১০:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

বৈধ বারে অভিযান ‘অবৈধ’ নয়, গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপনী প্রতিবেদনের তথ্য ভুল: ডিএমপি

  • আপডেট: ০৯:৫৮:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৮০০৩

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত বার ও রেস্তোরাঁয় পুলিশ বা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ‘অবৈধ’—এমন দাবি সঠিক নয় বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

সম্প্রতি একটি দৈনিকে বিজ্ঞাপন আকারে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ ধরনের অভিযোগকে একপাক্ষিক, বাস্তবতাবিবর্জিত ও আইনবিরোধী হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।

গত ২৬ এপ্রিল প্রকাশিত ওই বিজ্ঞাপনী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া লাইসেন্সপ্রাপ্ত বারে র‍্যাব বা পুলিশের অভিযান অবৈধ। এ বিষয়ে ডিএমপি বলছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী অধিদপ্তর মূলত লাইসেন্স ও নিয়ন্ত্রণমূলক বিষয় তদারকি করে। তবে আইনে কোথাও উল্লেখ নেই যে, অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের অনুমতি ছাড়া অভিযান চালাতে পারবে না।

ডিএমপি জানায়, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮; পুলিশ রেগুলেশনস বেঙ্গল, ১৯৪৩ এবং ডিএমপি অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ অনুযায়ী কোনো স্থানে আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা থাকলে পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই তল্লাশি ও অভিযান পরিচালনা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে পুলিশের স্বাধীন ক্ষমতা রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮–এর ২২ ধারায় পরোয়ানা, তল্লাশি, গ্রেফতার ও জব্দের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। একই আইনের ২৩ ধারায় ‘লাইসেন্স প্রিমিজেস’ ছাড়া অন্য যেকোনো স্থানে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রবেশ ও তল্লাশিতে কোনো বাধা নেই। প্রয়োজনে বাধা অপসারণে দরজা-জানালা ভাঙাসহ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

ডিএমপি আরও জানায়, চলতি বছর ১৪ মার্চ মিরপুরের ‘পার্ক ভিউ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’ এবং ২৪ এপ্রিল উত্তরার ‘কম্বি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’-এ অভিযান চালিয়ে যথাক্রমে ৩৫ জন এবং ১২৮ জনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে পারমিট ছাড়া মাদক গ্রহণ ও অসামাজিক কার্যকলাপসহ বিভিন্ন অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন।

এ ছাড়া গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর গুলশানের আরএম সেন্টারের ‘র ক্যানভাস’-এ অভিযানের পর জব্দ আলামতসহ গুলশান থানায় মামলা হয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘অবৈধ অভিযান’, ‘চাঁদাবাজি’ ও ‘হয়রানি’ সংক্রান্ত অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখে পুলিশ। এ ধরনের অভিযোগে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ডিএমপি বলছে, অনেক ক্ষেত্রে বার বা রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ, অনুমোদনহীন মদ বিক্রি, অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে মদ সরবরাহ, নির্ধারিত সময়ের বাইরে কার্যক্রম পরিচালনা এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একপাক্ষিকভাবে তথ্য উপস্থাপন করলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।

আইনের শাসন, জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপি বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে সংস্থাটি আশা প্রকাশ করেছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে সংশ্লিষ্টরা বিরত থাকবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

বৈধ বারে অভিযান ‘অবৈধ’ নয়, গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপনী প্রতিবেদনের তথ্য ভুল: ডিএমপি

আপডেট: ০৯:৫৮:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত বার ও রেস্তোরাঁয় পুলিশ বা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ‘অবৈধ’—এমন দাবি সঠিক নয় বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

সম্প্রতি একটি দৈনিকে বিজ্ঞাপন আকারে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ ধরনের অভিযোগকে একপাক্ষিক, বাস্তবতাবিবর্জিত ও আইনবিরোধী হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।

গত ২৬ এপ্রিল প্রকাশিত ওই বিজ্ঞাপনী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া লাইসেন্সপ্রাপ্ত বারে র‍্যাব বা পুলিশের অভিযান অবৈধ। এ বিষয়ে ডিএমপি বলছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী অধিদপ্তর মূলত লাইসেন্স ও নিয়ন্ত্রণমূলক বিষয় তদারকি করে। তবে আইনে কোথাও উল্লেখ নেই যে, অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের অনুমতি ছাড়া অভিযান চালাতে পারবে না।

ডিএমপি জানায়, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮; পুলিশ রেগুলেশনস বেঙ্গল, ১৯৪৩ এবং ডিএমপি অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ অনুযায়ী কোনো স্থানে আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা থাকলে পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই তল্লাশি ও অভিযান পরিচালনা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে পুলিশের স্বাধীন ক্ষমতা রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮–এর ২২ ধারায় পরোয়ানা, তল্লাশি, গ্রেফতার ও জব্দের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। একই আইনের ২৩ ধারায় ‘লাইসেন্স প্রিমিজেস’ ছাড়া অন্য যেকোনো স্থানে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রবেশ ও তল্লাশিতে কোনো বাধা নেই। প্রয়োজনে বাধা অপসারণে দরজা-জানালা ভাঙাসহ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

ডিএমপি আরও জানায়, চলতি বছর ১৪ মার্চ মিরপুরের ‘পার্ক ভিউ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’ এবং ২৪ এপ্রিল উত্তরার ‘কম্বি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’-এ অভিযান চালিয়ে যথাক্রমে ৩৫ জন এবং ১২৮ জনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে পারমিট ছাড়া মাদক গ্রহণ ও অসামাজিক কার্যকলাপসহ বিভিন্ন অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন।

এ ছাড়া গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর গুলশানের আরএম সেন্টারের ‘র ক্যানভাস’-এ অভিযানের পর জব্দ আলামতসহ গুলশান থানায় মামলা হয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘অবৈধ অভিযান’, ‘চাঁদাবাজি’ ও ‘হয়রানি’ সংক্রান্ত অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখে পুলিশ। এ ধরনের অভিযোগে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ডিএমপি বলছে, অনেক ক্ষেত্রে বার বা রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ, অনুমোদনহীন মদ বিক্রি, অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে মদ সরবরাহ, নির্ধারিত সময়ের বাইরে কার্যক্রম পরিচালনা এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একপাক্ষিকভাবে তথ্য উপস্থাপন করলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।

আইনের শাসন, জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপি বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে সংস্থাটি আশা প্রকাশ করেছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে সংশ্লিষ্টরা বিরত থাকবে।