০৪:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

পুলিশ সপ্তাহে পৃথক ‘সাইবার ইউনিট’ গঠনের প্রস্তাব যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে

  • আপডেট: ০১:০১:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৮০০৭

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

অনলাইন প্রতারণা,সাইবার বুলিং, হ্যাকিং ও গুজব ছড়ানোসহ নানা ধরনের ডিজিটাল অপরাধ দেশে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েই চলেছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষায়িত সাইবার ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। আসছে পুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে সাইবার অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, বিশেষ করে নারী ও তরুণীরা এর বড় শিকার হচ্ছেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন কিশোরী ও তরুণীর মধ্যে তিনজন সাইবার বুলিংয়ের শিকার হন। তবে সামাজিক মান-সম্মানের ভয়ে প্রায় ৮৯ শতাংশ ভুক্তভোগী অভিযোগ করতে চান না। আর যারা অভিযোগ করেন, তাদের মধ্যে প্রায় ৭২ শতাংশ মামলাই অপর্যাপ্ত প্রমাণের কারণে অমীমাংসিত থেকে যায় বা খারিজ হয়ে যায়।

পুলিশের তথ্যমতে, গত পাঁচ বছরে তথ্য ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন-২০০৬ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮-এর অধীনে মোট ৪ হাজার ৭৯৪টি মামলা হয়েছে। কিন্তু পৃথক সাইবার ইউনিট না থাকায় এসব মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত নিষ্পত্তি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবার বিস্তার অপরাধীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। আইসিটি ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ, অনলাইন বুলিং, নাবালিকাদের ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফি ছড়ানো, ওয়েবসাইট হ্যাকিং, তথ্য চুরি, হুমকি প্রদান এবং গুজব ছড়ানো এখন বড় ধরনের সাইবার অপরাধ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

এছাড়া ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী প্রচারণাও সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এসব অপরাধের সঙ্গে চরিত্রহনন, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল প্রতারণার যোগসূত্রও পাওয়া যাচ্ছে।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, এসব বহুমাত্রিক সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় দক্ষ জনবল ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর একটি বিশেষায়িত সাইবার ইউনিট গঠন এখন সময়ের দাবি। তাই সরকারকে এ বিষয়ে একটি আধুনিক ও দক্ষ ইউনিট গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হবে আসন্ন পুলিশ সপ্তাহে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

পুলিশ সপ্তাহে পৃথক ‘সাইবার ইউনিট’ গঠনের প্রস্তাব যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে

আপডেট: ০১:০১:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

অনলাইন প্রতারণা,সাইবার বুলিং, হ্যাকিং ও গুজব ছড়ানোসহ নানা ধরনের ডিজিটাল অপরাধ দেশে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েই চলেছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষায়িত সাইবার ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। আসছে পুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে সাইবার অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, বিশেষ করে নারী ও তরুণীরা এর বড় শিকার হচ্ছেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন কিশোরী ও তরুণীর মধ্যে তিনজন সাইবার বুলিংয়ের শিকার হন। তবে সামাজিক মান-সম্মানের ভয়ে প্রায় ৮৯ শতাংশ ভুক্তভোগী অভিযোগ করতে চান না। আর যারা অভিযোগ করেন, তাদের মধ্যে প্রায় ৭২ শতাংশ মামলাই অপর্যাপ্ত প্রমাণের কারণে অমীমাংসিত থেকে যায় বা খারিজ হয়ে যায়।

পুলিশের তথ্যমতে, গত পাঁচ বছরে তথ্য ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন-২০০৬ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮-এর অধীনে মোট ৪ হাজার ৭৯৪টি মামলা হয়েছে। কিন্তু পৃথক সাইবার ইউনিট না থাকায় এসব মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত নিষ্পত্তি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবার বিস্তার অপরাধীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। আইসিটি ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ, অনলাইন বুলিং, নাবালিকাদের ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফি ছড়ানো, ওয়েবসাইট হ্যাকিং, তথ্য চুরি, হুমকি প্রদান এবং গুজব ছড়ানো এখন বড় ধরনের সাইবার অপরাধ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

এছাড়া ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী প্রচারণাও সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এসব অপরাধের সঙ্গে চরিত্রহনন, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল প্রতারণার যোগসূত্রও পাওয়া যাচ্ছে।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, এসব বহুমাত্রিক সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় দক্ষ জনবল ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর একটি বিশেষায়িত সাইবার ইউনিট গঠন এখন সময়ের দাবি। তাই সরকারকে এ বিষয়ে একটি আধুনিক ও দক্ষ ইউনিট গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হবে আসন্ন পুলিশ সপ্তাহে।