জেনেভায় উৎসবমুখর পরিবেশে বৈশাখ উদযাপন
- আপডেট: ০৩:১৪:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৮০০৬
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। বাংলাদেশ ক্লাব জেনেভার উদ্যোগে ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি অংশ নেন জেনেভা ওনেক্সের প্রশাসনিক কাউন্সিলর, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত ব্যক্তিরা।
এদিন দেশীয় পোশাকে সজ্জিত অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিতে আল্পস পর্বতমালার পাদদেশে যেন নেমে আসে এক টুকরো বাংলাদেশ। ব্যস্ত প্রবাস জীবনের ক্লান্তি ভুলে জেনেভায় বসবাসরত বাঙালিরা মেতে ওঠেন প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পরিবেশিত হয় বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। এরপর ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের সমবেত পরিবেশনায় বরণ করে নেওয়া হয় নতুন বছরকে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মারিয়াম ইউনুস এবেনার, প্রেসিডেন্ট, গ্রিনস পার্টি, জেনেভা এবং প্রশাসনিক কাউন্সিলর, ওনেক্স। বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন বাংলাদেশের স্থানীয় মিশনের কাউন্সিলরসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও জেনেভা কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশ ক্লাব জেনেভার সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, “প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরাই আমাদের এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।”
সাধারণ সম্পাদক মারুফ আনোয়ার উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতের কার্যক্রমে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় সাবেক সভাপতি হারুন রশিদকে বিদায়ী সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইতি ইসলাম ও খাদিজা বিনতে নুরুল। শিশু-কিশোরদের বর্ণাঢ্য নৃত্য পরিবেশনা ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ। ওয়ানিয়া, আসবা, আহিয়া, ওয়াসিমা, দিলারা ও আফসারার নাচে মুগ্ধ হন দর্শকরা। এছাড়া কুদরত এলাহির কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠানে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা।
সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন রবিন বড়ুয়া, অবন্তী বড়ুয়া, উৎসরি দাস ও রিয়াজুল হক ফরহাদ। সাংস্কৃতিক সম্পাদক শহীদুল আলম স্বপনের নেতৃত্বে আয়োজিত এই পর্বে লন্ডন থেকে আগত শিল্পী রওশনারা মনি, অমিত দে ও স্যান্ডিম্যানের পরিবেশনায় দর্শকরা নাচে-গানে মেতে ওঠেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বাংলাদেশ ক্লাবের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির পরিচিতি তুলে ধরা হয় এবং ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে দিনব্যাপী এ উৎসবের।



















