১২:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

বিমানের এইচএমভি চেকে অনিয়মের অভিযোগ: প্রতিদিন গুনতে হচ্ছে কোটি টাকা ক্ষতি!

  • আপডেট: ০৯:৪২:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৮০০৭

মো.দীন ইসলাম, সোনালী খবর

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস-এর একটি Boeing 777-300ER উড়োজাহাজের এইচএমভি (Heavy Maintenance Visit) চেককে ঘিরে আবারও অনিয়ম, গাফিলতি ও পরিকল্পিত বিলম্বের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নির্ধারিত সময়সীমা অমান্য করে দীর্ঘায়িত এই প্রক্রিয়ায় প্রতিদিন কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়ছে সংস্থাটি।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর ‘এএইচএম’ নিবন্ধনের উড়োজাহাজটি এইচএমভি চেকের জন্য ইতালির রোম ফিউমিচিনো বিমানবন্দর-এ পাঠানো হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ইতালিভিত্তিক Atitech কোম্পানির সঙ্গে এই চেক ৪৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় এবারও সেই সময়সীমা মানা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে কাজ বিলম্বিত করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট একটি প্রভাবশালী চক্রের স্বার্থ রক্ষার অংশ।
সূত্র জানায়, উড়োজাহাজটি দীর্ঘদিন গ্রাউন্ডেড থাকায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি টাকার সম্ভাব্য টিকিট বিক্রয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বিমান। ফলে কয়েক মাসে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে শত কোটি টাকার বেশি।

অভিযোগ রয়েছে, এইচএমভি চেক তদারকির দায়িত্বে থাকা পরিকল্পনাকারী ও চুক্তি কমিটির সদস্যরা ইতালিতে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে মোটা অঙ্কের বৈদেশিক ভাতা নিয়েছেন। অথচ তাদের কার্যকর তদারকির দৃশ্যমান কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, তদারকির জন্য পাঠানো অনেকেই নিরাপত্তা অনুমতি (সিকিউরিটি পাস) না পাওয়ায় সরাসরি কাজের স্থানে প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে তারা দূরবর্তী অবস্থান থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কাজ তদারকির দাবি করেছেন, যা প্রকৃতপক্ষে কার্যকর তদারকি হিসেবে প্রশ্নবিদ্ধ।

অভিযোগের তীর উঠেছে বিমানের শীর্ষ প্রকৌশল কর্মকর্তাদের দিকেও। প্রধান প্রকৌশলী কায়সার জামান, উপ-প্রধান প্রকৌশলী সামসুল আলম এবং মুখ্য প্রকৌশলী রুহুল কুদ্দুস বিভিন্ন সময়ে ইতালিতে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলেও তাদের উপস্থিতি বিমানের স্বার্থে কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে, হিসাব শাখা বৈদেশিক ভাতা প্রদানে আপত্তি জানালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চাপের মুখে পড়তে হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পুনরাবৃত্ত ঘটনা শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ও সুশাসনের ঘাটতির স্পষ্ট উদাহরণ। অতীতে একই ধরনের চেক ৪৫ দিনের পরিবর্তে প্রায় ৬ মাস পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হওয়ার নজির রয়েছে, যা উচ্চপর্যায়ের প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত এড়ানোর অভিযোগও রয়েছে।

বিমান সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে আরও অন্তত ৭টি উড়োজাহাজের একই ধরনের এইচএমভি চেক নির্ধারিত রয়েছে। তাই এখনই নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক তদন্ত নিশ্চিত না হলে একই অনিয়ম পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন, দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং এইচএমভি চেক প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

বিমানের এইচএমভি চেকে অনিয়মের অভিযোগ: প্রতিদিন গুনতে হচ্ছে কোটি টাকা ক্ষতি!

আপডেট: ০৯:৪২:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

মো.দীন ইসলাম, সোনালী খবর

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস-এর একটি Boeing 777-300ER উড়োজাহাজের এইচএমভি (Heavy Maintenance Visit) চেককে ঘিরে আবারও অনিয়ম, গাফিলতি ও পরিকল্পিত বিলম্বের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নির্ধারিত সময়সীমা অমান্য করে দীর্ঘায়িত এই প্রক্রিয়ায় প্রতিদিন কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়ছে সংস্থাটি।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর ‘এএইচএম’ নিবন্ধনের উড়োজাহাজটি এইচএমভি চেকের জন্য ইতালির রোম ফিউমিচিনো বিমানবন্দর-এ পাঠানো হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ইতালিভিত্তিক Atitech কোম্পানির সঙ্গে এই চেক ৪৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় এবারও সেই সময়সীমা মানা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে কাজ বিলম্বিত করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট একটি প্রভাবশালী চক্রের স্বার্থ রক্ষার অংশ।
সূত্র জানায়, উড়োজাহাজটি দীর্ঘদিন গ্রাউন্ডেড থাকায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি টাকার সম্ভাব্য টিকিট বিক্রয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বিমান। ফলে কয়েক মাসে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে শত কোটি টাকার বেশি।

অভিযোগ রয়েছে, এইচএমভি চেক তদারকির দায়িত্বে থাকা পরিকল্পনাকারী ও চুক্তি কমিটির সদস্যরা ইতালিতে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে মোটা অঙ্কের বৈদেশিক ভাতা নিয়েছেন। অথচ তাদের কার্যকর তদারকির দৃশ্যমান কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, তদারকির জন্য পাঠানো অনেকেই নিরাপত্তা অনুমতি (সিকিউরিটি পাস) না পাওয়ায় সরাসরি কাজের স্থানে প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে তারা দূরবর্তী অবস্থান থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কাজ তদারকির দাবি করেছেন, যা প্রকৃতপক্ষে কার্যকর তদারকি হিসেবে প্রশ্নবিদ্ধ।

অভিযোগের তীর উঠেছে বিমানের শীর্ষ প্রকৌশল কর্মকর্তাদের দিকেও। প্রধান প্রকৌশলী কায়সার জামান, উপ-প্রধান প্রকৌশলী সামসুল আলম এবং মুখ্য প্রকৌশলী রুহুল কুদ্দুস বিভিন্ন সময়ে ইতালিতে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলেও তাদের উপস্থিতি বিমানের স্বার্থে কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে, হিসাব শাখা বৈদেশিক ভাতা প্রদানে আপত্তি জানালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চাপের মুখে পড়তে হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পুনরাবৃত্ত ঘটনা শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ও সুশাসনের ঘাটতির স্পষ্ট উদাহরণ। অতীতে একই ধরনের চেক ৪৫ দিনের পরিবর্তে প্রায় ৬ মাস পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হওয়ার নজির রয়েছে, যা উচ্চপর্যায়ের প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত এড়ানোর অভিযোগও রয়েছে।

বিমান সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে আরও অন্তত ৭টি উড়োজাহাজের একই ধরনের এইচএমভি চেক নির্ধারিত রয়েছে। তাই এখনই নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক তদন্ত নিশ্চিত না হলে একই অনিয়ম পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন, দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং এইচএমভি চেক প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।