চাকরির প্রলোভনে ঢাকায় এনে অসামাজিক কাজে বাধ্য করতেন তারা
- আপডেট: ০৪:১৬:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৮০০৭
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
রাজধানীর শাহ আলী থানার মানবপাচার মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৪। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব বলছে, ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগী দুজনকে ঢাকায় এনে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কাজ করতে বাধ্য করতেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। অসামাজিক কাজে অস্বীকৃতি জানালে ভুক্তভোগীদের শারীরিক নির্যাতনসহ মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হতো। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) র্যাব-৪ এর মিডিয়া অফিসার কে এন রায় নিয়তি এ তথ্য জানান।
এর আগে, গতকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে গাজীপুর ও ঢাকা মহানগরীর গুলশান এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন পাভেল মিয়া (২৬) ও মো. আসাদুজ্জামান (৪৯)।
র্যাব কর্মকর্তা কে এন রায় নিয়তি বলেন, ভুক্তভোগী নারী আসামি পাভেলের পূর্ব পরিচিত। এই সূত্রে তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে ভুক্তভোগীর মাঝমধ্যে কথা হতো। পাভেল ঢাকার একটি হোটেলে চাকরি করেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নারীকে ঢাকায় এনে ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখান তিনি। ভুক্তভোগী সরল বিশ্বাসে চাকরির প্রস্তাবে রাজি হয়ে গত ১০ এপ্রিল ঢাকায় আসেন। কিন্তু তাকে কোনো চাকরি না দিয়ে মিরপুরের একটি বাসায় আটকে রেখে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করতেন পাভেল। কিছুদিন পর ভুক্তভোগী নারীর পরিচিত আরেক নারীকে ঢাকায় নিয়ে আসেন পাভেল। অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় ভুক্তভোগী দুই নারীকে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে নিয়ে অসামাজিক কাজ করতে বাধ্য করতেন তারা। ভুক্তভোগীরা প্রতিবাদ জানালে তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। এমনকি মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হতো। বাসার মধ্যে তাদের তালাবদ্ধ করে রাখা হতো। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ কল করলে তাদের উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে কে এন রায় নিয়তি বলেন, অভিযুক্ত পাভেল আগের স্ত্রীর কথা গোপন রেখে ভুয়া কাবিননামা করে একাধিক বিবাহ করে তাদেরও অসামাজিক কাজ করতে বাধ্য করেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার মাধ্যমে গ্রামের সহজ সরল মেয়েদের ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকায় এনে অসামাজিক কাজ করতে বাধ্য করতেন। গ্রেফতার দুজনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।



















