নেপাল জিএসএ নিয়োগে বিতর্কে বিমান: আশরাফুলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ, উঠছে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
- আপডেট: ১২:৩৮:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৮০১৪
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নেপাল রুটে জেনারেল সেলস এজেন্ট (জিএসএ) নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক দানা বেঁধেছে। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একাধিক প্রতিষ্ঠানের আবেদন উপেক্ষা করে তুলনামূলক কম অভিজ্ঞ দুটি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক রুটে জিএসএ নিয়োগের ক্ষেত্রে যেখানে অভিজ্ঞতা, বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক এবং পূর্ববর্তী পারফরম্যান্সকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা, সেখানে সেই মানদণ্ড উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। এতে বিমান বাংলাদেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে, ‘ট্রান্সপোর্ট সল্যুশন’ ও ‘সোসাইটি ট্রাভেলস’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম আলোচনায় উঠে এসেছে, যাদের আন্তর্জাতিক বাজারে উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে সীমিত বলে দাবি করা হচ্ছে। এমনকি তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশের সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের সঙ্গে কাজ করা অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানগুলো দাবি করেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র জমা দেওয়ার পরও রহস্যজনকভাবে তাদের প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অসন্তোষ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিমান বাংলাদেশের বিপণন ও বিক্রয় বিভাগের প্রধান আশরাফুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলেও তিনি তা সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।
খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের এমন গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে তা শুধু প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে না, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায়ও পিছিয়ে পড়তে হবে।
এদিকে, পুরো জিএসএ নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়নের দাবি জোরালো হচ্ছে।
অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নেপাল রুটে বিমান বাংলাদেশের কার্যক্রম ও যাত্রীসেবার ভবিষ্যৎ মান অনেকটাই নির্ভর করছে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতার ওপর—এখন সেদিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল।




















