৩১ বছরে কোস্ট গার্ডের পথচলা, মঙ্গলবার পালিত হবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
- আপডেট: ০৫:০০:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৮০০৫
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিকতায় এ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। এ ছাড়া বিশেষ অতিথিসহ উচ্চপদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
এদিন কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা, নাবিক ও অসামরিক সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ মোট ১৪ জনকে বিভিন্ন পদক প্রদান করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক, কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক, প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড পদক এবং প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ পরিকল্পনা ও দূরদর্শী উদ্যোগ। ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ বাহিনী গঠনের আইনি ভিত্তি প্রণয়ন করেন।
পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বাহিনীর গোড়াপত্তন হয় এবং একই বছরের ১৯ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে কোস্ট গার্ড। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রায় তিন দশক ধরে উপকূল ও নদীতীরবর্তী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাহিনীটি।
বর্তমানে ৪টি জোনে বিভক্ত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ৬৩টি স্টেশন ও আউটপোস্ট, ২৮টি জাহাজ এবং ১৩৮টি দ্রুতগামী বোটের মাধ্যমে দেশের বিস্তীর্ণ সমুদ্রসীমা ও ২১টি জেলার উপকূলীয় অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সংরক্ষণ, বন্দর নিরাপত্তা, ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল রক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, মানবপাচার রোধ, দুর্যোগে উদ্ধার কার্যক্রম এবং দস্যুতা দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে বাহিনীটি।
মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে কোস্ট গার্ডের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। গত বছরে পরিচালিত অভিযানে প্রায় ২০ হাজার ১৫২ কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ জাল ও জাটকা জব্দ করা হয়েছে। এর ফলে প্রায় ১২০ কোটি ৯১ লাখ কেজি মাছ রক্ষা পেয়েছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৬০ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা। এ সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বাহিনীটি দ্বিতীয়বারের মতো ‘মৎস্য পদক (রৌপ্য)’ অর্জন করেছে।
দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ চট্টগ্রাম বন্দরসহ অন্যান্য বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও কোস্ট গার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তাদের সাফল্য স্বীকৃত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (IMO) থেকে ‘Letter of Commendation’ অর্জন দেশের জন্য একটি গর্বজনক অর্জন। এছাড়া কোস্ট গার্ড প্রশিক্ষণ ঘাঁটি ‘অগ্রযাত্রা’ আন্তর্জাতিক মানের ISO সনদ লাভ করেছে।
বিগত বছরে কোস্ট গার্ড ৫৫ হাজার ৮৪১টি অভিযান পরিচালনা করে ২৪৯টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬ হাজার ৮০২ রাউন্ড গোলাবারুদ জব্দ এবং ৫৯০ জন দুষ্কৃতিকারীকে আটক করেছে। একই সঙ্গে ২৯৫ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য জব্দ ও ৬৭০ জন মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া ২১৫ কোটি টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ, ২৭৬টি ড্রেজার ও বাল্কহেড আটক এবং জরিমানা হিসেবে ৪ কোটি টাকার বেশি অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
উদ্ধার কার্যক্রমেও কোস্ট গার্ডের সাফল্য উল্লেখযোগ্য। গত বছরে ১ হাজার ৬২২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধার ও পাচারকারীদের আটক করা হয়েছে।
পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বাংলাদেশি জেলেদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
সুন্দরবনে দস্যুতা দমনে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি চোরাচালান ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এর মাধ্যমে উপকূলীয় জনগণ ও বিপদগ্রস্ত নৌযান দ্রুত সহায়তা পাচ্ছে।



















