যারা এই ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

জাল দলিল সৃজনের মাষ্টার মাইন্ড ভুমিদস্যু জুনায়েদ

আপডেট: ০৯:০৬:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

মোঃ মনিরুজ্জামান মনির :
রাজধানীর ডেমরা রাজস্ব সার্কেলকে কেন্দ্র করে আলোচিত একাধিক জমি সংক্রান্ত অভিযোগে আবারও সামনে উঠে এসেছে ভয়ংকর ভুমিদস্যু জুনায়েদ এর নাম, যাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে জমি দখল, জাল দলিল তৈরি এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নতুন মাত্রা পাচ্ছে বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে তিনি বিতর্কিত জমি লেনদেন ও দলিল জালিয়াতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য অনুযায়ী একাধিক মামলার নথিতেই জুনায়েদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠে এসেছে। বিশেষ করে রাজধানী মহানগরীর ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের বিবিধ মোকদ্দমা নং-১০৯/২০২৪, ১১০/২০২৪, ২২৬/২০২৪, ৩১৪/২০২৫, ৩১৫/২০২৫ এবং ৩৪৯/২০২৫ এই মিসকেস মামলাগুলোতে বিবাদীদের বিরুদ্ধে জাল দলিল সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে যেখানে জুনায়েদের নাম বারবার উচ্চারিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি এসব মামলার ঘটনায় জুনায়েদ জাল কাগজপত্র তৈরি করে দিয়ে জমির মালিকানা পরিবর্তনের চেষ্টা করেছে এবং এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য জুনায়েদ একটি সুপরিকল্পিত কৌশলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় জড়িয়ে ফেলতেন। অনেক ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বা বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ আছে বলে দাবি করে ভুক্তভোগীদের আস্থা অর্জন করতেন। এরপর জাল কাগজপত্র প্রস্তুত করে জমির মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। একাধিক ভুক্তভোগী জানান তারা জমি ক্রয় বা বিক্রয় সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান পেতে জুনায়েদের কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তারা বুঝতে পারেন যে দলিল তাদের হাতে দেওয়া হয়েছে তা প্রশ্নবিদ্ধ এবং আইনগতভাবে দুর্বল। এতে করে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ আইনি জটিলতায় পড়ে যান। তাদের দাবি একটি সংঘবদ্ধ চক্র ছাড়া এ ধরনের জালিয়াতি সম্ভব নয়। অনুসন্ধানে জানা যায় ভুমিদস্যু জুনায়েদের বেপরোয়া হয়ে ওঠার নেপথ্যের কারিগর হলেন ভুমি অফিসের কিছু প্রভাবশালী অসাধু কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, ভুমিদস্যু জুনায়েদ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে একই কৌশল অনুসরণ করে আসছে প্রথমে জমির প্রকৃত মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি, এরপর ভুয়া দলিল তৈরি করে একাধিক ব্যক্তির কাছে একই জমি বিক্রির চেষ্টা এবং শেষপর্যন্ত অর্থ আত্মসাৎ। ফলে একই জমি নিয়ে একাধিক পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এতগুলো মামলায় একই ধরনের অভিযোগ উঠে আসা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা মনে করছেন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত না করা হলে ভবিষ্যতে আরও মানুষ প্রতারণার শিকার হতে পারেন। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কীভাবে বারবার জাল দলিল তৈরি হচ্ছে এবং তা যাচাই ছাড়াই ব্যবহৃত হচ্ছে তা নিয়েও জবাবদিহি প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও জালিয়াতির মামলাগুলো দ্রুত তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করা জরুরি। কারণ এ ধরনের অপরাধ শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, সামগ্রিকভাবে ভূমি ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তারা মনে করছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা কমে আসে। তবে অভিযুক্ত জুনায়েদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার অবস্থান জানা গেলে তা যুক্ত করে বিষয়টি আরও পরিষ্কার করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের একটাই দাবি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। একই সঙ্গে যারা এই ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।