১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

নিউমার্কেট এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটনকে গুলি করে হত্যা

  • আপডেট: ১০:০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৮০০৯

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায়‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ২০০১ সালে সরকারঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকার ২ নম্বরে তার নাম ছিল।

মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে নিউমার্কেটের পশ্চিম পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় গুলির ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ৮টা ২৭ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, নিহত ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী নাঈম আহমেদ টিটন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা পাওয়া যায়নি।

আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর বাইরে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গেও কথা বলে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা শিক্ষার্থী মো. মেজবাহ রহমান জানান, রাত ৮টার দিকে নিউ মার্কেট বটতলা শাহনেওয়াজ হলের সামনের রাস্তায় দু’জন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেল করে এসে ওই ব্যক্তিকে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। তখন গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে যান ওই ব্যক্তি। একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন তাদেরকে ধাওয়া দিলে তারা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। যাওয়ার পথে লোকজনদেরও ভয় দেখানোর জন্য গুলি ছোড়ে। তাদের দু’জনেরই ক্যাপ ও মাস্ক পরিহিত ছিল।

তিনি আরও জানান, তখন রাস্তায় পড়ে থাকা ওই ব্যক্তিকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসা হয়। তবে চিকিৎসক পরিক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওই ব্যক্তির মাথাসহ শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে। লাশ মর্গে রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, টিটন আরেক তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের শ্যালক। ইমন টিটনের ছোট বোনকে বিয়ে করেছেন। মূলত ইমনের দাপটেই তিনি অপরাধ জগতে প্রভাব বিস্তার করেন বলে আলোচনা আছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ জানায়, টিটন ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে অপরাধজগতে প্রবেশ করেন। তিনি প্রথমে স্থানীয় অপরাধী চক্রের সদস্য ছিলেন এবং ধীরে ধীরে অপরাধজগতে নিজের পরিচিতি বাড়াতে থাকেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টিটন তার অপরাধ কার্যক্রম বিস্তৃত করেন। তিনি একাধিক হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেন। টিটন অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন এবং তার নেতৃত্বে অস্ত্রের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা ছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্যবসায়ী বাবর এলাহী হত্যা।

২০০৪ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। তিনি ২০১৪ সালে বাবর এলাহী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান। ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

নিউমার্কেট এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটনকে গুলি করে হত্যা

আপডেট: ১০:০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায়‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ২০০১ সালে সরকারঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকার ২ নম্বরে তার নাম ছিল।

মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে নিউমার্কেটের পশ্চিম পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় গুলির ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ৮টা ২৭ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, নিহত ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী নাঈম আহমেদ টিটন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা পাওয়া যায়নি।

আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর বাইরে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গেও কথা বলে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা শিক্ষার্থী মো. মেজবাহ রহমান জানান, রাত ৮টার দিকে নিউ মার্কেট বটতলা শাহনেওয়াজ হলের সামনের রাস্তায় দু’জন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেল করে এসে ওই ব্যক্তিকে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। তখন গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে যান ওই ব্যক্তি। একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন তাদেরকে ধাওয়া দিলে তারা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। যাওয়ার পথে লোকজনদেরও ভয় দেখানোর জন্য গুলি ছোড়ে। তাদের দু’জনেরই ক্যাপ ও মাস্ক পরিহিত ছিল।

তিনি আরও জানান, তখন রাস্তায় পড়ে থাকা ওই ব্যক্তিকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসা হয়। তবে চিকিৎসক পরিক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওই ব্যক্তির মাথাসহ শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে। লাশ মর্গে রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, টিটন আরেক তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের শ্যালক। ইমন টিটনের ছোট বোনকে বিয়ে করেছেন। মূলত ইমনের দাপটেই তিনি অপরাধ জগতে প্রভাব বিস্তার করেন বলে আলোচনা আছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ জানায়, টিটন ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে অপরাধজগতে প্রবেশ করেন। তিনি প্রথমে স্থানীয় অপরাধী চক্রের সদস্য ছিলেন এবং ধীরে ধীরে অপরাধজগতে নিজের পরিচিতি বাড়াতে থাকেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টিটন তার অপরাধ কার্যক্রম বিস্তৃত করেন। তিনি একাধিক হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেন। টিটন অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন এবং তার নেতৃত্বে অস্ত্রের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা ছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্যবসায়ী বাবর এলাহী হত্যা।

২০০৪ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। তিনি ২০১৪ সালে বাবর এলাহী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান। ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।