শাহজালালে আধুনিক এয়ার ট্রাফিক সেন্টার চালু: আকাশপথে বাড়বে নিরাপত্তা ও দক্ষতা
- আপডেট: ০৫:০৯:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৮০০৫
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে “একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক” অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মিজু আফরোজা খানম। তিনি বলেন, আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশের আকাশসীমা আরও নিরাপদ, দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নবনির্মিত এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার (এটিএমসি) উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার চালুর ফলে দেশের আকাশপথ ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এর মাধ্যমে ফ্লাইট পরিচালনায় নির্ভুলতা ও সময়ানুবর্তিতা বাড়বে, আকাশসীমার ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি কমবে। উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় ট্রাফিক মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের আকাশসীমার কৌশলগত গুরুত্বও বাড়বে।
ভবিষ্যতে এফআইআর (ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিওন) অর্থাৎ উড্ডয়ন তথ্য অঞ্চল সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নেও এই কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী মিজু আফরোজা খানম বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে ফ্রান্স সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকলের অবদানের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। থ্যালেসের সরবরাহকৃত প্রযুক্তি আমাদের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি করবে।
তিনি আরো বলেন, সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগের ফলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে একটি বৈশ্বিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের কাজ এগিয়ে চলছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ বিমান চলাচল খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করবে বলে আমি আশাবাদী।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, দেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। এই আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা বিমান চলাচলকে আরও নিরাপদ, দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে তুলবে।
তিনি আরো বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে সমন্বিত আকাশসীমা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিষ্ঠিত এই আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার দেশের আকাশপথ ব্যবস্থাপনায় এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এটিএম-সিএনএস সিস্টেম চালুর মাধ্যমে নিরাপত্তা, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আমি আশা করি, এ উদ্যোগ বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জিন-মার্ক সেরে-শার্লে বলেন, “বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে এই সহযোগিতা দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্বের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট প্রযুক্তি বাংলাদেশের আকাশপথকে আরও নিরাপদ ও দক্ষ করে তুলবে এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের উন্নয়নে ফ্রান্স সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আমি আশাবাদী।”
স্বাগত বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর সদস্য (এটিএম) এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম। তিনি বলেন, চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন এটিএমসি থেকে আধুনিক এটিএম অটোমেশন সিস্টেম সফলভাবে অপারেশন শুরু হয়েছে এবং আজ তার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলো। এই সিস্টেমের মাধ্যমে সমন্বিত ফ্লাইট ডাটা প্রসেসিং, রাডার ও এডিএস-বি ইন্টিগ্রেশন এবং উন্নত সেফটি নেট ব্যবহার করে রিয়েল-টাইম, ডেটা-নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে ওভারফ্লাইট রাজস্ব বৃদ্ধি, বিলম্ব হ্রাস, জ্বালানি সাশ্রয় এবং আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনগুলোর কাছে বাংলাদেশের আকাশসীমার আকর্ষণ বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা।



















